আলুর চড়া দাম, পুলিশ চলে গেলেই দাম বাড়ে

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৫ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২০ বৃহস্পতিবার

আলুর চড়া দাম, পুলিশ চলে গেলেই দাম বাড়ে

নারায়ণগঞ্জে সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে আলু। পাইকারী ও খোলা বাজারে সেই বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন অভিযান চালিয়েও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেনা বলে অভিযোগ করেছে ক্রেতারা।

১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের পাইকারী দিগু বাবুর বাজার ও শহরের খুচরো দোকান ঘুরে এরুপ তথ্য পাওয়া যায়।

শহরের দিগু বাবুর বাজারে, সরকার নির্ধারিত মূল্যকে তোয়াক্কা না করে বেশি দরে আলু বিক্রি করছে বিক্রেতারা। পাল্লা প্রতি (৫ কেজি) ২শ ১০-২০ টাকা দরে বিক্রি করছে।

বিক্রেতা সামাদ মিয়া বলেন, মোকাম ও কোল্ড স্টোরে কম দামে বিক্রি করলে আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারবো। মোকাম মালিকরা দাম কমাচ্ছেনা। যেকারণে বাড়তি দরে ক্রয় ও বিক্রয় করতে হচ্ছে। এতে আমাদের কিছু করার নেই।

এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে এক আলু বিক্রেতা জানায়, দুপুরে দিগু বাবুর বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৭টি আলুর দোকানে ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু আলুর পাইকারী দোকানিদের জরিমানা করে কি হবে। আলুর পাইকারী মোকাম ও কোল্ড স্টোরেজগুলোতে দাম কমাতে হবে। যদি আলু ব্যবসায়ীরা কম দরে ক্রয় করে অধিক বেশি দরে বিক্রি করে তাহলে জরিমানা করাটা যৌক্তিক। কিন্তু এভাবে জরিমানা করে কোন লাভ হবেনা।

আরেক দোকানি বলে, পুলিশ প্রশাসনের লোকজন একদিকে জরিমানা করেছে। অন্যদিকে বাজারের অন্য প্রান্তে ঠিকই বেশি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। দোকানিদের কিছু করার নেই। তাছাড়া পুলিশ প্রশাসন চলে যেতেই সেই আগের দরে আলু বিক্রি হয়েছে। তাহলে ক্রেতারা সেই কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেনা।

ক্রেতা রফিক মিয়া বলছে, আলুর দাম বৃদ্ধির ফলে পাইকারী বাজারে আলু কিনতে এসেছি। এখানে এক পাল্লা আলু ২শ ১০ টাকায় কিনেছি। যদিও সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে সেই দামে আলু পাইনি। তবে খোলা বাজারের তুলনায় কিছুটা কম পেয়েছি। তবে দাম এভাড়ে বেড়ে যাওয়ার কোন মানে হয়না।

এদিকে খোলা বাজারে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি হচ্ছে। শহর ও শহরতলীর প্রায় সবদোকানে এই চিত্র দেখা যায়।

দোকানিরা বলছে, পাইকারী বাজারে বেশি দরে বিক্রি করছে। তাই আমাদেরও বেশি দরে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি করতে হলে লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হবে। কারণ পাইকারী বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছেনা।

খোলা বাজারের ক্রেতা রুবেল বলছে, সব দোকানে ৫০ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি হচ্ছে। পাশের এলাকার একটি দোকানে ৪৫ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি হচ্ছে। তবে সেই আলুর মান খুব একটা ভালনা। তাই বাধ্য হয়ে ৫০ টাকা দিয়ে আলু কিনেছি। সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকা কেই মানছেনা। তাই বাধ্য হয়ে বেশি ধরে আলু কিনতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর বুধবার প্রতিকেজি আলুর দাম হিমাগারে ২৩ টাকা, পাইকারিতে ২৫ টাকা ও খুচরা বাজারে ৩০ টাকা কেজিদরে বিক্রি নিশ্চিত করতে সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদফতর।

একইসঙ্গে উল্লেখিত দামে কোল্ডস্টোরেজ, পাইকারি বিক্রেতা ও ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতাসহ তিন পক্ষই যাতে আলু বিক্রি করেন সেজন্য কঠোর মনিটরিং ও নজরদারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে ডিসিদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে কৃষি বিপণন অধিদফতর জানায়, বাংলাদেশে গত আলুর মৌসুমে প্রায় এক দশমিক নয় কোটি মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। দেশে মোট আলুর চাহিদা প্রায় ৭৭ দশমিক নয় লাখ মেট্রিক টন। এতে দেখা যায় যে, গত বছর উৎপাদিত মোট আলু থেকে প্রায় ৩১ দশমিক ৯১ লাখ মেট্রিক টন আলু উদ্বৃত্ত থাকে। কিছু পরিমাণ আলু রপ্তানি হলেও ঘাটতির আশঙ্কা নেই।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও