বেতন পেল হাসেম ফুডের কর্মীরা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৪৯ পিএম, ১৩ জুলাই ২০২১ মঙ্গলবার

বেতন পেল হাসেম ফুডের কর্মীরা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকা-ের ঘটনার পর দুশ্চিন্তায় থাকা শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। তবে এখনও বকেয়া রয়েছে ঈদ বোনাস ও অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) টাকা। বেতন পেলেও কারখানা খোলা নিয়ে শ্রমিকদের এখনও দুশ্চিন্তা কাটেনি।

১৩ জুলাইমঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় পৃথক পৃথক ভাবে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়।

নুডুলস সেকশনের শ্রমিক মো. নাহিদ বলেন, ‘ঈদ আইসা গেছে এখন বেতন দিবো কিনা এ নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। মেসের খাবার বিল, রুম ভাড়া সব কিছুই চাইতে ছিল। আবার শুনছে আগুন লাগছে তাই বেশি করে চাপ দিতেছিল। তবে বেতন পেয়ে ভালো লাগছে। কিন্তু আমার সঙ্গে কাজ করতো পারভেজ এখনও নিখোঁজ। ওর জন্য খারাপ লাগতেছে।’

দিপা রানী দাস বলেন, ‘ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, দোকান বাকি ছিল। বেতন পাওয়ায় আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। এখন কারখানা কবে খুলবে কিছুই বলেনি। কারখানা না খুললে কি কইরা খামু।’

সরেজমিনে দেখা যায়, ‘সকাল থেকেই কারখানার মূল ফটকের সামনে শ্রমিকেরা অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু বেতন দেওয়া হবে কিনা তখনও কোন ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বেলা ২টার দিকে কারখানার মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হবে। তারপরই শ্রমিকদের কারখানার ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয় বেতন দেওয়ার কাজ। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কয়েকটি ভাগে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়।’

হাসেম ফুড লিমিটেডের ম্যানেজার মো. নূরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কারখানায় ২ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়াও অফিস স্টাফ, আনসার সহ অন্যান্য সদস্যরা আছে। এর মধ্যে ৮০ ভাগ শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে। যারা আজ বেতন নিতে আসেনি আগামীকাল তাদেরও বেতন দিয়ে দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘একদিনে ওভারটাইম ও বোনাস দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আগামী ১৮ জুলাই ওভারটাইম ও ঈদ বোনাস দেওয়া হবে। এ বিষয়ে সকল শ্রমিকদের বলে দেওয়া হয়েছে। তারাও খুশি হয়ে বাসায় ফিরে গেছে।’

কারখানা কবে থেকে চালু হবে? তিনি বলেন,‘এ মুহূর্তে বলা খুব কঠিন। কারণ অগ্নিকা-ের পর বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করছে। এছাড়াও ফায়ার সার্ভিস থেকে নির্দেশনা দেয়নি। সব শেষ হলে আশা করছি আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকেই কারখানা চালু হয়ে যাবে। এ বিষয়ে শ্রমিকদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

উল্লেখ গত ৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টায় হাসেম ফুড লিমিটেড এর ৬ তলা ভবনে (১১ নম্বর সেন্ট্রাল স্টোর ভবন হিসেবে পরিচিত) আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রায় ১৯ ঘণ্টার চেষ্টায় শুক্রবার দুপুরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় ভবন থেকে লাফিয়ে পরে ৩ জন ও অগ্নিকা-ে ৪৮ জন মারা যায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় কারখানার মালিক এম এ হাসেম, তাঁর চার ছেলে (পরিচালক), ডিজিএম, এজিএম ও ইঞ্জিনিয়ার সহ ৮জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের চারদিনের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও