শ্রমিককে চাকরিচ্যুতের হুমকি দিলে ব্যবস্থা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৪০ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২১ শনিবার

শ্রমিককে চাকরিচ্যুতের হুমকি দিলে ব্যবস্থা

১ আগস্ট খুলছে কারখানা। কিন্তু লকডাউন শেষ হবে ৫ তারিখ। সকল গণপরিবহন বন্ধ থাকলে কিভাবে ফিরবেন শ্রমিকরা? এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দিনভর দেখিয়ে দিয়েছেন তারা। ট্রাক, ভ্যান, ইজিবাইক আর পায়ের উপর ভরসা করে ছুটে এসেছেন ঢাকায়। অবর্ননীয় দুর্ভোগ আর ভোগান্তিকে সঙ্গী করেই ফিরেছেন তারা। গাড়ি বন্ধ রেখে কারখানা খোলার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্রমিকেরা। ক্লান্ত শ্রান্ত দেহে মালিকদের দোষারোপ করতেও ভুলেননি।

৩১ জুলাই শনিবার দিনভর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নারায়ণগঞ্জে মানুষদের ফিরে আসতে দেখা যায়। কর্মস্থলে যোগদানের জন্য যে যেভাবে পারছেন সেভাবেই ফিরে এসেছেন। ক্রমাগত গাড়ি বদলিয়ে আর হেঁটে অসুস্থ হয়েছেন অনেকেই। তবুও তাদের কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই। ঈদের ছুটি আনন্দের বদলে ভোগান্তি হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে ২টি বছর জুড়ে।

ময়মনসিংহ জেলা থেকে পিকআপের সহায়তায় বাড়ি ফিরেছেন নাইম ও তার পরিবার। একই পরিবারে ৪ জনই ফতুল্লার বিভিন্ন কারখানায় কাজের সাথে যুক্ত। ভেবেছিলেন ৫ তারিখে ফিরবেন নারায়ণগঞ্জে। কিন্তু কারখানা খোলার খবরে শনিবার সকালেই রওনা দিয়েছেন। বিকেলে সাইনবোর্ড মোড়ে দাঁড়িয়ে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি এডভান্স গার্মেন্টসে কাজ করি। আমাগো সবাইরে কইসে তাড়াতাড়ি কামে লাগতে। ছাঁটাই করার কথা কয়নাই কিন্তু শুনছি ৫ দিনের বেতন কাইটা রাখবো। ৫ তারিখে এমনিতেও কষ্ট কইরাই আসা লাগবো। তার চাইতে এখনই চলে আসছি এইটাই ভালো। আজীবন বাড়ি যাইতে ৩০০ টাকার বেশী লাগে নাই। আজকে বাড়ি থিকা ফিরতে দেড় হাজার টাকা শ্যাষ।

একই মন্তব্য করেন মেট্রো গার্মেন্টসে কর্মরত জাহিদ হাসান। ঈদের ছুটি বরিশাল নিজের পৈত্রিক ভিটায় কাটিয়েছেন। তার দাবী অন্তত ১৫ কিলোমিটার পথ কেবল হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন। প্রখর রোদে ফেরীতে দাঁড়িয়ে চোখের সামনে নারীদের অসুস্থ হতে দেখেছেন। তবুও কাজের জন্য ফিরেছেন ট্রাক, পিকআপ আর ইজিবাইকে চেপে। ভোগান্তির ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, ভোগান্তি আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

কারখানা শ্রমিকদের এমন ভোগান্তির বিষয়ে বিকেএমইএ’র সহ সভাপতি (অর্থ) সম্পাদক সোহেল সারোয়ার মোর্শেদ বলেন, আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিলো ঈদে যেন তারা বাড়িতে না যায়। তারপরেও যারা গেছেন তাদের ছাড়াই আমরা কাজ শুরু করতে চেয়েছি স্বল্প পরিসরে। কিন্তু তারা যে যেভাবে পেরেছেন ছুটে এসেছেন। আমরা এখনও বলছি, যারা গ্রামে আছেন তাদের ৫ তারিখের পর এলেও চাকরি বহাল থাকবে। এনিয়ে ভয়ের কোন কারন নেই।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে বিকেএমইএ’র সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকদের বলা হয়েছিলো তারা যেন বাড়িতে না যায়। কিন্তু আজ যা দেখলাম তা হতাশাজনক। আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ করেছি যেন শ্রমিকদের আইডিকার্ড দেখে তাদের জন্য বিশেষ বাস চালুর ব্যবস্থা করা হয়। ইতোমধ্যে লঞ্চ, বাস চালু করার খবর পেয়েছি। তবে শ্রমিকরা ৫ তারিখের পর যোগদান করতে পারবেন নিশ্চিন্তে। তাদের যদি চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেয়া হয় তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জে লকডাউনের শুরু থেকে যথেষ্ট কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। শনিবার দিনভর মানুষের ঢল দেখে কিছুটা হতাশ হয়েছেন তারাও। এ ব্যাপারে জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সালেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমরা লকডাউন বাস্তবায়নে রাতদিন কাজ করেছি। কিন্তু কারখানা খোলার খবরে সবাই ছুটে এসেছে। আমরা তারপরেও কাজ থেকে পিছিয়ে যাইনি। প্রথমে কথা ছিলো যারা যায়নি তারাই কারখানায় যোগদান করবে। কিন্তু এখন সবাই চলে আসায় মানুষের অনেক গ্যাদারিং হয়েছে। লকডাউন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমাদের নাভিশ্বাস দশা। মানুষ যদি নিজ থেকে সচেতন না হয় তাহলে কোনভাবেই এই লকডাউন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও