১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ : রমজানের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১৩ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২১ শুক্রবার

১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ : রমজানের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর

নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল বৌ বাজার এলাকার সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিল নামে সমিতির কর্ণধার রমজান আলীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে গ্রাহকেরা। শুক্রবার ২৭ আগস্ট হামলার সময়ে ওই বাড়ি থেকেও উত্তেজিতদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধরা তখন সড়ক অবরোধ করে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের শান্ত করেন।

গ্রাহকদের দাবি, আর্থিক মুনাফা লাভের আশায় জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ নগদ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিল নামের ওই সমিতিতে। মাসিক সঞ্চয়, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় (ডিপিএস) ও দুই থেকে দশ বছর মেয়াদে (এফডিআর) মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগ তারা। এক লাখ থেকে বিশ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন কেউ কেউ। গ্রাহকদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। গত বছরের মার্চ মাসে মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে লকডাউনের সময় থেকেই সমিতির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। গত বছর করোনা পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে গ্রাহকদের দশ থেকে পনের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দেন রমজান আলী। টাকা ফেরত দেবার আশ্বাস দিয়েও নানাভাবে গ্রাহকদের হয়রানি করছেন তিনি। পাওনা টাকার দাবিতে গত দুই মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে প্রতারক রমজান আলীর বাড়ি ঘেরাওসহ বিক্ষোভ করে আসছেন ভুক্তভোগীরা। রমজান আলীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেও এর কোন প্রতিকার হচ্ছে না।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর সকালে বৌ-বাজারে সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিল অফিসের সামনে কয়েক শতাধিক সঞ্চয়কারী ও বিনিয়োগকারী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে বিক্ষোভ ঠেকাতে সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আফরোজা হাসান বিভা সেখানে গিয়েও ব্যর্থ হয়। এছাড়াও সমিতির পরিচালক রমজানের বাড়িতে গিয়েও বিক্ষোভ করেন তারা। কিন্তু এতো কিছু করলেও কোন সমাধান হয়নি।

পরদিন ১৮ অক্টোবর সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিলের গ্রাহকরা মানববন্ধন করে। এসময় সমিতির পরিচালক রমজান মিয়ার গ্রেপ্তার সহ সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিলের গরীব অসহায় মানুষের সারা জীবনের উপার্জিত অর্থ দশকোটি টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।

সম্প্রতি রমজান আলীর পরিচালিত বৌ বাজারের সকল দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। এসব কারণে রমজান সম্প্রতি বৈঠক করে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও রক্ষা করেনি।

শুক্রবার দুপুর থেকেই গ্রাহকের বৌ বাজার এলাকাতে জড়ো হতে থাকে। বিকেলে তারা বাজারে বিক্ষোভ করে। তারা সেখানে রমজান আলীর বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়ি দখলের চেষ্টা করে। তখন বাড়ি থেকেও লোকজনদের উপর হামলা চালানো হয়। তখন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অবরোধ করা হয় সড়ক। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা কয়েকবার তার সঙ্গে রমজান আলীর সঙ্গে বৈঠক করি। তিনি বার বার নানা শর্তে টাকা দিবে প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটা করেনি। এসব নিয়ে বার বার তিনি ঘুরাতে থাকেন।

দিনমজুর রহিম মুন্সি। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজ করে একদিনের মজুরী পান ৫০০ টাকা। তার মধ্যে থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা জমিয়ে সঞ্চয় করেন। পরবর্তীতে সেই টাকা দীর্ঘমেয়াদী ও পরে এক সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা সমিতিতে বিনিয়োগ করেন। এখন সেই টাকা পাবেন কিনা কোন নিশ্চিয়তা নেই।’

আহাজারি করে তিনি বলেন, ‘খেয়ে না খেয়ে একটু একটু করে সঞ্চয় করেছি। করোনার শুরু থেকে এখনও কোন কাজ পাই না। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। এ টাকাটাই আমার শেষ সম্বল ছিল কিন্তু এটাও নিয়ে পালিয়েছে। আমি আমার টাকা ফেরত চাই। আমার যে আর কিছু নেই।’

আমেনা বেগম ছেলেকে রিকশা কিনে দিবেন আশা থেকে মানুষের বাড়িতে কাজ করে একটু একটু করে সঞ্চয় করেছিলেন এ সমিতিতে। কিন্তু এখন সেই টাকা নিয়ে পালিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের বাড়িতে কাজ করে একটু একটু করে জমিয়ে ছিলাম। এখন আমার টাকা নিয়ে পালিয়েছে। আমার ছেলের স্বপ্নটা শেষ করে দিয়েছে।’


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও