কর্মস্থলে ৮০ শতাংশ শ্রমিক

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:২০ পিএম, ৩ আগস্ট ২০২১ মঙ্গলবার

কর্মস্থলে ৮০ শতাংশ শ্রমিক

শিল্প কারখানা অধ্যুষিত নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ কারখানায় ৮০ শতাংশ শ্রমিক যোগদান করেছে। তবে আগামী ৫ তারিখের পরেও যদি কোন শ্রমিক যোগদান করে তাহলে তা নিয়ে আপত্তি করবে না কারখানা মালিকরা এমনটিই জানিয়েছেন তারা। যদি কোন মালিক শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও কথা জানিয়েছেন বিকেএমইএ’র সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

১ আগস্ট থেকে কারখানা খুলে দেয়ার পর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তড়িঘড়ি করে ফিরে এসেছেন শ্রমিকরা। গাড়ি স্বল্পতা ও ভোগান্তির কারনে অনেকেই আসতে পারেননি সঠিক সময়ে। এমন পরিস্থিতিতে চাকরি হারানো কিংবা বেতন কেটে রাখার ভয় অনেকেই পেয়েছেন। তবে এমন কোন কিছুই শ্রমিকের উপর আরোপ করা হবেনা বলে বার বার আশ্বস্থ করেছেন কারখানা মালিকদের সংগঠন নেতারা।

২ আগস্ট সকাল থেকে পূর্বের মতই শ্রমিকদের কর্মস্থলে যোগদান করতে দেখা গেছে। স্বাভাবিক নিয়মে সকলেই কাজে যোগদান করেছেন সময় মত। কারখানা কতৃপক্ষের দাবী, সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই প্রবেশ করানো হয়েছে কারখানায়। ভেতরেও মানা হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি। ফলে করোনাকালে তুলনামুলক নিরাপদ ভাবেই কাজ করতে পারবেন শ্রমিকরা।

আমানা গ্রুপের মালিক খন্দকার শরীফুল ইসলাম বলেন, আমাদের কারখানায় ৯০% শ্রমিক ইতোমধ্যে উপস্থিত হয়েছে। তারা কাজে যোগদান করছে স্বতস্ফুর্ত ভাবেই। বাকি যারা আসতে পারেনি তারাও চলে আসবে ৫ তারিখের মধ্যে। এদের কারোই বেতন কাটা কিংবা চাকুরিচুত্য করা হবে না। কারন তাদের উপরেই আমার কারখানা চলে। তাদের সাথে এই ধরণের আচরণ কারোই শোভনীয় নয়। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা পরিচালনা করছি।

একই বিষয়ে আরেক কারখানা মালিক মুর্শেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, আমার দুটি কারখানার ভেতর একটিতে ৭৫% এবং আরেকটিতে ৯১% শ্রমিক কাজে যোগদান করেছে। আমার কারখানার অধিকাংশ শ্রমিকরা এই ঈদে তাদের গ্রামের বাড়ি যায়নি। উল্টো তারা বিকেলে এসে খোঁজ নিতো কবে কারখানা খুলবে। যারা এর পরে যোগদান করবে তাদের জন্যেও কোন চিন্তার কারন নেই। আমরা সবাইকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে আন্তরিকতার সাথে কাজে নিযুক্ত করছি।

তবে মালিকদের এসব মন্তব্য কোনভাবেই গ্রহণ করতে পারছেন না শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। জেলা শ্রমিক সংহতির সমন্বয়ক অঞ্জন দাস বলেন, আমরা অতীতেও দেখেছি মালিকদের কথার সাথে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়না। যেভাবে শ্রমিকদের উপর দায় চাপিয়ে দিয়ে গ্রাম থেকে নিয়ে আসা হয়েছে তা অমানবিক। তারা আগে কোন কিছু খোলাসা না করে শ্রমিকদের ভোগান্তি দিয়ে নিয়ে এসেছে। শ্রমিকদের করোনা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এখন স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা হাস্যকর।

এই ব্যাপারে বিকেএমইএ’র সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমাদের সদস্যভুক্ত কারখানাগুলোতে প্রায় ৮০ ভাগ শ্রমিক কাজে যোগদান করেছে। আমরা আশাকরছি ৫ তারিখের পর ১০০ ভাগ শ্রমিকদের কাজে নিয়ে আসতে পারবো। এখন পর্যন্ত কাজে যোগদানের ব্যাপারে কোন অনিয়মের অভিযোগ আমরা পাইনি। সবাইকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজে যোগদানের জন্য বলা হচ্ছে। আমাদের সদস্যভুক্ত ৮শত কারখানার সবগুলোই খোলা রয়েছে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও