ময়লা পানিতে হেঁটে স্কুলে আসলো শিক্ষার্থীরা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১৪ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ রবিবার

ময়লা পানিতে হেঁটে স্কুলে আসলো শিক্ষার্থীরা

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বন্ধ থাকার প্রায় ১৮ মাস পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলেছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে অন্যান্য স্কুলের শিক্ষার্থীরা আনন্দে স্কুলে আসলেও সেহাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দূর্গন্ধযুক্ত নোংরা ময়লা পানিতে হেঁটে আসতে হয়েছে।

অভিভাবকেরা বলছেন, ‘নোংরা পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা যাওয়া করতে হয়। সেজন্য আগ্রহ থাকলেও স্কুলে আসতে চায় না শিক্ষার্থীরা। তবে স্কুলের শিক্ষকরা বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতনদের লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি।’

১২ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ১০টায় সরেজমিনে সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়নের সেহাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, ‘স্কুল ফটকের পাশেই জমে আছে ময়লা আবর্জনা। তার ঠিক ১০ মিটার দূর থেকে অনুমানিক ২০০ মিটার সড়কে ভাসছে নর্দমার কালো নোংরা পানি। শিক্ষার্থীরা সেই পানি মাড়িয়ে চলাচল করছে। স্কুল লাগোয়া সড়কের ময়লা পানির দুর্গন্ধ স্কুলের শ্রেনির কক্ষের ভেতর থেকেই পাওয়া যাচ্ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘৫ দিন আগেও এ রাস্তায় হাঁটু পানি জমে ছিল। এ তিন দিন বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কমেছে। কিন্তু নোংরা ময়লা পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আবারও বৃষ্টি হলে এ রাস্তায় হাঁটু পানি জমার আশঙ্কা বাসিন্দাদের। তাছাড়া বর্তমানে যে পানি জমে আছে সেটা থেকে তারা কখনই মুক্তি পায়না বলে জানান। কারণ আশেপাশের ডাইং কারখানার কেমিকেল মিশ্রিত পানিতে সকাল সন্ধ্যা রাস্তা তলিয়ে যায়। আর এ পানিতে চলাচল করে বাসিন্দাদের পায়ে পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে।’

পঞ্চম শ্রেনির ছাত্র ফাহিম মৃধা বলেন, ‘অল্প বৃষ্টি হলেই এ রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ পানি কয়েক দিন ধরে থাকে। তখন এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। জুতা ভিজে যায়। অনেকে পা পিছলে পরেও গেছে।’

ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনির ছাত্র মুরাদ হোসেন বলেন, ‘সারা বছর এ রাস্তায় নোংরা পানি জমে থাকে। কিছুদিন আগেও এ নোরাং পানি দিয়ে গিয়ে অনলাইন পরীক্ষার খাতা জমা দিতে হয়েছে। কোন রিকশা আসতে চায় না। আসলেও ২০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা চায়।’

অভিভাবক মাকসুদা খন্দকার সুখী বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজকে প্রথম দিন স্কুলে এসেছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি খারাপ লেগেছে এ রাস্তাটা দেখে। পানি নোংরা হয়ে গেছে। এরকম নোংরা ময়লা পানিতে হেঁটে বাচ্চারা আসতেও চায় না। এসব পানি দিয়ে হেঁেট স্কুলে আসলে পায়ে চুলকানি হয়। বাচ্চারা বাসায় গিয়ে কান্না করে। আমাদের বাচ্চারা অসুস্থ হোক এটা আমরা চাই না। এজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন রাস্তার জলাবদ্ধতা নিরসন করা হোক।’

স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ আব্দুল বাসেদ বলেন, ‘এ রাস্তার আশে পাশে বিভিন্ন ডাইং কারখানা আছে। এসব ডাইং কারখানার কেমিকেল মিশ্রিত কালো নোংরা পানি এ ড্রেন দিয়ে যায়। যার ফলে সারা বছর এ রাস্তায় পানি থাকে। অল্পবৃষ্টি হলে কিংবা ভারী বৃষ্টি হলে এখানে হাটু পানি হয়ে যায়। এ পানি আধা কিলোমিটার রাস্তা পর্যন্ত জমে থাকে। এ পানির জন্য এ দুটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়ায় খুব কষ্ট হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরে এ জলাবদ্ধতা। প্রখর রোদে কিছুটা শুকনো থাকলেও বৃষ্টি হলে হাটু পানি হয়ে যায়। কারণ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথ ডাবল লেন সম্প্রসারণ কাজ চলমান থাকায় পানি নিষ্কাশনের রাস্তা সরু হয়ে গেছে। এতে পানি স্বাভাবিক গতিতে সরতে পারে না। তাছাড়া ড্রেনে ময়লা আবর্জনা থাকায় সারা বছর পানি জমে থাকে। এখন ডাইংয়ের পানি যাওয়ার জন্য ভিন্ন রাস্তা কিংবা এ ড্রেনই প্রসস্থ করা না হলে সমস্যা সমাধান হবে না।

সেহাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এ জলাবদ্ধতার জন্য শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমরা শিক্ষক-শিক্ষিরাও ভুক্তভোগী। এতে পানি জমে যে আমাদের ভ্যানে যাতায়াত করা ছাড়া উপায় থাকে না। জলাবদ্ধতার স্থানীয় সমাধানের জন্য স্কুলের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ময়লা ও ড্রেন পরিস্কার করলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি।`

ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন বলেন, ‘তাৎক্ষনিক জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা আপাতত ড্রেনগুলো পরিস্কার করে দিচ্ছি। এতে ড্রেনগুলো গভীর হবে। কিছুটা পানি কমে যাবে। তবে স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না। কারণ ডাবল রেল লাইন সম্প্রসারণের জন্য পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট বন্ধ করে দিয়েছে। এখন যে ব্যবস্থা আছে এতে ভালো ভাবে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। আমরা যতবারই রেলওয়ের কাছে দাবি জানিয়েছি ততবারই তারা বলেছে দ্রুত কাজ ধরবে। এখনও কাজ ধরেনি।’

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা বলেন, ‘এ বিষয়ে রেলওয়ের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করছি।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও