৭০০ বিঘা জমিতে ধান চাষের আবেদন

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:৫৬ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার

৭০০ বিঘা জমিতে ধান চাষের আবেদন

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বটতলা, আমৈর কড়ইবাড়ী ও কান্দাপাড়া এলাকার কৃষি জমি ও তৎসংলগ্ন কয়েকটি বিল অর্থাৎ নীচু জমি এখন মরুভূমির মত হয়ে থাকে।

সেচ ব্যবস্থা না থাকায় গত ২ বছর যাবত এরুপ দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসেও কোন সুফল পায়নি কৃষকেরা। কৃষি জমিগুলো এখন প্রায় বিলুপ্তপ্রায়।

ধামগড় ইউনিয়নে প্রায় ৭শত বিঘা জমিতে প্রতি বছর ধান চাষ করার ফলে স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত ধান থেকে তাদের সমগ্র বছরের চালের চাহিদা পূরণ করতে পারলেও গত ২ বছর পানি সেচের অভাবে সকল জমিগুলো অনাবাদী রয়ে গেছে। এতে করে স্থানীয় কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হবার পাশাপাশি চড়া দামে বাজার থেকে চাল কিনে খাবার পরিস্থিতির তৈরী হয়েছে বলে জানা গেছে। চলতি বছরে বন্দর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের দিকে তাকিয়ে আছে কৃষকরা।

আমৈর এলাকার হাজী বেলায়েত হোসেন, আঃ রশিদ মাস্টার, আনিসুর রহমান, তোফাজ্জল হোসেন বাদল, আবুল কালাম, মিলন হোসেন ও মোখলেছুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, উল্লেখিত জমিগুলোতে কয়েক শত বছর ধরে ধান চাষ করা হচ্ছে কিন্তু ২ বছর ধান চাষ করা হচ্ছেনা এবং জমিগুলো অনাবাদী হিসেবে পড়ে আছে ভাবতেই অবাক লাগে।

এখানে ধান চাষের ফলে অত্র অঞ্চলের কৃষকের চালের চাহিদা পূরণ হবার পাশাপাশি চাল কেনার বাড়তি কোন চিন্তা ছিলনা এবং অন্যত্র চাল বিক্রি করে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হতো। অত্র পানি সেচ স্কিম পরিচালনা করে আর্থিক লোকসান হয় এবং এটি পরিচালনা করা প্রচুর ঝামেলাপূর্ণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সেচ প্রকল্পের পরিচালক অত্র প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছেন। সরকারীভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে অত্র প্রকল্প স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গিয়ে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই কৃষক ও কৃষিকে বাঁচাতে এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদ জানান, কৃষির বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিষয়টি লিখিত আকারে জানালে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।

বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার জানান, এর আগেও একই অভিযোগে আমি ও কৃষি কর্মকর্তা উক্ত কৃষি জমি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। কিন্তু সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে কেউ সহায়তা করেনি। সবকিছু ঠিক আছে বলে স্থানীয়রা জানায়। কৃষি জমিতে যদি চাষাবাদের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে সময়মত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে আমরা অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখি। এ বিষয়টি নিয়েও আমরা কাজ করছি।

বন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা সুলতানা জানান, নির্দিষ্ট সময়ে কৃষকেরা বিষয়টি জানায়নি বিধায় সময়মত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। আমরা সরেজমিনে খোঁজ নিয়েছি এবং বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। সমাধানের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।

ধামগড় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। ইউএনও’র সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটি প্রক্রিয়াধীন আছে ও অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে। বিগত ২ বছর উপজেলা প্রশাসন, কৃষি অধিদপ্তরসহ স্থানীয় চেয়ারম্যান বলেছিলেন এ বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও