প্রধান শিক্ষককে বরখাস্তে ফাঁসছেন চেয়ারম্যান মাকসুদ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫০ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সোমবার

প্রধান শিক্ষককে বরখাস্তে ফাঁসছেন চেয়ারম্যান মাকসুদ

বন্দরে মুছাপুর ত্রীবেনী এলাকায় অবস্থিত শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মুছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করার ঘটনায় হাইকোটে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।

সম্প্রতি উচ্চ আদালত পিটিশনের শুনানী শেষে প্রধান শিক্ষক এরশাদ উল্লাকে বরখাস্ত অবৈধ ঘোষণা করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১২ অক্টোবর শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই স্কুল ম্যানেজিং কমিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক এরশাদ উল্লাহকে দুর্নীতির অভিযোগ এনে স্থায়ী বরখাস্ত করে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক এরশাদ উল্লাহ হাইকোর্টে ৮০৪২/২০২০ পিটিশন মোকদ্দমা দায়ের করেন। এ মোকদ্দমায় শিক্ষা বোর্ডের ডিজি, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, শিক্ষা বোর্ডের ইন্সিপেক্টর, নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার, বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকে বিবাদী করা হয়।

সরকারের পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি কোন শিক্ষককে ৬০ দিনের বেশী সাময়িক বরখাস্ত করা যাবে না। ৬০ দিনের বিশী সাময়িক বরখাস্ত রাখা হলে তাকে স্কুলের সকল বেতন ভাতা দিতে হবে। এবং শিক্ষা বোর্ডও একই পরিপত্র জারি করেছে।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে সাজানো ভাবে কাউকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বানানোর জন্য ম্যানেজিং কমিটির কিছু চক্র স্কুলের সভাপতিকে ভুল বুঝিয়ে প্রধান শিক্ষক এরশাদ উল্লাহকে প্রথমে সাময়িক ও পরে স্থায়ী বরখান্ত করে।

প্রধান শিক্ষক এরশাদ উল্লাহ জানান, হিসাব সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি তাকে বরখাস্ত করেছেন। কিন্তু হিসাব কমিটির প্রধান জাহাঙ্গীর মাস্টারের স্বাক্ষরের পরে আমি স্বাক্ষর করেছি। আমি কোন সামগ্রী ক্রয় করেনি। সামগ্রী ম্যানেজিং কমিটি ক্রয় করেছেন হিসাব তাদের মধ্যে গোলমাল হতে পারে। আমি এক টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমাকে অবৈধ ভাবে বরখাস্তসহ আমার বেতন ভাতা আটকিয়ে রেখেছে। গত জানুয়ারি মাসেও আমার নামে এমপিও’র টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু ইএফটির পাসওয়ার্ড বদলিয়ে তারা আমার বেতন সংক্রান্ত তথ্য সিটে লিপিবদ্ধ না করে ব্যাংকে দেয়ায় আমি আমার প্রাপ্য বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমাকে স্কুল থেকে সরানোর জন্য আগে থেকেই ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমাকে অবৈধভাবে বরখাস্ত করার আগে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর মাস্টার ও স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধি আব্বাস উদ্দিন মাস্টার আমাকে ৩ লাখ টাকা দেয়ার চেষ্টা করে যাতে আমি স্কুল থেকে স্বেচ্ছায় চলে যাই। আমি তাদের অনৈতিক আবদার মেনে নেইনি বলেই মূলত আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে আমি উচ্চ আদালতে পিটিশন মোকদ্দমা করলে উচ্চ আদালত পিটিশনের শুনানী শেষে আমাকে করা বরখাস্ত অবৈধ ঘোষণা করে শিক্ষা বোর্ডকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

সিনিয়র আইনজীবী হুমায়ূন কবির বলেন, কোন শিক্ষককে স্থায়ী বরখাস্ত করার ক্ষমতা স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নেই। আর করলে তা আইনগতভাবে অবৈধ এবং সরকারের আইনের অবমাননা করার সামিল। আর এ ধরনের অপরাধের জন্য অপরাধীদের আদালতে তলব করে ধিক্কারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।

বন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফুর রহমান বলেন, আমি হাইকোর্টের রায়ের কাগজ পেয়েছি। শামসুজ্জোহা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এরশাদ উল্লাহকে ম্যানেজিং কমিটি গায়ের জোরে অবৈধভাবে বরখাস্ত করেছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির অধিনে চাকরি। তবে কোন শিক্ষককে স্থায়ী বরখাস্ত করতে হলে শিক্ষা বোর্ডে অনুমোদন লাগবে। যেহেতু ম্যানেজিং কমিটি নিয়ম অনুসরণ না করে শিক্ষককে বরখাস্ত করেছে তাই এখন ম্যানেজিং কমিটির উচিত হবে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করা। তারা হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন না করলে আদালত অবমাননার সামিল হবে। তখন ম্যানেজিং কমিটিকে হাইকোর্ট তলব করতে পারে।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও মুছাপুর ইউপির চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন বলেন, আমরা এখনো কোর্টের আদেশের কপি পাইনি। কপি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। যদি হাইকোর্ট আমাদের বিরুদ্ধে এক তরফা রায় দেয়া হয়েছে। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। তবে বরখাস্তকৃত শিক্ষকে স্কুলে প্রবেশ করতে দেব না।

এ ব্যপারে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল আলম বলেন, প্রধান শিক্ষক এরশাদ উল্লাহকে দুর্নীতির দায়ে ম্যানেজিং কমিটি ৮৪/৮৯ এর গেজেট মোতাবেক স্থায়ী বরখাস্ত করেছে। আর এ বিষয়টি এমপি সেলিম ওসমান অবগত আছেন। এরশাদ উল্লাহ’র দুর্নীতির অনেক প্রমাণ স্কুলে রয়েছে। প্রয়োজনে আমরা আদালতে দাখিল করব।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও