কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সমিতি

আড়াইহাজার করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:২৮ পিএম, ৯ নভেম্বর ২০২০ সোমবার

কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সমিতি

আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের একটি সমবায় সমিতি গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে। জীবনের সবটুকু জমানো টাকা হারিয়ে হাজারো গ্রাহক পথে বসার উপক্রম হয়েছে। কারো চোখে ঘুম নেই। চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়েছে। কোথায়ও গিয়ে সহযোগিতা পাচ্ছে না। এতে করে আরো হতাশ হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগীরা। এই ঘটনায় ৯ নভেম্বর সোমবার ভুক্তভোগীরা থানায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট সোমবার অভিযোগ দায়ের করেন।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগি সেলিনা আক্তার বেবী জানান, ২০০৮ সালের ১৪ অক্টোবর কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ইজারকান্দী গ্রামের জব্বার হাজীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম তার নিজস্ব কিছু লোকজন নিয়ে তাদের নিজ বাড়িতে গণপ্রত্যাশা সমিতির নামে একটি অফিস খুলে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তাদের গ্রাহক সংখ্যা হয়ে যায় ২ হাজার ১শ জন।

তারা প্রত্যেক গ্রাহকের কাছ থেকে ৩ লাখ থেকে শুরু করে ১২-১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সমিতিতে জমা রাখেন। এর মধ্যে তার নিজের রয়েছে ৬ লাখ টাকা। আয়শা আক্তার বিউটির রয়েছে ৮ লাখ টাকা।

তিনি আরো জানান, এমনিভাবে ওই সমিতিতে ২ হাজার ১শ গ্রাহকের সমস্ত টাকা জমা রয়েছে। গ্রাহকদেরকে প্রতি লাখে মাসিক ৩ হাজার টাকা করে লাভ দেওয়ার ও কথা রয়েছে। এমতাবস্থায় করোনার শুরু হওয়ার পর থেকেই সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সুফিয়া বেগম, প্রতিষ্ঠাতা সহ সভাপতি ফজলুল হক ওরফে ফজুল্লাহ, ম্যানেজার সফিউল্লাহ সুমন, সচিব ও পরিচালক মুক্তি আক্তার এবং ক্যাশিয়ার রাশেদ রাজন অফিসটি গুটিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। কিন্তু তারা বিষয়টি বুঝে উঠার আগেই অফিস কর্তৃপক্ষ ৩০ অক্টোবরের মধ্যে অফিসে সব কিছু অগোছালোভাবে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। তাদের সকল মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় সমিতির ২ হাজার ১০০ সদস্যের মাথায় হাত পড়েছে। কোনভাবেই অফিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তার বেবী, সাদিয়া আক্তারসহ একাধিক সদস্য জানান, কর্তৃপক্ষের সবগুলো লোকই কালাপাহাড়িয়ার ইউনিয়নের বাসিন্দা। কর্তৃপক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তারা এখন পথে বসেছেন। ৩০ অক্টোবর থেকে অফিস বন্ধ থাকলেও মূলত তারা ২ থেকে ৩ দিন আগে বিষয়টি টের পান। ফলে তারা থানায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন।

উপজেলা সমবায় অফিসার নাহিদা নাছরিন বলেন, আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।

আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তাদের কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সোহাগ হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে অভিযুক্তদের সকল মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও