ব্যবসায়ীদের ‘কাজল ভাই’

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৩ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার

ব্যবসায়ীদের ‘কাজল ভাই’

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নলকূপ নষ্ট, ব্যবসায়ীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সহ নারায়ণগঞ্জের অনেক কিছুই এখন একাই সামলাতে হচ্ছেন খালেদ হায়দার খান কাজলকে। তিনি নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি। রাইফেল ক্লাবেরও সাধারণ সম্পাদক। ক্রীড়া সংগঠক থেকে ক্রমশ ব্যবসায়ী নেতা। আর এখন ব্যবসার বিভিন্ন সেক্টরের নেতাদের ‘ভরসার পাত্র।’

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের যে কতজন আস্থাভাজন রয়েছেন তাদের মধ্যে কাজল একজন।

নারায়ণগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আগে আমাদের ব্যবসা সংক্রান্ত অনেক সমস্যা থাকতো। এখন সেগুলো ক্রমশ মিটে যায় একজনের পরামর্শে। তিনি হলেন খালেদ হায়দার খান কাজল। আমাদের কাছে তিনি ‘কাজল ভাই’।

ওইসব ব্যবসায়ীরা জানান, আমাদের ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ নেতা হলেন এমপি সেলিম ওসমান। কিন্তু তিনি কাজলকে তার মত করেই গড়ে তুলেছেন। যে কোন সময়ে ব্যবসা বাণিজ্য কেন্দ্রীক সমস্যা হলেই কাজল ভাইয়ের কাছে ছুটে যাই। তাকে দিনের একটি বেশীরভাগ সময়েই চেম্বারে পাওয়া যায়। ফলে ব্যবসা সংক্রান্ত সমস্যার আলোচনা তার সঙ্গে সহসাই করা যায়। তাছাড়া রাইফেল ক্লাবের সেক্রেটারী হওয়াতে সেখানেও দেখা মিলে।

নিতাইগঞ্জের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘বিগত দিনে হরতাল, অবরোধ সহ অনেক কর্মসূচী কিংবা যে কোন সভা সমাবেশ মুহূর্তের মধ্যে আয়োজনের ক্যারিশমা রয়েছে কাজলের।’

নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল প্রসঙ্গে সেলিম ওসমান বলেন, কাজল দীর্ঘদিন আমার সঙ্গে চলাফেরা করছে। আমার দৃষ্টিতে সে সাকসেস হয়েছে। সে সহকর্মী পেয়েছে অনেক। অনেক নেতা তৈরি করেছেন। লোক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। কিন্তু কেউ যদি এগিয়ে যেতে চায় তাহলে দেখা যায় কিভাবে পেছন থেকে টেনে ধরা যায়। এটা নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিনের অভ্যাস। কেউ যদি কিছু করতে চায় তাহলে পেছন থেকে টান দেয়, পাঞ্জাবি ধরে টান দেয় যাতে এগিয়ে যেতে না পারে। যারা আমরা ক্ষমতায় আছি তারাও এটা করছে।’

গত ১৫ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহযোগীতায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ ইউনিট কমান্ড এর উদ্যোগে আয়োজিত নৌ-বিহার অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সকল মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক সহ প্রায় সাড়ে ১২’শ মানুষ উক্ত নৌ-বিহারে অংশগ্রহণ করেন।

সেলিম ওসমান বক্তব্যে নৌ-বিহার আয়োজনে সহযোগীতা প্রদানকারী নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল সেদিন বলেন, যতদিন বাঁচবো আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চাই।
গত বছর নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ানির পাম্প বিকল হয়ে পড়ায় হাসপাতালে রোগীদের মাঝে পানির হাহাকার দেখা দেয়। ২ নভেম্বর সকালে নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকমে রোগীদের দুর্ভোগের সংবাদ থেকে ব্যবসায়িক কাজে বিদেশে অবস্থানরত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান তাৎক্ষনিক সমস্যা সমাধানে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিরর সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুকে অনুরোধ করেন। পরে কাজল যিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু হাসপাতালে গিয়ে পাম্পটি মেরামতের ব্যবস্থা করেন।

সেলিম ওসমান বিভিন্ন কারণে কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারলে সেখানে হাজির হন কাজল। ইতোপূর্বে একাধিক অনুষ্ঠানে খালেদ হায়দার খান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উদ্ধৃতি টেনে বলেন, আজকে এখানে ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে এমপি সেলিম ওসমান সাহেবের আসার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আমাকে জানিয়েছেন, যেহেতু এখানে নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠান। তাই যে নারী উনাকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। যিনি টানা দুই বার নারায়ণগঞ্জ জেলায় শ্রেষ্ঠ নারী করদাতার সম্মান অর্জন করেছেন, যিনি কখনো কোন কাজকেই ছোট করে দেখেননি বা অসম্মানজনক মনে করেননি, যিনি দীর্ঘ জীবন কৃষির উপর কাজ করেছেন, উনার জীবনে প্রতিটি কাজে যিনি উৎসাহিত করেছেন সেই মহিয়সী নারীকেই আমাদের মাঝে পাঠিয়েছেন। যিনি উনার সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমান। সেলিম ওসমানকে তিনি শূন্য থেকে আজকে বাংলাদেশের একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পদ্যোক্তা বানিয়েছেন যিনি এখন পর্যন্ত বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রনালয় থেকে পৃথকভাবে মোট ৯বার বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) সম্মাননা পেয়েছেন। যিনি একই সাথে সংসার এবং ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। সেই সাথে আমাদের গার্মেন্টে কর্মরত শ্রমিক নারী ও পুরুষ উভয়ের সাথে তাদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে প্রায়ই আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধানের ব্যবস্থা করেছেন। তাই আজকে উনি তাঁকে পাঠিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতা গুলো নারায়ণগঞ্জের নতুন নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে ভাগাভাগি করে তাদের সহযোগীতা করার জন্য।

গত বছরে শহরের খাঁনপুরে ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুর উদ্যোগে খালেদ হায়দার খান কাজলের আর্থিক সহায়তায় অসহায় নারী রিতা আহমেদকে দুটি সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। এতে পরিবারের এই সদস্য স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

জানা যায়, বুলবুলের স্ত্রী রিতা আহমেদ তার দুই মেয়ে নিয়ে খানপুরে বসবাস করেন। স্বামী প্রায় সময় স্ত্রী ও তার দুই মেয়েকে মারধর করে। দুই মেয়ের মধ্যে এক মেয়ে বিবিএর ছাত্রী, আরেক মেয়ে স্কুলে অধ্যয়নরত। এতে নানা সমস্যায় পরিবারটি নিয়ে হুমকির মুখে পড়েন তিনি। নিজে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার স্বজনদের মুখে হাসি ফুটাতে স্থানীয় কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুকে অবহিত করেন। এসব ঘটনা শুনে কাউন্সিলর শকু নিজে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার এন্ড কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলের সাথে আলোচনা করলে কাজল তাদের দুটি সেলাই মেশিন প্রদান করেন। পরে ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুর আয়োজনে সেই নারীকে স্বাবলম্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সেই দুটি সেলাই মেশিন তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু বলেন, ‘‘কাজল ভাই সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং আমি নিজেও একটি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুশি হয়েছি। মানুষকে খুশি করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই। এই ওয়ার্ডবাসীদের সুখে দুঃখে তাদের পাশে আমি সব সময় ছিলাম আছি এবং সব সময় থাকার চেষ্টা করবো।’’

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত এসপি ছিলেন হারুন অর রশিদ। তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেন কাজলকে মামা হিসেবে উল্লেখ করেন।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও