নারায়ণগঞ্জের স্মৃতিতে সোহরাওয়ার্দী

এস এম শহিদুল্লাহ (লেখক ও গবেষক) : || ১০:১৪ পিএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ সোমবার

নারায়ণগঞ্জের স্মৃতিতে সোহরাওয়ার্দী

৮ সেপ্টেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্মদিন। বিখ্যাত রাজনীতিবিদ গণতন্ত্রের মানষপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক গুরু হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর মতো সোহরাওয়ার্দীও রাজনৈতিক কারণে একাধিকবার নারায়ণগঞ্জ ভ্রমণ করেছেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

আওয়ামী লীগের প্রাথমিক পর্যায়টি ছিল খুবই সংকটাপূর্ণ। ১৯৪৯-৫০ সালের দিকে ২ নম্বর গেট সংলগ্ন রহমতউল্লাহ ক্লাব (প্রকৃত নাম রহমতুল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট) চত্বরে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। রহমতউল্লাহ ক্লাবের সামনে রেললাইন বেঁকে যাওয়ার কারণে ট্রেন আসতে-যেতে সে স্থানে হুইসেল বাজাতো। ট্রেনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ ট্রেনের দরজায় দাঁড়ানো থাকতো। জনসভা ভন্ডুল করার উদ্দেশ্যে সরকারি দলের ভাড়াটিয়া গুন্ডারা ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় ‘পকেটমার পকেটমার’ বা ‘চোর চোর’ বলে হট্টগোল সৃষ্টি করতো। তখন সভাস্থলে জমায়েত জনগণ মনে করতো ট্রেনের দরজায় দাঁড়ানো পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাবে। সে সময় সমবেত জনগণ হুড়াহুড়ি করে সভাস্থল ত্যাগ করতো। এভাবে সরকারি দলের গুন্ডারা প্রায় সময়ই আওয়ামী লীগের সভা পন্ড করে দিতো। নারায়ণগঞ্জ রহমতউল্লাহ ক্লাবের জনসভাগুলোর কথা সোহরাওয়ার্দী সাহেবের জানা ছিল। তাই একবার সভা শুরুর আগেই তিনি বলে দিয়েছিলেন, রেলের বাঁশি বাজলে ভয় পাবেন না, সোহরাওয়ার্দী অ্যারেস্ট হলে তবে আপনারা অ্যারেস্ট হবেন।

গদ্য লেখক ও কবি শাহেদ আলী মজনু তাঁর রচিত `নকশি কথার হাট` গ্রন্থে সোহরাওয়ার্দীর নারায়ণগঞ্জ আগমন সম্পর্কে একটি মজার স্মৃতি বর্ণনা করেছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তখন পাকিস্তান গণপরিষদের বিরোধী দলের নেতা। তিনি বন্যা (১৯৫৫ সাল) পরিস্থিতি দেখতে এসে বাইতুল আমান-এ এসে উপস্থিত হন।...আমার মনে আছে, তিনি চারটি আলুর চপ এবং কয়েকটি সিঙ্গারা অনায়াসে শেষ করলেন। অতঃপর পানি খেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, গুডবয়। খান সাহেবের ছেলে মুস্তাফা সারওয়ার সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি সোহরাওয়ার্দী সাহেবকে বললেন, স্যার আপনিতো ওর বাবাকে চেনেন, ও আক্কাছ সাহেবের ছেলে। সোহরাওয়ার্দী সাহেব চোখ বড় বড় করে বললেন, আকাশ মিয়ার ছেলে? (সোহরাওয়ার্দী সাহেব বাবাকে আকাশ মিয়া আর আলমাছ চাচাকে আলিমাস নামে ডাকতেন।) ইয়েস মাই সন, কাম টু মি। তিনি আমাকে এবং মুস্তফা সারওয়ারের ছোট বোন জাহানারাকে তাঁঁর দুই পাশে দাঁড় করিয়ে তাঁর ক্যামেরাটি মুস্তাফা সারওয়ারের হাতে দিয়ে আমাদের ছবি তুলতে বললেন।’

বর্তমান ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর গেট হতে পূর্বদিকে বি আই ডব্লিউ টি`র টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী নামে ‘শহীদ সোহরাওয়ার্দী সড়ক’ নামকরণ করা হয়। এর পূর্বে এ সড়কটির নাম ছিল `চেম্বার রোড`। ১৮৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে মনোনীত ইংরেজ কমিশনার জে ডব্লিউ চেম্বার এর নামের অধ্যাক্ষর দিয়ে ছিল রোডটির নাম।

পরে চেম্বার রোডটিকে ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের নামে `লিয়াকত খান এ্যাভিনিউ` নামে নামকরণ করা হয়েছিল।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও