ইলিশ-পেঁয়াজে অহিনকূল সম্পর্ক কাম্য নয়!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৪ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ শনিবার

ইলিশ-পেঁয়াজে অহিনকূল সম্পর্ক কাম্য নয়!

ইলিশ মাছ। খুব স্বাদের মাছ। বাংলদেশের ইলিশ মাছের কদর বেশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। প্রতিবছর দুর্গা পূজোর সময় শারদীয় শুভেচ্ছা হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ভারতকে শুভেচ্ছা স্বরূপ পদ্মার বড় ইলিশ মাছ উপহার হিসেবে পাঠায়। বিনিময়ে ভারত কোন উপহার সামগ্রী দেয় বলে কোন খবর কোনদিন গণমাধ্যমে বের হয়নি। তবে প্রতিবছর ইলিশ মাছ উপহার পাওয়ার পরপরই ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দেয়। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে এই অঘটনটি ঘটে। কেনো ঘটে এর নির্দিষ্ট কোন ব্যাখ্যা বা কারণ জানা যায়না। ইলিশ মাছ উপহার পেয়ে ভারত খুশি হওয়ার কথা। অথচ প্রতিবছর ইলিশ মাছ পাওয়ার পরপরই পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দেয় ভারত। বিষয়টি বোদ্ধামহলে খুব আলোচিত ইস্যু। তবে কি ইলিশ পেয়ে তারা রেগে যান।

ইলিশ মাছ উপহার পেয়ে ভারত অসন্তুষ্ট হোক-এমনটা কারো কাম্য নয় বলে মনে করছেন বোদ্ধামহল। তাদের মতে, ইলিশ পেয়ে পেঁয়াজ বন্ধ করে দিলে তবেতো ইলিশ-পেঁয়াজে অহিনকুল সম্পর্ক তৈরী হবে। কোন বৈরিতা বাঙালি জাতি কামনা করেনা। কিন্তু না চাইতেও বৈরী মনোভাব তৈরী হচ্ছে। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দেয়াতে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম সেঞ্চুরী হাঁকাচ্ছে। দিনে দিনে দাম বাড়তেই থাকবে। ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানী চালু হলে দামটা আবার স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরবে। সে তো দিল্লী বহুদূর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, বর্তমানে দেশের কাঁচাবাজারে পেঁয়াজের জন্য সেপ্টেম্বর মাস একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মাসটি এলেই পেঁয়াজের দাম নিয়ে হুলুস্থুল কা- ঘটতে দেখা যায়। দেশের বাজারে যখন পেঁয়াজের মূল্য বেড়েই চলেছে ঠিক তখনই পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বেনাপোল বন্দর দিয়ে বন্ধ হয়ে গেল ভারত থেকে পেঁয়াজের আমদানি। আর এ ঘটনাটি ঘটলো ভারতে ইলিশ রপ্তানির দিনই। সোমবার বিকালে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এদিন বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ১২ টন ইলিশ। ফলে গতবারের মতো এবারও দাম বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গত বছর রান্নার এই অন্যতম অনুষঙ্গ পণ্যটির কেজি বাড়তে বাড়তে ৩০০ টাকার কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। এ কারণে ভারতের পক্ষ থেকে পেঁয়াজ রপ্তানির বন্ধের খবরে এখনই ভীত হয়ে পড়েছেন ক্রেতা সাধারণ। দেশের সকল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ রয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার আজিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ভারত কোনো ঘোষণা ছাড়াই মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। পারস্পারিক বাণিজ্যে সমঝোতার বিকল্প নেই। তারা রপ্তানি বন্ধ না করে পেঁয়াজের আমদানিকারকদেরকে সময় বেঁধে দিতে পারতেন। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্তটা নেয়া ঠিক হয়নি।

জানা গেছে, ভারত নিজেদের বাজার সামাল দিতে গত বছরের ১৩ই সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে ন্যূনতম প্রতি টনের মূল্য ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয়। ৩০শে সেপ্টেম্বর রপ্তানিই নিষিদ্ধ করে। এরপর দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম সেঞ্চুরি-ডাবল সেঞ্চুরিও অতিক্রম করে। নভেম্বরে ৩০০ টাকা ওঠে পেঁয়াজের কেজি। তখন মিয়ানমার, চীন, মিশর ও পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ এনে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে সরকার। বিমানেও দেশে আসে পেঁয়াজ।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, চলতি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে অহিনকুল সম্পর্ক লালিত হল-তার যেন ইতি ঘটে। নইলে সাধারণ মানুষ পেঁয়াজ নিয়ে ভোগান্তিতে পড়বে। সমালোচনাকারীরা অযথা বাড়াবাড়ি করে ভারত বিরোধীতার তুবড়ি ছোটাবে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও