শ্রমিকদের বিক্ষোভে জনদুর্ভোগ

সোনারগাঁও করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৪ পিএম, ৮ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার

শ্রমিকদের বিক্ষোভে জনদুর্ভোগ

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে সিনহা ওপেক্স কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে টানা ৭ ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

৮ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম গিয়ে আগামী ১৩ জুলাই শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেয়। এতে শ্রমিকেরা রাজি না হলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তারপরই যানবাহন চলাচল শুরু করে।

এর আগে সকাল ৯টায় উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় ওপেক্স ও সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপের কয়েক হাজার শ্রমিক চার মাসের বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস, জোর করে পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর নেওয়া সহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৫ কিলোমিটার ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১০ কিলোমিটার রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে ভোগান্তিতে পরেন জরুরী প্রয়োজনে বের হওয়া যাত্রী, পণ্যবাহী যানবাহন, অক্সিজেন সরবরাহকারী ট্রাক, প্রাইভেটকার ইত্যাদি যানবাহন।

সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওপেক্স ও সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপের শ্রমিকেরা অনেক কষ্টে রয়েছে। তারা ঘর ভাড়া, দোকানের পাওনা টাকা ইত্যাদি দিতে পারছে না। সেজন্য তারা সকাল থেকে আন্দোলন করে।’

তিনি বলেন, ‘সিনহা গ্রুপের মলিকপক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি তারা তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে রাজি হয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই বকেয়া বেতন ও ১৯ জুলাই ঈদ বোনাস পরিশোধ করার আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে শ্রমিকদের বললে তারা বিশ্বাস করে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

ওপেক্স ও সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপের ফটকে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে চাইলে সেখানকার নিরাপত্তারক্ষী রফিক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান বন্ধ। আজকে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার কথা ছিল। টাকা ম্যানেজ হয়নি ফলে বন্ধ রয়েছে। এখন কথা বলার মতো মালিকপক্ষের কেউ নেই।’

ওপেক্স ও সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপের শ্রমিকেরা বলেন, ‘চলতি মাস সহ চার মাসের বেতন, ঈদ বোনাস, ওভারটাইমের টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়াও জোর করে শ্রমিকদের স্বাক্ষর নিয়ে ছাঁটাই করা হয়। অবৈধ ভাবে কারখানাটি লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। কয়েকবার আমাদের বেতন পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু বেতন দেওয়া হয়নি। এজন্য আমরা সকাল থেকে আন্দোলন শুরু করেছি। বেতন না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের ঘর ভাড়া দিতে পারছি না। তাই বাড়ির মালিক ঘর ছেড়ে দিতে বলে। দোকান থেকে চাল ডাল বাকি দিচ্ছে না কারণ আগের টাকাই পরিশোধ করা হয়নি। কাজে আসা যাওয়ার ভাড়াও মানুষের কাছ থেকে ঋণ করে নিয়ে আসতে হচ্ছে। সেই টাকাও পরিশোধ করতে পারছি না। আমাদের বেতন পরিশোধ করে দিক আমরা আন্দোলন করবো না।’

এদিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধে ভোগান্তিতে পড়েন জরুরী প্রয়োজনে লকডাউনে বের হওয়া অনেক যাত্রী। তাদের মধ্যে বিদেশগামী, রোগীবাহী গাড়ি, মেডিকেল পণ্যের গাড়ি, রপ্তানীমুখী গাড়ি আটকে পরে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও