৬২ তম জন্মদিনে কবিতা লিখলেন রফিউর রাব্বি

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:১৩ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০২০ বুধবার

৬২ তম জন্মদিনে কবিতা লিখলেন রফিউর রাব্বি

নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বির জন্মদিন ১৪ অক্টোবর। তাঁর ৬২তম জন্মদিন এদিন। জন্মদিনে ‘বাষট্টি লাইনের জংশন’ শিরোনামে একটি কবিতা পোস্ট করেছেন রাব্বি।

১৯৫৮ সালের ১৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ডা.শাহাদাত হোসেন আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। রফিউর রাব্বি নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল, তোলারাম কলেজ, চারুকলা ইনন্সিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কিউবার ইস্কুয়োল সুপিরিয়র নিকোয়োলাপেজ হাভানাতে পড়াশোনা করেছেন। কৈশোর থেকেই শিল্প-সাহিত্য-লেখালেখির সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। ৭০ দশকে প্রথমে ছাত্র রাজনীতির সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত হন রফিউর রাব্বি।

রাব্বির বড় ছেলে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে ২০১৩ সালের ৬ মার্চ অপহরণ করা হয়। ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় গঠিত সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক হন রাব্বি।

এছাড়া তিনি তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট সহ অসংখ্য সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত।

জন্মদিনে তিনি লিখেন

বাষট্টি লাইনের জংশন
-রফিউর রাব্বি

হাঁটতে হাঁটতে এক ইষ্টিশনের সাথে দেখা,
আমার সাথে সেও হাঁটছে এবং হাঁটছে;

যান ও জনশূন্য প্ল্যাটফর্মে কয়েকটি কুকুর
আর কাকদের ইতস্তত জীবন যাপন;

তারপর জানতে চাইল আমার নাম,
বললাম, হাঁ নাম তো থাকা উচিৎ, কিন্তু
কিছুতেই নামটি মনে করতে পারলাম না;

পরিচয়পত্র চিঠিপত্র পাসপোর্ট খুঁজতে থাকলাম
পকেট ব্যাগ হাতড়ে কিছুই পাওয়া গেল না,

টুকরো কাগজও জুটল না পরিচয়ের জন্য;
সনাতন এক মরচেমাখা প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়ালাম,
আদৌ কী কোন পরিচয়-নাম আছে আমার?

দিগন্তে চোখ ছুঁড়ে পা ফেলে ফেলে চললাম
পৃথিবীর সবচেয়ে নির্জন আর সার্বভৌম পথ ধরে
নামহীন পরিচয়হীন এক উদ্বাস্তু-নগর।

চলতে চলতে হলুদ এক স্কুলকে পেলাম,
সেও চলছে ঊর্ধ্বমুখে দৃঢ়পায়ে প্রগাঢ় নিস্তব্ধতায়;

শৈশব-কৈশোরের পরিচিত স্কুলটির মতো ঠিক,
পরিত্যাক্ত চাতালে অবহেলায় বেড়ে ওঠা বনস্পতি;

বলল, শোন, এইযে এগিয়ে যাওয়া
এটাই হচ্ছে জীবন; নদীর যেমনি স্রোত থাকে
এগিয়ে চলে, ঠিক তেমনি; আর পরিবর্তনটা
ভেতর থেকেই হয়, এটা অনিবার্য, সত্য এক।

তারপর ঝড়, প্রচন্ড ঝড়ে লণ্ডভণ্ড সব জামা প্যান্ট জ্যাকেট
বোতাম জিপার মোবাইল মানিব্যাগ আর বুকপকেটের ঘ্রাণ
হাত পা চুল হৃৎপিণ্ডের শব্দ অতিত-বর্তমান সব।

একে একে হারিয়ে যেতে থাকে আমার চোখ মুখ
সকাল বিকেল ল্যাপটপ-কিবোর্ড বই-খাতা-ডায়েরী
ক্যালকুলেটার আর ঘড়ির কাটার সাথে ছুটেতে থাকা বয়স।

আমি বদলে যেতে থাকলাম অবিরাম,
দীর্ঘ সিঁড়ি ভেঙ্গে ভেঙ্গে কখনো উপরে কখনো নীচে
আবার উপরে আবার নীচে আলো-ছায়ার শব্দে শব্দে
সাপ-লুডুর মতো মই-সাপ করতে করতে করতে
বাহিরকে ভেতর, ভেতরকে বাহির করে করে
নিজেকে ভাংতে ভাংতে ভাংতে কখন
যাবতিয় সীমানার শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়ালাম;

যেখানে হাজার বছরের বৃক্ষ সব অবিরাম হেঁটে যায়,
সময়ের দীর্ঘশ্বাস লেগে আছে ধূসর দেয়ালে,
বাতাস ছড়িয়ে যায় বাতাসের নিঃসঙ্গ বিলাপ-
অতপর খুলে যায় একে একে পৃথিবীর সমস্ত কপাট।

অকস্মাৎ তীব্র এক যন্ত্রণায় যক্ষের সিন্দুকের মতো
থর থর করে কাঁপতে থাকে আমার শরীর,
প্রশবযন্ত্রণায় কাতরায় জননী যেমন, নীল হয়,
গভীর গহন থেকে উৎসারিত ঢেউয়ে প্রকম্পিত হয় নদী,
ঘাসের মাথায় বসা কিশোরী-ফড়িং কেঁপে ওঠে, আর
বিপন্ন দু’চোখ কেবল হাতের তালুতে বসে কান্না পান করে-  
এমনি সময় ঠিক অন্তর্গত এক আয়না এসে দাঁড়ায়,

রোদ ঝলসানো ঝকঝকে আলোয় বিদ্যুতের মতো
তা ঝলসে ঝলসে ওঠে; প্রচণ্ড এক শিহরণ
আমার অস্তিত্বকে দুমড়ে মুচড়ে সামনে হাজির করে
সূর্যোদয়ের পাখনামেলা পূর্বদিগন্তের মতো।

অনতিক্রান্তবৃত্ত ভেঙ্গে পড়ে, আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে,
ঝরণার মতো জল গড়াতে থাকে অবিরাম,
চৈতন্যের নিস্তব্ধতা ছেয়ে যায় আদিগন্ত বিস্তৃত চারপাশ-
আয়নার ভেতর থেকে লোকটি বেরিয়ে আসেন অবশেষে;
বলেন, এভাবে হারাতে হারাতেই সব ফিরে পেতে হয়,

মনে রেখো, তোমার শেষ নেই, শুরুও নেই, অস্তিত্ব
ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ; মহাবিশ্বে কোন কিছুই
নিরর্থক নয়, নিঃশেষ নয়, বিনাশ- অস্তিত্বহীন শব্দ কেবল,
আর মৃত্যু রূপান্তরের চিহ্ন একটি;

জন্ম ও মৃত্যু মহাজগতে নিছক কয়েকটি সংখ্যা মাত্র,  
অবিরাম চলতে থাকাটাই সত্য, আর সবই মিথ্যে।


বিভাগ : আমার আমি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও