করোনাতেও হাইস্কুলে গাদাগাদি

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৩৬ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২১ বুধবার

করোনাতেও হাইস্কুলে গাদাগাদি

করোনা সংক্রামণ বৃদ্ধির ফলে সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই ঘোষণা অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল খোলা রেখেছে। শুধু তাই নয় প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তথ্য চেয়ে ফরম বিতরণ, মডেল টেস্টের খাতা বিতরণ ও কয়েক মাসের বেতন সহ এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকাও নেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। যার জন্য গাদাগাদি করে রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের লাইনের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এতে করে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবকেরা বলেন, ‘স্কুলের শিক্ষকেরা টাকা কামানোর জন্য আজকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের করোনা ঝুঁকিতে ঠেলে দিয়েছে।’

৩১ মার্চ বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এ দৃশ্য। স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণের ফলে মূল ফটকের পাশ দিয়ে টিনের গেইট থেকে অফিস রুম পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাকদের দীর্ঘ লাইন। একজন আরেকজনের সঙ্গে গাঁ ঘেষে দাঁড়িয়ে আছেন। রোদের তাপে অতিষ্ট হয়ে উঠেন অভিভাবকেরা। তবে এ বিষয়ে শিক্ষক কিংবা পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষপও নেওয়া হয়নি। গেইটের দাঁড়ানোয়ানের হাতে হ্যান্ড স্যানেটাইজার দিয়ে রাখলেও সেটাও ঠিক ভাবে পালন করছেন না তিনি।

স্কুল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণের তথ্য চেয়ে ফরম বিতরণ, মডেল টেস্টের খাতা বিতরণ ও কয়েক মাসের বেতন সহ এসএসপি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা বাধ্যতামূলক পরিশোধের জন্য ঘোষণা দেয়া হয়। মাত্র কয়েকদিনের সময় দিয়ে গত বুধবার থেকে মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হয়। এছাড়াও বেতন পরিশোধ না করায় অনেক অভিভাককের সঙ্গে স্কুলের হিসাব রক্ষকরা খারাপ ব্যবহারও করেন। যার জন্য বাধ্য হয়ে সকলেই করোনা ঝুঁকির মধ্যেই স্কুলে আসেন।

আয়েশা বেগম বলেন, ‘সরকার যেখানে করোনা সংক্রামণ বৃদ্ধির জন্য স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। তখনই এ স্কুল কর্তৃপক্ষ সবার মোবাইলে বেতন পরিশোধ ও ফরম ফিলাপের টাকার জন্য এসএমএস পাঠিয়েছেন। যারা ৩ থেকে ৪ মাসের বেতন দেয়নি তাদের ফোন দিয়ে আজে বাজে মন্তব্যও করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ে ফরম ফিলাপ না করলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দিবে না সেটাও বলা হয়। যার জন্য বাধ্য হয়ে করোনার ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসতে হয়েছে।’

ফরিদা বেগম বলেন, ‘আমরা রোদে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু স্কুলের শিক্ষকরা আরামে এসির মধ্যে বসে গল্প করছে। মানুষের মধ্যে করোনা ছড়াতে পারে সে বিষয়ে তাদের কোন মাথাব্যাথা নেই। তাদের যদি এতো টাকার প্রয়োজন তাহলে লোকবল বাড়িয়ে আলাদা করে টাকা নিতো। কেন শত শত শিক্ষার্থীকের এক সঙ্গে সময় দেয়া হলো।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এসএসসির ব্যবসা শিক্ষা, বিজ্ঞান বিভাগ ও মানবিক শাখার সকল শিক্ষার্থীদের এক সঙ্গে ফরম ফিলাপের তারিখ দেওয়া হয়েছে। স্কুল বন্ধ ঘোষণা দিয়েছে আবার ফোন করে হুমকি দিয়েছে পরীক্ষা দিতে দিবে না। তাই সবাই একদিনেই চলে আসছে। যার জন্য এতো ভীড় হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘একদিনে দিলেও টাকা যেখানে নেওয়া হচ্ছে সেটা আলাদা ভাবে ভাগ করে নেওয়া হলে এমন গাদাগাদি হতো না। ব্যবসা শাখা, বিজ্ঞান বিভাগ ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক সঙ্গে একই জায়গায় না হলে ভীড় কম হতো। আমাদের রোদের দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে হতো না।’

নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে অভিভাবকদের যে চাপ ও ভীড় সৃষ্টি হয়েছে সেটা আগামীতে আর হবে না। আমরা সেভাবেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাপ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

প্রসঙ্গত সম্প্রতি করোনা সংক্রামণ হার ও মৃত্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রী ঘোষণা দেন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সকল কার্যক্রম অনলাইনে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও