শুভ জন্মদিন কামাল মৃধা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫১ পিএম, ৭ জানুয়ারি ২০২১ বৃহস্পতিবার

শুভ জন্মদিন কামাল মৃধা

আওয়ামী লীগের এক সময়ে ডাকসাইটে নেতা ছিলেন কামাল মৃধা। ৭ জানুয়ারী ছিল তাঁর জন্মদিন। ১৯৬১ সালে জন্ম নেওয়া কামাল মৃধার উপর বয়ে গেছে নানা ঘাত প্রতিঘাত। বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইতি টানার সময়ে বলে ফেলেন ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’। বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে গেলেও সেই স্লোগান হৃদয়ের তিমির থেকে মুছে যায়নি। ফলে এক সভাতে খোদ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলে উঠেন, ‘কামাল সাহেব আপনি ভালো সংগঠক কিন্তু আপনি বিএনপি করতে পারবেন না।’ ফলে বিএনপি তাকে গ্রহণ করেনি। এরই মধ্যে মারধর আর মামলার ভয় বিরাজ করে। একাধিকবার হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার পরে চলে যান আমেরিকাতে। ২১ বছর পর চলে আসার পর শুরু হয় নতুন এক সংগ্রাম। এর মধ্যে তার উপর লটে যায় নানা কলংকের তিলক। তবে এ বিতর্কের মাঝেও কামাল মৃধা স্বপ্ন দেখছেন একটি পরিচ্ছন্ন আওয়ামী লীগের।

এ কামাল মৃধা এক সময়ে দাপুটে রাজনীতি করেছেন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগে। সরকারী তোলারাম কলেজেও ছিলেন নেতৃত্ব দেয়া নেতাদের মধ্যে।

কে এই কামাল মৃধা
জানা গেছে, কামাল উদ্দিন মৃধা ৭ জানুয়ারী ১৯৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মৃধা পরিবারের পরিবারের ছয় সন্তানের মধ্যে কামাল তৃতীয়। তিনি জয়গোবিন্দ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজ থেকে ১৯৮১ সালে বিএসসি সম্পন্ন করেন।

পারিবারিক জীবনে তিনি এক পুত্র ও তিন কন্যা সন্তানের জনক। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। সরকারী তোলারাম কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক (১৯৭৯-৮১), নারায়ণগঞ্জ শহর ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক (১৯৭৯-৮০), সরকারী তোলারাম কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি চলতি দায়িত্বে (১৯৭৯-৮০), সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নারায়নগঞ্জ জেলা শাখা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ নারায়ণগঞ্জ শহর শাখা, সাবেক প্রচার সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখা। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সেন্টাল ইয়ুথ ক্লাব।

রাজনীতে বেড়ে উঠার সঙ্গে প্রতিবন্ধকতার গল্প
কামাল মৃধা নিজের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে বলেন, ‘১৯৮১ সালে সরকারী তোলারাম কলেজ ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্খী ছিলাম। ওই বছর আমার কাছে শামীম ওসমান আন্ত:ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। কিন্ত তখনকার রাজনীতিতে একটি পক্ষ আমাকে থামানোর চেষ্টা করে। একেএম সামসুজ্জোহা ভাইয়ের কারণে আলী আহাম্মদ চুনকার নির্দেশে আমি সেই পদ থেকে সরে আসি। ভিপি পদ দেওয়া হয় শামীম ওসমানকে।’

কামাল মৃধা বলেন, ‘এক পর্যায়ে আমাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পায়তারা শুরু হয়। কারণ অনেকের কাছে তখন আমি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠছিলাম। আমাকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হতে দেওয়া হয়নি। তখন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমা রহমান ও সেক্রেটারী শামীম ওসমান। দপ্তর সম্পাদক ছিলেন খোকন সাহা। এক সভায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয় পোস্টার ছেড়ার। অথচ ওই সময়ে আমি কমিটির প্রচার সম্পাদক। ঠুনকো অভিযোগে আমাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। শহরের দুই নং রেল গেটে যে আওয়ামী লীগ অফিস গড়তে আমার ঘাম ছিল সেই অফিস থেকে আমাকে বহিস্কারের তকমা নিয়ে বের হতে হয়েছে।

কামাল বলেন, আমাকে দল ছাড়ার পর প্রচন্ড মানসিক যন্ত্রনা দিতে শুরু হয়। ১৯৯১ সালে আমাকে দমাতে চাষাঢ়া খাজা সুপার মার্কেটে একটি অফিসে টিভি ভাঙচুর করে মামলা করা হয়। আসামী করা হয় আমাকে সহ জাহাঙ্গীর আলম, প্রয়াত খাজা রহমতউল্লাহ, শান্ত ও জিএম আরাফাতকে। ওই মামলায় পরে আমাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শহরের দেওভোগে এক বাড়িতে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করি। তাদের পরামর্শে শুধুমাত্র বাঁচার তাগিদে বিএনপিতে যাই।’

কামাল প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি বিএনপিতে গিয়ে কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল বিশেষ করে জাহাঙ্গীর, শান্ত, খাজা রহমতউল্লাহ ও জিএম আরাফাতদের মামলা মওকুপ করেছিলাম। যদি সত্যিকারে বিএনপিই করতাম তাহলে আওয়ামী লীগের নেতাদের জন্য কেন এ কাজটি করেছিলাম। কৌশলগত কারণে বিএনপিতে গেলেও একাধিকবার খালেদা জিয়ার সামনে আমি বক্তব্যের ইতি টানতে গিয়ে জয় বাংলা স্লোগান তুলেছিলাম। এ কারণে খালেদা জিয়াও আমার উপর কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন।’

নিজের উপর নির্যাতন প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি ঢাকাতে যাবার সময়ে জালকুড়িতে আমার স্ত্রীর সামনে আমাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরবর্তীতে পরিবারের চাপে চলে যেতে হয় আমেরিকাতে।’

জানা গেছে, স্থানীয় রাজনীতিতে কামাল মৃধা বহুভাবে সমালোচিত। তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সু সম্পর্ক ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথেও। কিন্তু ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর চলে যেতে হয়েছিল আমেরিকাতে। সেখানেই ছিলেন দীর্ঘ বছর। আমেরিকা থেকে দেশে এসে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়ে উঠেন তিনি। বেশ কয়েকবার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে আধুনিক বাস নামানোর কথা বলে নানা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বিআরটিসি বা চালু করেন তিনি।

সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরব হলেও শেষতক শামীম ওসমানকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেওয়ার কারণে আর কুলিয়ে উঠতে পারেনি তিনি।


বিভাগ : আমার আমি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর