লকডাউনের সঙ্গে বৃষ্টিতে বাজার ছিল ক্রেতাশূণ্য

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০৬ পিএম, ২২ জুন ২০২১ মঙ্গলবার

লকডাউনের সঙ্গে বৃষ্টিতে বাজার ছিল ক্রেতাশূণ্য

ঢাকার আশে পাশে সাত জেলার মধ্যে নারায়ণগঞ্জে প্রথম দিনে লকডাউন ছিলা। প্রথম দিনে বৃষ্টি থাকালেও নারায়ণগঞ্জের বাজারগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি ছিল চোখে পরার মতো। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন,‘লকডাউন ও বৃষ্টিতে ক্রেতাদের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক কম।

২২ জুন মঙ্গলবার সকালে শহরের অন্যতম পাইকারী ও খুচরা বিক্রির দিগুবাবুর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ‘বৃষ্টিতে বাজার অনেক অংশে ফাঁকা। যারা কেনাকাটা করতে আসছেন তারাও দ্রুত পন্য নিয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন। তাছাড়া যারা ছিলেন তারাও বৃষ্টি ভিজেই কেনাকাটা করছেন। কাঁচা সবজি থেকে শুরু করে মাছের বাজার, ডিম থেকে মাংসের বাজার, চা পানের দোকান থেকে মুদির দোকান পর্যন্ত সবত্রই ক্রেতাদের তেমন কোন ভীড় ছিল না। সকল ক্রেতাই স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটা করেছেন।’

এদিকে দিগুবাবুর বাজারে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল, ‘ করোনা মহামারী থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজারে আসতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। অবশ্যই মাস্ক পড়তে হবে। মাস্ক ব্যবহার ছাড়া ক্রেতার কাছে কোন কিছু বিক্রি করা যাবে না তদরূপ মাস্ক ছাড়া বিক্রেতার কাছেও ক্রেতারা কিনবেন না। বাজারে বাচ্চাদের নিয়ে আসবেন না। এক দোকানে দুইয়ের অধিক লোক ভীড় করবেন না। অন্যথায় আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সেই মাইকের নিচে ফল বিক্রেতা থেকে শুরু করে বাজারের কাঁচা সবজি বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতা, মুদি দোকানদার, হেলপার, শ্রমিক এমনকি ক্রেতারও অধিকাংশের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। বৃষ্টি থাকায় এমনিতেই ক্রেতার সংখ্যা কম থাকায় তেমন গাদাগাদি পরিস্থিতি না থাকলেও ক্রেতা বিক্রেতা সকলেই যত্রতত্র হাচ্ছি কাশি দিতে দেখা গেছে।’
দিগুবাবু বাজারের ফয়সাল আহমেদ বলেন,‘বৃষ্টির জন্য মাস্ক ভিজে গেছে। তাই খুলে রাখতে হয়েছে। তাছাড়া আজকে বাজারে তেমন কোন ক্রেতা নেই। লকডাউন ও বৃষ্টির জন বেচাকেনা ভালো না।’

মুদি দোকানদার সেলিম মিয়া বলেন, ‘লকডাউনে এক সপ্তাহের বাজার কিনে রাখবে এমন এখন হয় না। কারণ এখন মানুষ জানে বাজার প্রতিদিন খোলা আছে। যেকোন সময় এসে বাজার করে নিয়ে যেতে পারবেন। তবে আজকে ক্রেতা অনেক কম। লকডাউনের কারণে কম মনে হচ্ছে না। বৃষ্টির জন্যই ক্রেতা কম।’

অন্যদিক শহরের ৩নং মাছ ঘাট এলাকায় মাছের আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, ‘দিগুবাবু বাজারের তুলনায় মাছের বাজার আয়তনে ছোট হওয়ায় মানুষের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সেখানেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি। গাদাগাদি করে এক সঙ্গে ৫ থেকে ৬ জন দাঁড়িয়ে মাছ দাম ধর করছেন। অধিকাংশ ক্রেতা বিক্রেতার মুখে মাস্ক নেই।
মাছ বিক্রেতা রানা বলেন,‘মাছের ক্রেতা নেই বললেই চলে। বৃষ্টি ও লকডাউন দুইয়ের জন্যই ক্রেতা কম।’

তিনি বলেন ,‘করোনা টিকা নিয়েছি। তাই মাস্ক না ব্যবহার করলেও কোন সমস্যা নেই। তাই মাস্ক ব্যবহার করা হয় না।’
প্রসঙ্গত সোমবার বিকেলে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ‘নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ি, মাদারিপুর ও গোপালগঞ্জে ২২ জুন মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন কার্যকর থাকবে।

তিনি আরও জানান, জরুরি পরিসেবা অর্থাৎ খাদ্য, ওষুধ, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের মতো সেবা চলমান থাকবে। এছাড়া ওই অঞ্চলের সরকারি- বেসরকারি -আধা সরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এমনকি সাধারণ জনচলাচল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এইসব জেলা থেকে ঢাকাগামী কোনো যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না। কেবলমাত্র অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি খাদ্য, ওষুধ ও পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া অন্য কোন যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও