নারায়ণগঞ্জে নিষেধাজ্ঞায় ৩১২ শিক্ষক

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৮ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ সোমবার

নারায়ণগঞ্জে নিষেধাজ্ঞায় ৩১২ শিক্ষক

টিকা না নেয়ায় ৩১২ জন শিক্ষকের ক্লাসে যাওয়া নিষেধ। নারায়ণগঞ্জে অনেক শিক্ষক করোনার টিকা গ্রহণ করেননি। এদের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে রয়েছেন ২১২ জন। একশ জন আছেন প্রাথমিকে। মাধ্যমিক পর্যায়ের যেসব শিক্ষক এখনো টিকা গ্রহণ করেননি তাদেরকে শ্রেণিকক্ষে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র অফিসকক্ষে থাকবেন তারা। প্রাথমিকের শিক্ষকদের বিষয়ে কোনো প্রকার নির্দেশনা নেই। তারা প্রথম দিন থেকেই ক্লাসে যাচ্ছেন। জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ জানিয়েছে, রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষকরা যোগাযোগ করলে তাদের টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেছেন, স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আমেরিকার ফাইজার টিকা দেয়া হবে ১২ থেকে ১৭ বছরের শিক্ষার্থীদের। এর জন্য কাজ চলছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। করোনা নিয়ন্ত্রণ আছে বলেই বাস, ট্রেন, শিল্পকারখানা খুলেছে। অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণ আছে বলেই মৃত্যু ও সংক্রমণের হার কমে গেছে। মানুষ এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। করোনা নিয়ন্ত্রণ এমনি এমনিই হয়নি। এরজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের অনেক কাজ করতে হয়েছে।

জানাগেছে, শিক্ষকদের টিকা নেয়া বাকি থাকায় অভিভাবকদের কেউ কেউ সন্তানদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ কোন শিক্ষার্থীকে এখনো টিকা দেয়া হয়নি। যদিও জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে ক্লাসে গেলে শিক্ষার্থীদের জন্যে ঝুঁকি কম থাকবে। করোনার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় এমনিতেই অভিভাবকরা নানা শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসা, সকল শিক্ষক করোনার টিকা নিয়েছেন কিনা। যদি না নিয়ে থাকেন তাহলে শিক্ষার্থীদের সংস্পর্শে গেলে কোনো ধরনের সংক্রমণ তৈরি হবে কিনা। এ ধরনের প্রশ্ন করেছেন শহরের বাবুরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা জাহানারা খাতুন ও সদর উপজেলার মাসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক ইউনুস আলী। সন্তানদের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত এসব অভিভাবক।

১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর আগে সকল শিক্ষকের করোনার টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার কথা ছিল। কিন্তু, নারায়ণগঞ্জের ৩ শত ১২ জন শিক্ষক এখনো টিকা নেননি। টিকা না নেয়া শিক্ষকদের অনেকেই স্কুলে যাচ্ছেন। মিশছেন শিক্ষার্থীদের সাথে। নিচ্ছেন ক্লাসও।

জেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, জেলায় মোট শিক্ষক রয়েছেন ১১ হাজার। এরমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক চার হাজার এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাত হাজার জন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে গত ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টিকা গ্রহণের জন্যে রেজিস্ট্রেশন করেছেন তিন হাজার নয়শ জন। আর রেজিস্ট্রেশন করেননি একশ’ তিনজন। রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষকদের মধ্যে টিকা গ্রহণ করেছেন তিন হাজার নয়শ জন।

মাধ্যমিক পর্যায়ে জেলায় শিক্ষক রয়েছেন ৭ হাজার। এদের মধ্যে ছয় হাজার সাতশত আটাশি জন টিকা গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী, জেলায় এখনো পর্যন্ত মাধ্যমিক পর্যায়ের ২১২ জন শিক্ষক টিকা গ্রহণ করেননি।

জেলা শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব শিক্ষক এখনো টিকা নেননি তাদের শ্রেণিকক্ষে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস কক্ষে থাকবেন তারা। টিকা না নেয়া শিক্ষকদের মধ্যে মাতৃত্বকালীন অবস্থা, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, উচ্চ রক্তচাপ, দুগ্ধদানকারী মা এবং জটিল রোগে আক্রান্তরা রয়েছেন।’

প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিন্দ্র কুমার মন্ডল বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকদের একেবারেই অল্প সংখ্যকের টিকা বাকি। আশাকরি শীঘ্রই তা পুরণ হবে। তবে যেসব শিক্ষক এখনো টিকা নেননি তাদের মোটিভেশন দেয়া হবে। যারা যৌক্তিক কারণ ছাড়া টিকা নিচ্ছেন না তাদের বিরুদ্ধে গ্রহণ করা হবে আইনগত ব্যবস্থা।’

টিকা না নিয়ে ক্লাসে যাওয়া প্রসঙ্গে কথা হয় সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ইমতিয়াজের সাথে। তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষক রেজিস্ট্রেশন করেছেন তারা আসলে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। টিকা না নেয়ার পরও শিক্ষকরা যদি স্বাস্থ্যবিধি কড়াকড়িভাবে পালন করেন তাহলে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের কোনো ঝুঁকির মধ্যে পড়বে না।’

নারায়ণগঞ্জ জেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীকে করোনার টিকা দেয়া হবে। ৬ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা অফিস মোট ২ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৫ জন শিক্ষার্থীর একটি তালিকা ঢাকায় প্রেরণ করেছে বলে জানাগেছে। কবে নাগাদ নারায়ণগঞ্জের মাধ্যমিক ও উ্চ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা টিকা পাবে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার বলেন, মাত্র তালিকা পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ এলেই টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। আমরাও অপেক্ষায় আছি। অনেক শিক্ষক আমাদের কাছে জানতে চাইছেন। শিক্ষকদেরকে আবার তাগাদা দিচ্ছেন অভিভাবকগণ। সবে মাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হল। আমরা প্রতিদিন মনিটরিং করছি। কোথাও কোন ধরনের সমস্যা হয়নি।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, করোনার টিকা দেয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ২ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৫ জন শিক্ষার্থীর তালিকা পাঠানো হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে উপপরিচালক এর কাছে। জেলায় সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ১ হার্জা ৭০৮ জন, ৭ম শ্রেণি ১ হাজার ৭০২ জন, ৮ম শ্রেণি ১ হাজার ৭৭৩ জন, ৯ম শ্রেণি ২ হাজার ৫২৩ জন, ১০ম শ্রেণি ২ হাজার ৩০৬ জন ও এসএসসি পরীক্ষার্থী ২ হাজার ২৭৬ জন। জেলার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ৩৯ হাজার ৪১০ জন, ৭ম শ্রেণি ৩৮ হাজার ৩০৯ জন, ৮ম শ্রেণি ৩৬ হাজার ৬২৬ জন, ৯ম শ্রেণি ৩৫ হাজার ৩৪০ জন, ১০ম শ্রেণি ৩৩ হাজার ৪৪৫ জন ও এসএসসি পরীক্ষার্থী ২৯ হাজার ৪৫৭ জন।

এদিকে, শহরের কয়েকজন অভিভাবক জানান, অনেক শিক্ষকের টিকা নেয়া বাকি আছে। সে সকল শিক্ষক যেন স্কুলে না যায়। অফিস কক্ষ পর্যন্ত যেতে পারেন। কিন্তু ক্লাসে যাওয়া চলবে না। মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা জামিল হোসেন বলেন, স্কুল চালু হওয়াতে আমরা খুশি। তবে ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। নইলে সমস্যা হয়ে যাবে। করোনার টিকা দেয়ার লক্ষ্যে শুনেছি প্রতিটি স্কুল-কলেজ থেকে শিক্ষার্থীদের তালিকা জমা দেয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের টিকা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দিয়ে দেয়া উচিৎ। টিকা দিলেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু রাখা যাবে। বার বার স্কুল-কলেজ বন্ধ করতে হবে না।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও