‘হোল্ডিংট্যাক্স’ বকেয়া ৩৪ কোটি

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:২৬ এএম, ৭ অক্টোবর ২০২১ বৃহস্পতিবার

‘হোল্ডিংট্যাক্স’ বকেয়া ৩৪ কোটি

এক বছর, দুই বছর করে জমতে জমতে অনেক হোল্ডারদের ট্যাক্স বকেয়া পড়েছে। হাজার বা লাখ টাকা নয়। কোটির ঘর ছাড়াতে চলেছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এর তিন অঞ্চল মিলিয়ে হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়ার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৮৫ লাখ ১ হাজার ২৫২ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া ট্যাক্স আদায়ে শিঘ্রই ব্যবস্থা নিতে চলেছে নাসিক কর্তৃপক্ষ। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে ট্যাক্স আদায়ের সুবিধার্থে। এক নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল, দুই সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চল ও তৃতীয় কদমরসুল অঞ্চল (বন্দর)। নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে মোট হোল্ডিং সংখ্যা ১৭ হাজার ১৮৮ টি। সিদ্ধিরগঞ্জে হোল্ডিং সংক্যা ২৬ হাজার ৫৬৯ টি এবং কদমরসুল অঞ্চলে মোট হোল্ডিং সংখ্যা ১৬ হাজার ৩৩২ টি।

জানাগেছে, চলতি অর্থবছরের জুন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের বকেয়ার পরিমাণ ১৩ কোটি ২৯ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের বকেয়ার পরিমাণ ১৭ কোটি ৮ লক্ষ ১ হাজার ১০৮ টাকা। কদমরসুল অঞ্চলের বকেয়ার পরিমাণ ৪ কোটি ৪৭ লক্ষ ৫৬ হাজার ৫৯৯ টাকা।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে হোল্ডিং ট্যাক্স খেলাপীর সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি। সিটি করপোরেশন প্রতিবছরের শুরুতে বকেয়া ট্যাক্স পরিশোধের নোটিশ করেন। সেই নোটিশে কিছুটা কাজ হয়, কিছুটা হয় না। তবে গত দেড়বছর ধরে কোভিডের কারণেও বকেয়া বেড়েছে। অনেকে বিল হাতে পেয়েও ট্যাক্স দিতে গড়িমসি করেন। একবছর পেরিয়ে গেলে ভাবেন সামনের বছর একসাথে দেয়া যাবে। এক সময় দেখা যায় দেখতে দেখতে ৬/৭ বছরের ট্যাক্স জমা হয়ে গেছে। বিলের বোঝাটাও বাড়ছে। তাছাড়া নাম উঠে যাচ্ছে কর খেলাপী হিসেবে। নোটিশ আসছে ।

ট্যাক্স আদায়কারীরা বলছেন, সিটি করপোরেশনের ট্যাক্স আদায়ের হার ভাল। বকেয়ার পরিমাণও কম নয়। হোল্ডারদের প্রতি বছরের মার্চ মাস থেকেই বকেয়া ট্যাক্স পরিশোধের নোটিশ করা হয়। তিনদফা নোটিশ করার পর নাসিক এ্যাকশনে যায়। প্রথম তিন দিনের নোটিশ দেয়া হয়। তিনপর আবার ৭ দিনের নোটিশ। সাতদিন পর আবার করা হয় ১৫ দিনের নোটিশ। এরপর চূড়ান্ত ক্রোকের নোটিশ করা হয়। সচরাচর ক্রোকের নোটিশ করার পর আরো ১০/১৫ দিনেও যদি হোল্ডার বকেয়া কর পরিশোধ না করে, এরপর ক্রোক অভিযান চালানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনটি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হয়। চলতি অর্থবছরে গৃহ ও ভূমির উপর কর বাবদ আয় হয়েছে ১২ কোটি ৫৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫৩ টাকা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করার জন্য সফটওয়ার প্রণয়ন করা হয়েছে। বিদ্যমান প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক ও নতুন গ্রাহকগণ এই অটোমেশনের আওতায় আসবে। এবং সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে গ্রাহকরা সেবা গ্রহণ করতে পারবে। ইতিমধ্যে এ প্রকল্পটির পাইলটিং কার্যক্রম চলমান আছে। পুর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে হোল্ডিং ট্যাক্স সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আসবে এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে।

সূত্রমতে, নারায়ণঞ্জ সিটি করপোরেশনের বয়স প্রায় ১০ বছর। পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলেও নিজস্ব আয়ের খাত খুব বেশি বাড়েনি স্থানীয় সরকারের এ প্রতিষ্ঠানের। নিজস্ব আয়ের সব খাত মিলিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করার পরও ব্যাপক উন্নয়ন করছে নাসিক। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাছে শতভাগ সেবা আশা করলেও কর পরিশোধে খুব একটা আগ্রহী নন নগরবাসী। ফলে দিনের পর দিন নগরবাসীর কাছে হোল্ডিং ট্যাক্স ও পানির বিলের মতো বকেয়া পাওনার পরিমাণ বেড়েই চলে। বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও আদায় করা সম্ভব হয় না এই পাওনা। বর্তমানে নগরবাসীর কাছে কেবল হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ৩৪ কোটি টাকার ওপরে পাওনা আছে সিটি করপোরেশনের।

নাসিক এর নিজস্ব আয়ের সবচেয়ে বড় খাত হচ্ছে হোল্ডিং ট্যাক্স। এই খাত থেকে আগামী অর্থবছরে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এই খাতে নগরবাসীর কাছে সিটি করপোরেশনের বকেয়া পাওনা রয়েছে ৩৪ কোটি টাকা। একের পর এক নোটিশ দিয়েও আদায় করা যাচ্ছে না এই বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স। খেলাপিদের মধ্যে যেমন রয়েছেন নি¤œ, নি¤œমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তরা, তেমনি রয়েছেন বিত্তশালীরাও। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে খেলাপির তালিকায়। বকেয়া ট্যাক্স আদায় না হওয়ায় সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হয় বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও