নারায়ণগঞ্জের কোন হোটেলে লবন নাই, সর্বত্র টেস্টিং সল্ট

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:১০ পিএম, ৭ জুন ২০২১ সোমবার

নারায়ণগঞ্জের কোন হোটেলে লবন নাই, সর্বত্র টেস্টিং সল্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস বলেছেন, ‘নিরাপদ খাদ্যের সাথে আমাদের যে দৃষ্টিভঙ্গি এটার এক বিরাট সম্পর্ক আছে। আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন খাবার খুব স্বাদ হয়। আপনি যেকোন খাবারই খান স্বাদ লাগে। স্বাদ লাগার জন্য বড় মাধ্যম হলো টেস্টিং সল্ট। আগে আমরা যখন নুডুলস খেতাম, তখন নুডুলুসের প্যাকেটে ছোট একটি টেস্টিং সল্টের প্যাকেট থাকতো খুবই স্বল্প পরিমাণে। আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানি, এখন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হোটেলে লবন তুলে নিয়েছে। এখন সবটা টেস্টিং সল্ট দিয়ে খাবার তৈরি করে। এ ধরনের খাবার আমরা যারা গ্রহণ করবো আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, ৫ বছরের মধ্যে আমাদের প্রত্যেকেরই লিভারে অসুখে আক্রান্ত হবো। আপনারা পরিসংখ্যান দিয়েছেন। কিন্তু এখানে উৎসটা খেয়াল করেন তাহলে নারায়ণগঞ্জের প্রত্যেকটা রেস্টুরেন্ট খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন তারা সাধারণ লবন বাদ দিয়ে এখন টেস্টিং সল্ট দিয়ে তারা তাদের খাবার তৈরি করছে। কারণ স্বাদ না লাগলে আমরা আর সেই হোটেলে যাবো না। তাই এখন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো দরকার।’

৬ জুন রোববার দুপুরে আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে ‘জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য’ শীর্ষক স্কুল রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ও জাইকা-সিফরসি প্রকল্প।

অসিত বরণ বলেন, ‘এখন মধু মাস। বাজারে অনেক রকম ফল দেখি। ফলের রঙ যদি খুব সুন্দর না হয় তাহলে আমরা ফল কিনি না। এখন আম কোন দিন গাছের মধ্যে এক সঙ্গে পাকার সুযোগ নাই। খুব কম দেখা যায় গাছের মধ্যে আম হলুদ হয়েছে। এখন সাধারণ যে সবুজ আম সেটা আমরা বাজারে গেলে কিনবো না। লিচু যদি একটু সবুজ হয় আমরা কিনবো না। অর্থাৎ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই কিন্তু সমস্যা জড়িয়ে আছে। তাই আমি মনে করি সবাই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টান। আর যারা এখানে অংশগ্রহণ করছেন তারা এক্ষেত্রে লিডার শিপের দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, ‘২০০৩ সালে মেয়র পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন কি অবস্থা ছিল সেটা সবাই জানেন। ২০০৩ থেকে এখন ২০২১ সাল চলছে যা দীর্ঘ ১৭ বছর। এর মধ্যে যদি আপনারা খেয়াল করেন, আমাদের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩টি অঞ্চলে অবকাঠামোগত যত বড় কাজ ছিল তার প্রায় অধিকাংশ কাজই শেষ হয়ে গেছে। আজকের মতো অনেক কিছু আছে যেগুলোর সঙ্গে অবকাঠামোগত সম্পর্ক নেই কিন্তু নীতির সম্পর্ক আছে। আমাদের মেয়র কিন্তু সেই নীতি ব্যাপারে কাজ করতে এগিয়ে এসেছে। ২০১৩ সালে আমাদের খাদ্য আইন হয়েছে। এ খাদ্য আইনের আলোকে যেটা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো, একটা খাদ্যের ব্যাপারে একটা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে পরিষ্কার ভাবে নিরাপদ খাদ্য কিভাবে জনগনের মাঝে পৌছানো যায় এব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা। তার অংশ হিসেবে আমাদের সিটি করপোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ডে আমরা নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সেই পদক্ষেপগুলো সামনে রেখে আমরা আমাদের কাজে এগিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা গ্রেডিং করার চেষ্টা করছি। যেখানে নিরাপদ খাদ্য থাকবে সেই রেস্টুরেন্টকে একটা গ্রেডিংয়ে আনতে চাইছি। এ প্লাস, এ এভাবে হোটেল গ্রেডিং করতে চাচ্ছি। ফলে যে হোটেলে এ প্লাস গ্রেডিং থাকবে সেখানে একটি গ্রাহক গেলে মোটামুটি নিশ্চিত হতে পারবে এখান থেকে আমি যেই খাবার গ্রহণ করি সেটা আমার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। পাশাপাশি আমরা সবাই জাংফুডের কথা বলি কিন্তু সেটা আমরা চাইলেই বন্ধ করতে পারবো না। সেই জাংফুডটা কি সাধারণ ভাবে নিরাপদ? এজন্য যারা গাড়ির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের খাবার বিতরণ করে তাদেরকেও নিরাপদ খাদ্য তৈরির জন্য প্রশিক্ষন দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এর থেকে আমরা বিশ্বাস করতে পারি অদূর ভবিষ্যতে আমরা সিটি করপোরেশন মেয়রের উদ্যোগে নগরবাসীকে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা করতে পারবো।

আলোচনা সভা শেষে ‘জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য’ শীর্ষক স্কুল রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহকারী নারায়ণগঞ্জের ৪টি স্কুলের ৪০ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও