সেলিম ওসমানকে অনুরোধ পলাশের, সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৯ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০২০ রবিবার

সেলিম ওসমানকে অনুরোধ পলাশের, সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

জাতীয় শ্রমিক লীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যান বিষয়ক সম্পাদক এবং ইউনাইটেড ফেরারেশন অফ গার্মেন্টস ওয়ার্কাস এর কেন্দ্রীয় সভাপতি কাউসার আহমেদ পলাশ বলেছেন, ‘মাত্র ৪৫ টাকার একটি ঘটনার জন্য জরিমানা করা হলো ৫০০ টাকা। বিকেএমইএ এর সভাপতি জনাব সেলিম ওসমানকে অনুরোধ করব আপনি শ্রমিকদের নিয়ে বসে এর সমাধান করুন। কমিটি করে তদন্ত করে দেখেন কার দায়। যদি আমার শ্রমিকের দায় থেকে থাকে তাহলে আমরা এর শাস্তি মাথা পেতে নেব। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি এই সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে আবারো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। সেই কর্মসূচি মানববন্ধন না। বিক্ষোভ মিছিল হবে। তার পরেও যদি কোনো কর্ণপাত না হয়। আমরা অন্যান্য গার্মেন্টের শ্যমিক ও শ্রমিক সংগঠনের সকলকে একত্রিত করে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

১১ অক্টোবর রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে বন্ধ করে দেওয়া মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের লিবার্টি নিটওয়্যার লিমিটেড ও মিডল্যান্ড নিটওয়্যার লিমিটেড (গার্মেন্টস) চালুর দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

এতে ইউনাইটেড ফেরারেশন অফ গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন রাজুসহ গার্মেন্টটির প্রায় তিনশতাধীক শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিকদের মাধ্যমে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার ওই ঘটনা ঘটে। সেদিন মালিক পক্ষ উপস্থিত হয়ে দুই দিনের (শুক্রবার ছাড়া) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। পরবর্তিতে শনিবার সেই ঘটনার সমাধান করবেন বলেও মালিক জানিয়ে দেন। তবে শনিবার শ্রমিকেরা গার্মেন্টের গেইটের সামনে গিয়ে দেখেন যে ভাঙচুরের ঘটনা উল্লেখ করে সুইং, কাটিং এবং ফিনিশিং সেকশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এখনো ডাইং এবং নিটিং চালু আছে।

ওই নারী অপারেটর কাজল রানী নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘ববিন কেস ভাঙছে আরো দেড় দুই মাস আগে। আমি নিজে ভাঙ্গি নাই। মেশিনে লাগানো ছিল আমি খুলতে পারতে পারি নাই। তখন মেকানিক রেজাউলকে বললাম যে রেজাউল ভাই ববিন কেস খুলতে পারি না। দেখেনতো কি হইছে। তখন তিনি অনেকক্ষণ চেষ্ট করে ববিন কেস খুলার পর বলে যে ববিন কেস নষ্ট হয়ে গেছে। এর কিছুক্ষণ পরে তিনিই ববিন কেস পাল্টায়া দেয়। এরপর ওই ববিন কেস দিয়ে কাজ করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘১৫ দিন পরে মেশিন অন্য লাইন থেকে আরেক মেশিন এনে দেয়। কিন্তু ওই মেশিনের ববিন কেস নেই নাই। আগের মেশিনের ববিন কেস দিয়েই আমি কাজ করছি। আারো ১৫ দিন পরে আমাকে মেকানিক ইনচার্জ নূর আলম তাঁর অফিসে ডেকে নিয়ে বলে যে তুমি ববিন কেস ভাঙছো। ববিন কেস ভেঙ্গে মানুষের সাথে ছলনা করো। ভাঙ্গা ববিন কেস দেখিয়ে বলে যে ওই ববিন কেস কার। আমি বলি যে আমার না। আগের অপারেটরকে ডেকে একই কথা জিজ্ঞেস করলে সেও বলে জানে না। তারপর নূর আলম বলে যে, ‘তুই ভাঙ্গছছ এইটা। তুই ভেঙ্গে মানুষের দোষ দেস।’ এই কথা বলার পরে সে আমাকে কাজ করতে বলে।’

‘এরপর আমি কাজ করতে থাকি। এরপর বিল নিতে গেলে আমার নাম জিজ্ঞেস করে বলে যে আমার নামে অভিযোগ আছে। তাই আমার বিল কাটা হয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করি কেন কাটা হয়েছে। কিন্তু তিনি কিছু বলতে পারেনি। শুধু বলছে যে কোনো মাল অল্টার হয়েছে যে কারণে বিল কাটা হয়েছে। আমি সুপারভাইজারকে জিজ্ঞেস করলাম যে কি মাল অল্টার হয়েছে কিসের টাকা কাটছে। সুপার ভাইজার বলে যে মাল অল্টার হয় নাই রিজেক্টও নাই। কিসের টাকা কাটছে জানি না।’

‘এর কিছুক্ষণ কন্টাক্টার নাসির ভাই আসে। আমাকে একটা কাগজ দেখিয়ে বলে যে ববিন কেস ভাঙ্গার কারণে বেতন কেটে রাখা হয়েছে। তখন আমি শুধু বলি যে ববিন কেস ভাঙ্গার দেড় মাস পরে কেন টাকা কাটা হবে। আগে নিল না কেন? এটা বলে আমি আবারন কাজ শুরু করি।’

তিনি বলেন, ‘কাজ করার সময় আমি ভাবতে থাকি যে ববিন কেস ভাঙ্গার জন্য টাকা কাটলো। তাহলে পুরাতন নষ্ট ববিন কেস দিয়ে কাজ কেন করব। আবার ভাঙ্গলে আবার জরিমানা নিবে। তখন আমি মজিবর (কন্টাক্টার) বসের কাছে যাওয়ার পর কিছু বলার আগেই আঙ্গুল তুলে বলে যে, ‘তুই এখানে আইছছ কেন? তুই এইখান থেকে যা। তোর মত অপারেটর কত আছে। তোর মত অপারেটর আমার লাগে না। তুই বাইর হইয়া যা।’ আমি সেখানেই কান্না শুরু করলাম। সেখানে আরেকজন সুপারভাইজার এসে ইশারা দিয়ে বলে যে মেশিনে গিয়ে কাজ করো।’

‘মেশিনে বসে কান্না করি আর কাজ করতে থাকি। এরপর আমি এজিএম এর কাছে গিয়ে বিচার দেই। সব শোনার পরে বলে যে ববিন কেস ভাঙছো সেই টাকা কাটছে। কে বকাবকি করছে আমি দেখছি।’

কাজল রানী বলেন, ‘পরের দিন ১২টার দিকে আবার যাই তখন এজিএম স্যার বলে যে ববিন কেস ভাঙ্গছো তাহলে কিসের টাকা চাও? আমি বললাম যে ঠিক আছে ববিন কেস ভাঙ্গার জন্য টাকা কাটছে কিন্তু বকাবকি করলো এর বিচার করবেন না? তখন আবার বলে যে যাও এখান থেকে। এই ধরণের কেস নিয়ে আমার কাছে আসবা না। এরপর আবার চলে এসে মেশিনে বসে ভাবতে থাকি যে আর কাজ করব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই ঘটনা জানার পর অন্য যারা অপারেটর ছিল তাঁরা প্রতিবাদ করে সবাই মেশিন বন্ধ করে দেয়। এরপর স্টাফদের সঙ্গে তর্ক শুরু হয়। কিন্তু ভাঙচুর হয় নাই।’

উল্লে­খ্য, শ্রমিকদের বিশৃঙ্খল ও দাঙ্গা-হাঙ্গামায় ফতুল্লাস্থ মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের দুটি গার্মেন্টসে ব্যাপক ভাংচুরে প্রায় কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে দাবি করে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ইং এর ১৩ (১) ধারা অনুসারে অনির্দিষ্ট কালের জন্য গার্মেন্টস দুটি বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিক কর্তৃপক্ষ।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও