স্কুল-কলেজে যাবে নারায়ণগঞ্জের ৬ লাখ শিক্ষার্থী

ইমতিয়াজ আহমেদ , স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৮ পিএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ রবিবার

স্কুল-কলেজে যাবে নারায়ণগঞ্জের ৬ লাখ শিক্ষার্থী

প্রায় দেড় বছর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার আভাস মিললো প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনায়। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় আগে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাইস্কুল পর্যন্ত খুলবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে। এ মাসেই পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু হচ্ছে। এ জন্য অন্যান্য শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক ব্যবস্থায়ও চলছে প্রস্তুতি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ জেলার হাইস্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা মিলে ৩০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে পৌণে ২ লাখ শিক্ষার্থী এবং ৫৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুলমুখী করতে সাড়ে ৭ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকার প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। এরমধ্যে হাইস্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায়ে শিক্ষক শিক্ষিকা সাড়ে ৩ হাজার এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পৌণে ৪ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন বলে জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই শিক্ষক শিক্ষিকারা স্কুলে উপস্থিত হয়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম শুরু করেছেন। নারায়ণগঞ্জের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার প্রস্তুতি দেখতে জেলা শিক্ষা অফিস ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলো পরিদর্শন করছেন। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলিয়ে মোট পৌণে ৬ লাখ শিক্ষার্থী প্রস্তুত। তাদের অভিভাবকরাও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিনে কয়েকটি কলেজ, মাধ্যমিক ও প্রাইমারী স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শিক্ষকরা আবারো শিক্ষার্থীদের সরাসরি পড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন ভেবে তাদের মধ্যেও বিরাজ করছে অন্যরকম অনুভূতি। বিষয়টা তারা অনেকটা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা হচ্ছে শিক্ষকদের প্রাণ। তাদেরকে দূরে রেখে মোটেই ভাল ছিলেন না তাঁরা। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দেশনা পেয়ে গত কয়েকদিন ধরে তারা স্কুলে হাজিরা দিচ্ছেন।

শহরের ও শহরতলীর কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষকদের ওয়ার্কশীট পর্যালোচনাসহ বিভিন্ন শ্রেণীকক্ষ পরিদর্শন করতে। ওই স্কুলের শিক্ষকরা জানায়, ‘আমরাতো নিয়মিতই স্কুলে আসছি গত দু’সপ্তাহ ধরে। শিক্ষক শিক্ষিকারা শ্রেণীকক্ষ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজেও অংশ নিচ্ছেন। কেউ কেউ জুম বা মোবাইলে ক্লাস নিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শন যদিও আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। তবুও কোভিড কালেও আমরা তা অব্যাহত রেখেছি। বিদ্যালয় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা চলছে। যাতে বিদ্যালয় চালু হলে শিক্ষার্থীদের কোন অসুবিধা না হয়। শিক্ষকরা জাতির মেরুদন্ড আর শিক্ষার মেরুদন্ড হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা। কিন্তু ২০ সালের মার্চ মাস থেকে সেই শিক্ষা থেকে জাতি পিছিয়ে। জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ১৪ টি নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৫৯ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৫টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৪টি অনার্স কলেজ, ২৩ টি স্কুল এন্ড কলেজ এবং ৬৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চালু হওয়ার খবরে জেগে উঠছে শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, স্কুলগুলো কেমন প্রস্তুতি নিচ্ছে এসব দেখেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও অন্যান্যরা। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিন্দ্র কুমার মন্ডল জানান, জেলার ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬২ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন জেগে উঠবে স্কুল খুললে। সবাই খুশি। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৭ হাজার ৮০৭ জন শিক্ষার্থী জেগে উঠবে। বন্দর উপজেলায় ৩৭ হাজার ৯৯৬ জন শিক্ষার্থী, সোনারগাঁও উপজেলায় ৫৪ হাজার ৮৩৭ জন শিক্ষার্থী, রূপগঞ্জ উপজেলায় ৭৪ হাজার ৪৯০ জন শিক্ষার্থী ও আড়াইহাজার উপজেলায় ৫২ হাজার ৫৬৪ জন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চালু হওয়ার অপেক্ষায় অভিভাবক মহল।

এখনো অবশ্য ঘোষণা আসেনি। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতিটা সকলকে আশাবাদি করে তুলেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনায় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বড়দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে যাবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যাওয়ার অধীর অপেক্ষায় রয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের পড়ালেখা উচ্ছন্নে গেছে। বাসায়ও ঠিকমত পড়তে বসে না। স্কুল খুললে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। তবে মনে মনে একটু ভয় লাগে। বাচ্চারাতো স্বাস্থ্যবিধি বুঝবে না। ভরসা হচ্ছেন শিক্ষকরা। তাঁরা দেখে না রাখলে সমস্যা হতে পারে।

করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দেশের সব স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার নির্দেশনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এরইমধ্যে আমি স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। সে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের টিকাও দেওয়া হয়েছে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনের মৃত্যুতে সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, ‘শিক্ষকদের পাশাপাশি একেকটা স্কুল-কলেজে কর্মরত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সবাইকে যেন টিকা দেওয়া হয়, সে ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিভিন্ন সংস্থা ও স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে যারা কাজ করে যাচ্ছে শুধু তাদের না, তাদের বাড়ির কাজের লোকজন, তাদের পরিবারের ড্রাইভারসহ অন্য সবাই যেন টিকার পায়, সে ব্যবস্থাটাও আমরা নিচ্ছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনাগুলো মেনে আমাদের স্কুলের ছেলেমেয়েদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি। যার জন্য কিছু ফাইজারের টিকা এরইমধ্যে দেশে এসে পৌঁছাচ্ছে। আরো পৌঁছাবে।’


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও