স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মন্ত্রী গাজী

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:২৩ পিএম, ২৯ অক্টোবর ২০২০ বৃহস্পতিবার

স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মন্ত্রী গাজী

২০২০ সালের স্বাধীনতা পদক গ্রহণ করেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী যিনি নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জ আসনের এমপি।

২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তাঁর হাতে পদক তুলে দেন। ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোলাম দস্তগীর গাজী বিএনপির প্রার্থী কাজী মনিরুজ্জামানকে ২ লাখের অধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে টানা তৃতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৪ জন এমপি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের মধ্যে রূপগঞ্জে গোলাম দস্তগীর গাজী ১ লাখের অধিক ভোটের ব্যবধানে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে পরাজিত করে দ্বিতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এর আগে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজী বিএনপির প্রার্থী কাজী মনিরুজ্জামানকে প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।

২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারী স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর নারায়ণগঞ্জে থেকে আওয়ামী লীগ সরকারে পূর্ণ মন্ত্রী হন তিনি। তিনি দায়িত্ব পান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের। তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

গাজী পড়াশোনা শুরু করেছেন পুরান ঢাকার বিদ্যাপিঠে। মাধ্যমিক পাস করার পর ভর্তি হন নটরডেম কলেজে। পরে ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে স্নাতক পাস করেন। ছাত্র থাকাকালীন সময়ে গোলাম দস্তগীর গাজী আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নিবার্চন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এর সব ঘটনায় জীবনবাজী রেখে লড়াই করেছেন তিনি।

ছাত্র অবস্থায় গোলাম দস্তগীর গাজী বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ২ নং সেক্টরের অধীনে রণাঙ্গণে যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে ক্র্যাক প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করেছে। তিনি ছিলেন গেরিলা যোদ্ধা।

রাজধানী ঢাকাকে শত্রুমুক্ত করতে কয়েকটি সফল অপারেশনে অংশ নেন তিনি। তার মধ্যে একটি অপারেশন ছিল ১৯৭১ এর ১৯ জুলাই। সেদিন গোলাম দস্তগীর গাজী ছিলেন এই অপারেশনের সম্মুখ ভাগে। তিনি সফল হয়েছিলেন। ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনারা ত্রিমোহনীত আক্রমন করলে গোলাম দস্তগীর গাজী গুলি চালাতে চালাতে সামনে এগিয়ে যান। পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটে। সেদিনের আক্রমনে ১২/১৩ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। ১৩ডিসেম্বর গোলাম দস্তগীর গাজীসহ মুক্তিযোদ্ধারা রূপগঞ্জকে শত্রুমুক্ত করে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য (২০২০) মনোনীত হয়েছেন।

গাজী ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি করর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে কাকরাইল, সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, মৌচাক, ইস্কাটন ও মগবাজার এলাকা থেকে কমিশনার নির্বাচিত হন।

গাজী ৯০ এর দশক থেকে রূপগঞ্জ এলাকাবাসীর জন্য কাজ করতে শুরু করেন। ওয়ান ইলেভেনের সময়ে খরুদ্দিন মঈনুদ্দিনের সরকার গোলাম দস্তগীর গাজী বলেছিলো শেখ হাসিনার নামে মিথ্যা দুর্নীতির মামলা দায়ের করতে। সেদিন গোলাম দস্তগীর গাজী উত্তরে বলেছিলো আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমি যুদ্ধ করেছি আমাকে মেরে ফেলুন তবু আমি শেখ হাসিনার নামে মামলা দিতে পারব না।


বিভাগ : আমার আমি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও