শহরে জমেছে ঈদের বিক্রি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৫৩ পিএম, ১৮ জুলাই ২০২১ রবিবার

শহরে জমেছে ঈদের বিক্রি

করোনা সংক্রামণ রোধে সরকার ঘোষিত টানা দুই সপ্তাহ কঠোর বিধি নিষেধ থাকার পর ঈদকে কেন্দ্র করে শিথিল হওয়ায় জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ শহরে ঈদের বেচাকেনা। সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মার্কেট ও ফুটপাতে বেচাকেনা করছেন দোকানীরা। তবে এসব কেনাকাটায় অধিকাংশই মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। এতে করে করোনা সংক্রামণ ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

১৮ জুলাই রোববার বিকেলে সরেজমিনে শহরে ঘুরে দেখা গেছে, ‘শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশে ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসেছে হকাররা। প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের ভীড়। শুধু ফুটপাত নয় এর আশে পাশের গলিগুলোও দখল করে নিয়েছে হকাররা। এসব ফুটপাতের দোকানগুলো রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা করতে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষকে।’

ফুটপাতের মতোই ভীড় রয়েছে শহরের বিপনী বিতানগুলোতেও। প্রতিটি দোকানেই কম বেশি ক্রেতাদের ভীড়। সমবায় মার্কেট, লুৎফা টাওয়ার, বর্ষন সুপার মার্কেট, এফ রহমান সুপার মার্কেট সহ বেশ কয়েকটি মার্কেটে পা ফেলার জায়গাও নেই। একজন আরেকজনের শরীরে ধাক্কা দিয়ে কেনাকাটা করছেন। এসময়ও অনেকের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধিও। কোন মার্কেটের সামনে স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোন ব্যবস্থাও দেখা যায়নি।

বিক্রেতারা বলছেন, ‘ঈদের আর কিছুদিন আগে থেকে লকডাউন শিথিল করা হলে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ মত কেনাকাটা করতে পারতো। এতোটা ভীড় হতো না। অনেকেই আগে আগে ভীড় এড়িয়ে কিনে ফেলতো। কিন্তু লকডাউনের জন্য যেই কেনাকাটা করতে পারেনি। যার জন্য সময় কম থাকায় মার্কেটগুলোতে ভীড় বেড়েছে।’

ক্রেতা মজনু মিয়া বলেন,‘লকডাউনে অনেক কিছু বন্ধ থাকলেও আমাদের গার্মেন্টস খোলা ছিল। এতো দিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে পেরেছি। এখন বাড়িতে যাবো ছেলে মেয়েদের জন্য কিছু কিনবো না। করোনা আমাদের গার্মেন্টেসে ছিলো না?

তিনি বলেন, ‘গ্রামে কয়েকজন মিলে গরু কিনছে। সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে গরু কোরবানি দিমু। আর তখন নতুন জামা কাপড় না হলে সন্তানরাও তো কষ্ট পাবে।’

রফিক মিয়া বলেন, ‘লকডাউন না থাকলে আগেই সুবিধা মতো সময়ে ঈদের কেনাকাটা করে রাখতাম। এতো দিনতো লকডাউনে দোকান বন্ধ ছিল কিনতে পারিনি। তাই ভীড়ের মধ্যেও কিনতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বছরে দুই ঈদ উপলক্ষ্যেই আব্বা আম্মা ও স্ত্রী সন্তানদের কাপড় কিনে দেওয়া হয়। এছাড়া তো কিনা হয় না। এখন খালি হাতে কিভাবে যাবো। তাই ঝুঁকি যেনেও কিনতেছি। যা করে আল্লাহ।’

সমবায় মার্কেটের বিক্রেতা রিপন বলেন, ‘আর একটা সপ্তাহ আগে পরিস্থিতি শিথিল করলে এতোটা ভীড় হতো না। মানুষ সুবিধা মতো সময়ে কেনাকাটা করে চলে যেতো। তাছাড়া রাত ৮টা না হয়ে ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখতে পারলেও ভীড় কম হতো। কারণ গার্মেন্টস শেষ করেই সবাই এক সঙ্গে কেনাকাটা করতে আসে। ফলে সন্ধ্যা থেকেই ভীড়টা বাড়তে শুরু করে।’

তিনি বলেন, ‘ঈদে দোকান খোলতে পারবো কিনা সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। সেজন্য নতুন কোন ঈদের মাল আসেনি। ফলে যা আছে তাই বিক্রি করছি। না এনে ভালো করেছি এখন বুঝছি কারণ নতুন মালের দাম বেশি হতো আর ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম নেওয়াটাও কষ্ট হতো। গত ঈদের মাল কিছুটা কম দামে কেনা ছিল বলে বিক্রি করতে পারছি। বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে।’


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও