‘বক্তাবলী কান্নার’ টিজার প্রকাশ (ভিডিও)

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১৬ পিএম, ৮ জানুয়ারি ২০২১ শুক্রবার

‘বক্তাবলী কান্নার’ টিজার প্রকাশ (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলীতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এক দিনেই ১৩৯ জন শহীদের ঘটনার উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘বক্তাবলীর কান্না’ এর টিজার প্রকাশ পেয়েছে। ৮ জানুয়ারী ‘বক্তাবলীর কান্না’ সিনেমার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজএ ওই টিজার প্রকাশ পায়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসে একাত্তরের ২৯ নভেম্বর দিনটি ছিল নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য বেদনাবিধুর দিন। ওই দিন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার দুর্গম চরাঞ্চল বুড়িগঙ্গা নদী বেষ্টিত বক্তাবলীতে হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক হানাদার বাহিনী। স্বাধীনতা যুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে এক সাথে এত প্রাণের বিয়োগান্ত ঘটনা দ্বিতীয়টি আর নেই। সরকারী অনুদানে নির্মিত এ প্রামাণ্যচিত্রে তুলে আনা হয়েছে ১৩৯ জন শহীদ হওয়ার বেদনাবিধুর সেই চিত্র।

মোশারফ হোসেনের প্রযোজনায় ও শাহজাহান শামীমের পরিচালনায় প্রামাণ্যচিত্র ‘বক্তাবলীর কান্না’ অচিরেই মুক্তি পাবে। শাহজাহান শামীম হলেন নিউজ নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমের এডিটর ইন চিফ।

এদিকে শাহজাহান শামীম জানান, গল্পটা নারায়ণগঞ্জের। স্বাধীনতা যুদ্ধে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের গৌরবোজ্জ্বল অবদান। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে ১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর। ওই দিন ভোরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী গানবোট নিয়ে ঘিরে ফেলে বক্তাবলী এলাকা। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় বক্তাবলীতে আশ্রয় নিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধারা। তাছাড়া জায়গাটা নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জের মাঝখানে হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা এই তিন জেলায় অভিযান চালিয়ে নিরাপদে ফিরে যেত বক্তাবলী। কুড়ের পাড় এলাকায় পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধ হয় মুক্তিযোদ্ধাদের। বীর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ২ ঘণ্টার এই সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত হয় পাকিস্তানী বাহিনী। সম্মুখযুদ্ধে মারা যায় ৫ জন পাকিস্তানী সৈন্য। ফলে তারা লাশ নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই ২ ঘণ্টার মধ্যে হাজার হাজার গ্রামবাসী পালিয়ে যায় মুন্সিগঞ্জের দিকে। পাকিস্তানী বাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আবার ফিরে আসে। মুক্তিযোদ্ধাদের না পেয়ে তারা সাধারণ গ্রামবাসীদের ধরে আনে। ১৩৯ জন গ্রামবাসীকে মেরে ফেলে তারা। জ্বালিয়ে দেয় ২২টি গ্রাম। এই বীরত্ব ও আত্মত্যাগের ঘটনা অবলম্বন করে গড়ে উঠেছে ‘বক্তাবলীর কান্না’ নামক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র।

শাহজাহান শামীম বলেন, এই চলচ্চিত্রের পরিচালক হিসেবে এবার নারায়গঞ্জের মানুষের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের কাহিনী সবার কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। নারায়ণগঞ্জের ছেলে হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সামান্য ঋণ শোধ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।

প্রসঙ্গত এর আগে শাহজাহান শামীম তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের এক বছর মেয়াদী চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রশিক্ষণ (ডিপ্লোমা) কোর্সের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মোরশেদুল ইসলামের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি একাধিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। তিনি প্রোডাকশন হাউজ `ফ্লাইং ফ্রেম প্রোডাকশন`-এর প্রধান নির্বাহী।

স্বজন হারানো ব্যাথা ও কষ্ট নিয়ে শ্রদ্ধার সাথে প্রতিবছরই ২৯ নভেম্বর ‘বক্তাবলী দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। জেলার সকল স্তরের মুক্তিযোদ্ধারাও বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য আর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বর্ণনা করেছেন সেই নির্মম ঘটনা। সেই ঘটনাকে অবলম্বন করে নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘বক্তাবলীর কান্না’।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও