রোজিনা আক্তার নার্ভাস

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৩ পিএম, ৫ জানুয়ারি ২০২১ মঙ্গলবার

রোজিনা আক্তার নার্ভাস

নারায়ণগঞ্জে সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুই বারের নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সদস্য রোজিনা আক্তার অর্ধশত নারীর শেষ গোছল করালেও সবশেষ দুটি গোছল করাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

রোজিনা তার ফেসবুকে লিখেন, কখনো ভাবিনি মানুষের মৃত্যু হলে গোসলের কাজটা আমি করবো। এবং এত গুণীজনদের গোসল করাতে পারবো। ৩ জানুয়ারী পর্যন্ত ৫০ জন গোসল করেছি। এর ভিতরে কেউ ছিল ডাক্তার কেউ ছিল ডাক্তারের মা আবার কেউ ছিল ডাক্তার এর স্ত্রী। এর পাশাপাশি নেতৃত্ব স্থানের কেউ ছিল। মায়ের বয়সী মেয়ের বয়সী বোনের বয়সী অনেককে গোসল করেছি। এমনকি আগুনে পুড়ে যাওয়া ৯৫ পার্সেন্ট এক বোনের মৃত্যু হয়েছে। ওই লাশ গোসল করেছি কিন্তু আমি নার্ভাস হয়নি। গতকাল দুইজন করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির গোসল করাতে গিয়ে। এক মায়ের গোসল করার সময় আমি একটু নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। এরপর থেকে আমার শরীরটা ভীষণ খারাপ। আল্লাহপাক যেন আমাকে এরকম করেন এবং দয়া করে।

প্রসঙ্গত করোনা সংক্রমনকালিন সময়ে করোনার ভয়ে স্বজনেরাও লাশ ধরছিলেন না। প্রতিবেশীরাও যখন এগিয়ে আসছিলেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাশ পড়ে থাকতো বাড়িতে ও সড়কের সামনে। সে সময় লাশ দাফন কাফনে এগিয়ে আসেন রোজিনা আক্তার।

আগে কখনো লাশ গোসলের অভিজ্ঞতা না থাকলেও পরবর্তীতে শিখে নেন নিয়মরীতি। যত দিন করোনা থাকবে, তত দিন মৃতদেহের গোসল করানোর কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন রোজিনা। শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ নয় নারায়ণগঞ্জের বাহিরে গিয়েও করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়া নারীদের লাশ কাফন দাফন করেন তিনি। সেই সাথে করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই তিনি মাস্ক, লিফলেট ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। তার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে মরদেহ দাফনে গঠন করা হয় ‘মাসদাইর যুব কল্যাণ সংঘ (এমজেকেএস)-টিম রোজিনা কোভিড-১৯’।

আম্পানের মতো ঘূর্ণিঝড়ের রাতে কবর খোড়াতে হয়েছে এ নারীকে। শুরুতেই তিনি ঘোষণা দেন কোন মা বোন যদি মারা যায় তাদের গোসলের দায়িত্ব নেবেন তিনি। এরপর শুরু হয় কর্মকা-। একের পর এক মৃত নারীকে গোসল করাতে শুরু করেন তিনি। রোজিনা আক্তার জানান, প্রতিটি গোসলে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন হয় তার। ঢাকায় বিশালাকার বাড়ির এক ফ্ল্যাটের একজন নারী যখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন তখন আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেননি। ওই বাড়ির নীচে গোসল করাতে গেলেন তখনও এলো বাঁধা। শেষ দিকে ওই নারীর ফ্ল্যাটের ওয়াশরুমে গোসল করাতে হয়েছে। আম্পান ঝড়ের সময়ে রাত আড়াইটা পর্যন্ত ফতুল্লায় এক নারীকে গোসলে ব্যস্ত ছিলেন। আম্পানের আরেক রাতে মাসদাইর কবরস্থানে সারা রাত ছিলেন।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও