লকডাউনে কিস্তি আদায় বন্ধ হচ্ছে না

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৮ পিএম, ৩ আগস্ট ২০২১ মঙ্গলবার

লকডাউনে কিস্তি আদায় বন্ধ হচ্ছে না

দেশে চলমান করোনাভাইরাসে মহামারিতে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ক্রমশ হারে করোনায় সংক্রামণের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে তবু কঠোর লকডাউনেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে নেই এনজিও কর্মীদের কিস্তির টাকার জন্য চাপ।

বর্তমান দেশে করোনার আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ২ সপ্তাহের কঠোর লকডাউন বিদ্যমান রয়েছে।কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে দেশের সকল সরকারি বেসরকারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,মার্কেট অফিস আদালত,গণপরিবহন সহ সব কিছু বন্ধ রয়েছে।কিন্তু বন্ধ নেই কেবল স্বাবলম্বী হবার জন্য গরীব মানুষদের ঋণ প্রদানকারী এনজিওগুলো।যেনো পেটে লাথি দিয়েই আদায় করছে কিস্তির টাকা।কেউ দিতে অপরাগত প্রকাশ করলেই দেখানো হচ্ছে মামলা হামলার ভয়।

এলাকাগুলোতে ব্র‍্যাক,আশা,শক্তি,পল্লী মঙ্গল,সিএসই,ব্যুরো বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন এনজিও থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তি অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণ নিয়ে তাদের ব্যবসার কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়া অনেকে আবার ঋণ নিয়ে ইজিবাইক, থ্রি-হুইলার, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন কিনে তা চালিয়ে আয় করেন এবং ঋণের কিস্তি দেন। আবার অধিকাংশ এনজিও বিবাহিত নারীদের সমিতির মাধ্যমে ঋণ দিয়ে থাকে।

কিন্তু দেশে করোনার সংক্রামণ বৃদ্ধিতে কঠোর লকডাউন দেওয়ায় কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে।সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান,অফিস আদালত বন্ধ হলেও এখন এনজিও কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিস্তির জন্য ধরনা দিচ্ছেন, চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ ঋণগ্রহীতাদের।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ সদর, সিদ্বিরগঞ্জ, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁ, রুপগঞ্জ,আড়াইহাজার প্রতিটি থানার বিভিন্ন গ্রামের ঋণগ্রহীতারা অভিযোগ করে বলেন, এ সময়ে আমাদের খাবার যোগাড় করা কঠিন। তারপর এনজিও কর্মীরা মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে কিস্তি আদায় করছেন।’

ফতুল্লার লামাপাড়ার আবুল হোসেন বলেন, ‘আশা থেকে লোন নিয়ে একটি অটো কিনেছিলাম।কিন্তু দেশে এখন কঠোর লকডাউন চলছে এ অবস্থায় রাস্তায় গাড়ীলেই পুলিশের মাইর ও মামলা খেতে হচ্ছে। কিন্তু ওই এনজিও কর্মীরা এসে ঋণের টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন টাকা না দিলে অটো নিয়ে যাবেন।’

নারায়ণগঞ্জ সদরের মকবুল মিয়া জানান, গত বছর করোনার আগে শক্তি থেকে ঋণ নিয়ে কাপড়ের দোকানে মাল তুলেছিলাম কিন্তু লকডাউনের কারনে নিজেদের পেটের খাবারই জোগাড় করতে পারছি না সেখানে কিস্তির টাকার জন্য এসে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

জামতলার হুনফা বেগম জানায়, পল্লী মঙ্গল থেকে টাকা নিয়ে জামাইরে ব্যবসা করতে দিছিলাম।গত বছর করোনার কারনে খাইলো ধরা।এহন নিজে খাইতে ভাত পাই কিন্তু কিস্তির টাকা নিতে আইসা দাঁড়াইয়া থাকে। গলার উপর পারা দিয়া কিস্তির টাকা আদায় করছে। টাকা না দিলে মামলা করার ভয় দেখায়।

কাইয়েমপুরের হাজী আমান মিয়া জানায়, সিএসই থেকে টাকা নিয়ে ছেলেরে ছোট একটা বইয়ের দোকানের ব্যবসা দিয়ে দিছিলাম কিন্তু লকডাউনে দোকান বন্ধ। সব কিছু বন্ধ হলেও কিস্তি আদায় বন্ধ হয় না।প্রতি সপ্তাহে বাড়িতে কিস্তির টাকা আদায় করতে যথা সময়ে এসে দায় থাকে কিস্তির লোকেরা।

নাম প্রকাশ না করার সত্ত্বে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায়কারী কর্মচারী বলেন, ‘আমরা চাকরি করি। প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে টাকা আদায়ে। ঠিকমত কিস্তির টাকা আদায় করে অফিসে জমা দিতে না পারলে বেতন বন্ধ। এমনকি চাকরি হারাতে হবে।’


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও