নারায়ণগঞ্জে অনুনয় বিনয় করেও ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে না

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৯ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার

নারায়ণগঞ্জে অনুনয় বিনয় করেও ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে না

নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রি করতে এসেছেন কয়েকজন যুবক। চামড়া ব্যাপারীরা গরুর চামড়া কিনতে চাইলেও ছাগলের চামড়া কিনতে রাজি হয়নি। অনুনয়-বিনয় করেও ছাগলের চামড়ার জন্য ৫০ টাকাও পায়নি তারা। বাধ্য হয়ে যুবকেরা ছাগলের চামড়া ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’

বুধবার বিকেলে শহরের চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর এলাকায় শহীদ জিয়া হলের সামনে দেখা গেছে এ দৃশ্য। ওই যুবকদের মতো অনেকেই ছাগলের চামড়া ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। কেউ বা আবার কষ্ট করে নিয়ে যেতে হবে বলে বিনামূল্যে ব্যাপারীকে দিয়ে গেছেন।’

সরেজমিনে শহরের ২নং রেল গেইট, মন্ডল পাড়া মোড় ও চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর ঘুরে দেখে গেছে, ‘অনেকেই গরুর চামড়া সংগ্রহ করলেও কেউ ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করছেন না। একই সঙ্গে ছোট গরুর চামড়া ও মাথার চামড়াও কিনছেন না। তাছাড়া সরকারি ভাবে গরুর চামড়া বর্গফুট হিসাবে দাম নির্ধারণ করে দিলেও কেউ সেই নিয়মে কিনতে রাজি না। চোখের দেখায় ছোট বড় আকার ভেদে কেনাবেচা হচ্ছে। ফলে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আর ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকার গরুর চামড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘এক থেকে দেড় লাখ টাকার কোরবানির গরুর চামড়া ৪০০ টাকার বেশি দাম দিচ্ছে না ব্যাপারীরা। আর ৭০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। ছাগলের চামড়ার জন্য এক টাকাও দেয় না।’

তিনি বলেন, ‘অনেক বার বলছি ছাগলের চামড়ার জন্য ৫০ টাকা দিতে। সেটাও রাজি না। তারা বলে ঢাকায় ব্যাপারীরা ছাগলের চামড়া কিনে না।’

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ইসদাইর এলাকা থেকে একেকটা চামড়া কিনেছি ৪০০ টাকা করে। এখানে ব্যাপারীরা বলতেছে ৩০০ টাকার বেশি দিবো না। আসল টাকাই উঠতেছে না তারপর তো সারাদিনের পরিশ্রম ও ভ্যানগাড়ি ভাড়া।’

তিনি বলেন, ‘এখনে দুইজন ব্যাপারী এক হয়ে চামড়া কিনছে। তাই কেউ দাম বাড়িয়ে দিতে রাজি না। আর এতো অল্প চামড়া নিয়ে ঢাকা গিয়েও খরচের টাকা উঠবে না।’

চামড়া ব্যাপারী মুহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ‘চামড়া ভালো আসছে। কিন্তু আমরা ভালো দাম দিতে পারছি না। কারণ আমরা ঢাকায় ট্যানারিতে নিয়ে দাম পাচ্ছি না। ট্যানারিতে নিয়ে গেলে বলে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কম। লবন ও ক্যামিকেলে দাম বেশি ইত্যাদি বলে আমাদের ৬০০’র বেশি দিতে চায় না। তাহলে আমরা এখন থেকে কয় টাকা দিয়ে কিনমু?

তিনি বলেন,‘ফুট হিসেবে কিনছি না। সাইজ দেখে কিনছি। ভালো চামড়া হলে ৫০০ টাকা আর ছোট চামড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। কারণ গতবার চামড়া কিনে ধারা খেয়েছি। এবার ধরা খেতে চাই না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এবার লবনের দাম বেশি তাই আমরাও মজুদ করবো না। চামড়া কম কিনছি। আর ট্যানারিতে ছাগলের চামড়া নেয় না তাই আমরাও কিনছি না।’

বাগে জান্নাত মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মাদ্রাসায় এতিম শিশুরা পড়ালেখা করে। প্রতি ঈদে কোরবানির চামড়া বিক্রি করে মাদ্রাসার খরচ চলে। কিন্তু এবার যে দাম পাচ্ছি তাতে ৩ থেকে ৪ মাসের খরচও চালাতে পারবো না।’

তিনি বলেন, ‘সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও কেউ সেই দামে কিনতে চায় না। ওই দাম চাইলে বলে চামড়া ছেড়া, নষ্ট হয়ে গেছে, ছোট ইত্যাদি। বাধ্য হয়ে কম দামেই বিক্রি করতে হয়।’

আমলাপাড়া বড় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল কাদির বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও চামড়ার দাম কম। ২ লাখ টাকার কোরবানির গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। ছাগলের চামড়া কোন দাম নেই। এভাবে চলতে থাকলে একসময় চামড়া ব্যবসা কেউ করবে না।’

উল্লেখ্য এবছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঢাকার জন্য লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম গরুর প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। এছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা, বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও