বিচলিত নন আইভী সেলফিতে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২১ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০২০ শুক্রবার

বিচলিত নন আইভী সেলফিতে

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী তার পরিবার স্বজনদের বিরুদ্ধে শহরের দেওভোগের জিউস পুকুর সহ লক্ষীনারায়ণগ জিউর মন্দিরের দেবোত্তর সম্পতি দখলের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন জেলার সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

১১ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তবে এতে কোন ধরনের বিচলিত ভাব দেখা যায়নি মেয়র আইভীকে। বরং অনেকটা সাবলীলভাবেই একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হাসিখুশী অবস্থায় দেখা গেছে। ওই অনুষ্ঠানে একজন আওয়ামীলীগ নেত্রীর সঙ্গে সেলফি তুলতেও দেখা গেছে।

জানা গেছে, দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, দেবোত্তর সম্পত্তি দখল ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার প্রতিবাদে এবং আইন প্রণয়ন সহ সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিতে প্রতিবাদের ডাক দেয় জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দরা।

তবে বেশ নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ব্যানার পাল্টে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও তার পরিবার স্বজনদের বিরুদ্ধে দেওভোগের জিউস পুকুর সহ লক্ষীনারায়ণ জিউর মন্দিরের দেবোত্তর সম্পতি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন শেষে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে করে উপস্থিতিদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠে।

দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ এবং জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ওই দিন দুপুর ২টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের প্রতিবাদে কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়। সেই মোতাবেক দুপুর ২ টার পরে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দরা একে একে জড়ো হতে থাকে। সেসময় প্রেস ক্লাবের সামনে মূল ব্যানার নিয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন সহ নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত হন। তারা বিভিন্ন থানা ও উপজেলা পর্যায়ের সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের দিক নির্দেশনা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি সফল করার অনুরোধা জানান। সেসময় শিখন সরকার শিপনও বার বার মাইকে নানা দিক নির্দেশনা সহ সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে সবাইকে প্রতিবাদে আসার আহবান জানান।

ওই সময় জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদেনের আয়োজনে মূল ব্যানার নিয়ে নেতৃবৃন্দরা দাঁড়িয়ে কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু করে। সেই ব্যানারে ‘দেশব্যাপী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করা চলবেনা। মন্দির, মঠ, গীর্জায় ও প্যাগোডায় হামলা বন্ধ কর, করতে হবে। সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিতে গণঅনশন ও বিক্ষোভ মিছিল করার কথা উল্লেখ ছিল।’

তাছাড়া সেই ব্যানারে অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জীকে রাখা হয়েছিল।

এই ব্যানার নিয়ে নেতৃবন্দরা প্রেস ক্লাবের সামনে কার্যক্রম শুরু করে। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রেখে মাঠ গরম করার সময় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপনের কাছে কয়েক দফায় ফোন আসে। ফোন আসতেই মাইকের বক্তাকে থামিয়ে দেন তিনি। একাধিকবার তিনি বক্তব্য থামিয়ে দিয়েছেন। কে বা কারা তাকে ফোন করেছেন তা জানা যায়নি। তবে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যানার পাল্টে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে করা স্মারকলিপির ব্যানার খোলা হয়। এই ব্যানারে মেয়র আইভী ও তার পরিবার স্বজনেরা দেওভোগের জিউস পুকুর সহ লক্ষীনারায়ণ জিউর মন্দিরের দেবোত্তর সম্পতি দখলের অভিযোগ তোলা হয়।

অনুষ্ঠানের অতিথি সহ সব কিছুই ঠিকঠাক থাকলেও বিষয়বস্তু পরিবর্তন করা হয়। পাল্টে দেয়া ব্যানারের সাথে বিষয়বস্তুর পার্থক্য দেখা যায়। এছাড়া আয়োজকদের ক্ষেত্রেও একটি সংগঠনের সংযুক্তকরণ দেখা যায়। উপস্থিতিদের অনেকে এ নিয়ে কানাঘুষা শুরু করেন। তবে এই অন্যায়কেও প্রশ্রয় দেয়া যাবেনা বলে সবাই একমত প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানান।

মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে হাজির হন। তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এই অভিযোগ তুলে স্মারকলিপি প্রদান করেন। আর মানববন্ধনে বক্তারা মেয়র আইভীর এ বিষয়কে তুলে ধরে ঝাঁজালো বক্তব্য রাখেন।

এদিকে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে জিউস পুকুর নিয়ে বিষোদাগারে বৃহস্পতিবার জেলা জুড়ে আলোচনা সমালোচনা বিরাজ করলেও বৃহস্পতিবার মেয়র আইভীকে মোটেও বিচলিত দেখা যায়নি। বরং বৃহস্পতিবার দুপুরে মেয়র আইভী তার বেশ কিছু সহকর্মী ও অনুগামী নেতাকর্মীর সঙ্গে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ওই বিয়ের অনুষ্ঠানের বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা হয়। যাতে দেখা গেছে মেয়র আইভীকে হাস্যোজ্জল অবস্থায়। এছাড়া আওয়ামীলীগ নেত্রী রানু খন্দকারের সঙ্গে একসঙ্গে সেলফি তুলতেও দেখা গেছে মেয়র আইভীকে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও