নারায়ণগঞ্জের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্ছ্বাস

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০২ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ রবিবার

নারায়ণগঞ্জের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্ছ্বাস

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে প্রায় দেড় বছর পর নারায়ণগঞ্জের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে ফিরেছে। দীর্ঘদিন পর তাদের প্রিয় প্রাঙ্গণে ফিরতে পেরে শহরের বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। শিক্ষার্থীদের বেসিনে হাত ধুয়ে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, তাপমাত্রা মেপে ও হাতে হ্যান্ডস্যানেটাইজর স্প্রে করে স্কুলের শ্রেনির কক্ষে প্রবেশ করানো হয়।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল কলেজে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা মুখে মাস্ক পড়ে বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস নিয়ে ক্লাসে তাদের প্রিয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করছেন। শিক্ষক শিক্ষিকারা দাঁড়িয়ে থেকে তাদের সাদরে গ্রহণ করেছেন। সেই সাথে স্বাস্থবিধির বিষয়ে তদারকি করছেন। যারা মাস্ক পড়ে আসছেন না তাদের মুখে মাস্ক পরিয়ে দিচ্ছেন। সকলেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রবেশ করছেন। করোনা সংক্রমণকে মাথায় রেখে ক্লাসগুলো কয়েক শিফথে ভাগ করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী অথবা শিক্ষক শিক্ষিকা অসুস্থ তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে আইসোলেশন।

শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার হাইস্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা মিলে ৩০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে পৌণে ২ লাখ শিক্ষার্থী এবং ৫৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। আর তাদেরকে স্কুলমুখী করতে গত কয়েকদিন ধরে সাড়ে ৭ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকার প্রস্তুতি চলে পুরোদমে। এরমধ্যে হাইস্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায়ে শিক্ষক শিক্ষিকা সাড়ে ৩ হাজার এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পৌণে ৪ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামরুল ইসলাম বলেন ‘দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যম্পাসে ফিরেছে এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না। অনেকদিন ধরে তাদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয় না। শিক্ষর্থীরা হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। তাদের ছাড়া শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কেউই ভাল থাকতে পারে না।’

ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ফিরেছে। দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিচরণ দেখে আনন্দ ধরে রাখতে পারছি না। ছেলে মেয়েরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

কমর আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক দিন পর ছাত্র ছাত্রীরা আবার ক্যাম্পাসে ফিরেছে। সেই আনন্দে তাদেরকে আমরা ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছি। আসলে যারা শিক্ষক তারা ছাত্র ছাত্রীদের ছাড়া ভাল থাকতে পারে না।’

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিন্দ্র কুমার মন্ডল বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার মধ্য দিয়ে জেলার ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬২ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নতুন করে জেগে উঠছে। এতে করে শিক্ষক শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সকলের মাঝেই আনন্দ বিরাজ করছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ১৪ টি নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৫৯ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৫টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৪টি অনার্স কলেজ, ২৩ টি স্কুল এন্ড কলেজ এবং ৬৫টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরেছেন। এর আগে আমরা এসকল প্রতিষ্ঠানে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। যাতে বিদ্যালয় চালু হলে শিক্ষার্থীদের কোন অসুবিধা না হয়।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও