‘নিজে খাইতে পারি নাই, ওরে কি খাওয়ামু?’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৯ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০২০ রবিবার

‘নিজে খাইতে পারি নাই, ওরে কি খাওয়ামু?’

দেড় মাসের শিশু ইয়াসিন। ক্ষুধায় অনবরত কেঁদে চলেছে। কিন্তু মা খেতে দিবে কি? নিজে ভালোমতো খেতে না পারায় সন্তানকেও দুধ খাওয়াতে পারছেন না আসমা আক্তার। কারণ আগুনে পুড়েছে ঘরের সকল খাবারও।

১৫ নভেম্বর রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাঁশমলি বাজার সংলগ্ন বস্তিতে সরেজমিনে এ চিত্র দেখা যায়। ১৪ নভেম্বর সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বস্তিটিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায় যে, এ ঘটনায় ৮ ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এবং এতে ১৪ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের মধ্যে প্রত্যেই দিনমজুর বলে জানা যায়।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পুরোনো ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার পর খালি ঘরে তাদের ফেলে রেখে যাওয়া আবর্জনা পোড়ায় বাড়িওয়ালা। সেই আগুন বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে পুরো বাড়িতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনে পুড়ে যাওয়া চালের ড্রাম পরে আছে মেঝেতে। কারো আবার রান্না করা ভাতও পুড়েছে। পোশাক শ্রমিকের কষ্টের টাকায় শখ করে কেনা খাটটিও বাদ পরেনি আগুনের কবল থেকে।

পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া ঘরেই মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে মহিদুল। বস্তির সামনেই তার মুদির দোকান। দোকানের মূলধনের বেশ কিছু টাকা ছিল সেই ঘরে। ভাই গার্মেন্টসের বেতন পেয়েছিল। সেই টাকাও ছিল ঘরটিতেই। মহিদুলেরই ভাইয়ের বউ আসমা আক্তার।

আসমা বলেন, ‘বাচ্চারে কি খাওয়াইতাম? কালকে ঘরের চাল-ডাল সহ পানির গ্লাসটা পর্যন্ত পুইড়া গেছে। কালকের তো হুগনা খাবার খাইয়া রইছি। বুকে দুধ অয় না। তাইলে ওরে কি খাওয়ামু? ওরে যে আলাগা খাওয়াইতাম, তারও উপায় নাই।’

তবে বাড়িওয়ালা তাদের প্রত্যেককে ৫ কেজি করে চাল দিতে চেয়েছেন আপাতত খাওয়ার জন্য। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়ারা তা নেননি।

মরিয়ম বেগম বলেন, ‘চাল দিয়া কি করুম? ভাত রান্দনের জন্য পানি লাগে, পাতিল লাগে। খাওয়ার লেইগা অন্তত লবন লাগে। কই পামু? তাই আমরা সেই চাল নেই নাই।’

তবে স্থানীয় মেম্বার মো. শামীম তাদের প্রত্যেক পরিবারকে এ হাজার টাকা করে দিয়েছেন বলে জানা যায়। সেই টাকা দিয়েই শুকনো খাবার কিনেছেন তারা।

দিনমজুর সুজন মিয়া বলেন, ‘আমরা যে যেই পোশাক পইরা রইছি, তার কাছে শুধু সেই পোশাকই আছে। এছাড়া আর কিছু নাই। আর এদিকে বাড়িওয়ালা নিজের ভাঙ্গা ঘর ঠিক করানের লেইগা মিস্ত্রি আনতাছে। অথচ আমাগো কি হবো, কি খামু, কি পিনমু, কিচ্ছু কয় নাই সে।’

বাড়িওয়ালা বাবুল মীরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘মূলত বৈদ্যুতিক তারের কারনেই আগুনটি ব্যপকভাবে ছড়িয়েছে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও