‘খামোশ আমার দুই সন্তান বঙ্গবন্ধুর জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত’

সায়েম প্রধান || আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান ০৯:০৯ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২০ শনিবার

‘খামোশ আমার দুই সন্তান বঙ্গবন্ধুর জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত’

সর্ব প্রথম এই শোকের মাসে গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারের ১৭ জন শহীদ হওয়া সকলের প্রতি। শোকের মাস ১৫ আগষ্ট নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করার ভাষা আসলে নেই।

যদিও তখন আমার জন্ম হয়নি কিন্ত একটি ঐতিহ্যবাহী আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান হিসাবে জন্মের পর জ্ঞান হওয়ার পর থেকে দাদা, জেঠা, বাবা, মা ও বড় ভাইদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের ইতিহাস শুনে আর জেঠা, বাবার রাজনীতি দেখেই বড় হয়েছি। তাদের মুখেই শুনেছি ১৫ আগষ্টে বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারের শহীদ হওয়ার ইতিহাস যা অত্যন্ত বেদনা দায়ক।

আমার দাদা চাঁন মিয়া প্রধান ১৯৫৪ সালে নির্বাচনকালীন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সভাপতি (বর্তমান সিদ্ধিগগঞ্জ থানা এলাকা) ছিলেন। আমার দাদা আমৃত্যু আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। আমার দাদা চাঁন মিয়া প্রধান বৃটিশ ভারতের শ্রমিক রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি তদানিন্তন শ্রমিক ফেডারেশনের সক্রিয় কর্মী হিসাবে ইংরেজদের বহু জুলুম নির্যাতন এর স্বীকার হন। এজন্য তিনি কয়েকবার চাকরিচুত্য হন। আমার দাদাজান জীবীত থাকা অবস্থায় তার মুখে ১৯৬৬ এর ছয় দফা আন্দোলনে, ১৯৬৯ এর গন অভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ এর নির্বাচনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ এর ইতিহাস শুনে আমরা অনুপ্রাণিত হতাম। তিনি বঙ্গবন্ধুর কাছে অত্যান্ত বিশ্বস্ত ও একনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।

১৯৭০ যখন নির্বাচন হয় তখন পাকিস্তানের পক্ষে যারা নির্বাচন করে তারা আমার দাদার কাছে আসেন এবং বলেন আমার দাদার দুই পুত্র হাসান আলী প্রধান এবং মোহসীন প্রধান যেনো নৌকার পক্ষে কাজ না করে তারা যেনো পাকিস্তানের পক্ষে নির্বাচন করে তখন আমার দাদা খামোশ বলে চিৎকার করে তাদের বের করে দেন এবং বলেন আমার দুই সন্তান বঙ্গবন্ধুর জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত।

১৯৭১ সলের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আমার দাদা জানের আদেশে তার দুই পুত্র আমার জেঠা মো: হাসান আলী প্রধান এবং আমার পিতা মো: মোহসীন প্রধান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের সময় আমার বাবা মো. মোহসীন প্রধান (বিএ) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক ছিলেন এবং আমার জেঠা গোদনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। বাবার মুখে শুনেছি ১৯৭৫ এর পর কেউ আওয়ামিলীগ এর নাম উচ্চারণ করতে ভয় পেতো কিন্তু আমার পরিবার তখনও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমার বাবা ১৯৭৭ সালে গোদনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যান। একটি খাঁটি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হিসেবে বলতে চাই আমরা হালুয়া রুটির রাজনীতি করিনা। নেত্রীর সুসময়ে এখন কর্মীর অভাব নেই। আল্লাহ না করুক কখনও দুঃসময় আসলে তখনই দেখা যাবে সত্যিকারের আওয়ামী লীগ কারা। তখনও আমি ও আমার পরিবার নেত্রীর পাশে থাকব। হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুকে আজীবন লালন করে যাব।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও