ডলি ফের রাজপথে ফিরতে চায় (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৬ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২১ সোমবার

ডলি ফের রাজপথে ফিরতে চায় (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক ডলি আহামেদ। ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। সেই সাথে বাবার কাছে গল্প শুনতেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশের প্রতি ভালবাসার কথা। দেশের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার কথা। বাবার মুখে গল্প শুনে বিএনপির প্রতি তার ভালবাসা জন্ম নেয়। পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখা আর বাবার অনুপ্রেরণা সবমিলিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন ডলি আহামেদ।

আর এই বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে তাকে অনেক প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে। অনেকবার জেল জুলুম খাটতে হয়েছে। একজন নারী হয়েও সাংসারিক কাজকর্ম ফেলে দৌড়িয়েছেন দলীয় কর্মসূচি পালনে। অনেক সময় দলীয় নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে নিজের সংসারের কথাও ভুলে গেছেন। অনেকে রাজনীতি করতে গিয়ে নিজেদের সন্তানদের সুশিক্ষিত গড়ে তুলতে পারলেও ডলি আহমেদের বেলায় সেটা হয়ে উঠেনি। তিন ছেলে সন্তানের কেউই তেমন শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেনি। তবে কখনও তিনি কোনো কিছু পাওয়ার আশায় রাজনীতি করেননি।

এরই মধ্যে ডলি আহমেদ অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে দিনযাপন করছেন। মাঝে মাঝে সুস্থ হলেও কিছুদিন পর ফের অসুস্থ পড়েন তিনি। আর যখনই তিনি সামান্য সুস্থ্য হয়ে উঠেন তখনই দলীয় কর্মসূচির ডাকে রাজপথে নেমে আসেন। তার স্লোগানে জাগ্রত হয়ে উঠে নারী সমাজ। বর্তমানে বিছানায় শুয়ে দিন যাপন করলেও তার মন যেন পড়ে থাকে রাজপথে। দলীয় কোনো কর্মসূচিতে উপস্থিত না হতে পারলে মনের অজান্তেই তার চোখ দিয়ে ঝড় ঝড় করে পানি চলে আসে।

ডলি আহমেদ জানান, দল করতে গিয়ে অনেক জেল জুলুমের শিকার হতে হয়েছে। তারপরেও কখনও পিছু হাটি নাই। যখনই কর্মসূচির ডাক এসেছে তখনই চেষ্টা করেছি দলীয় কর্মসূচি সফল করার জন্য। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার পর আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবরণ করতে হয়েছে। আমার কারাগারে যাওয়ার কথা শুনে বাবা স্ট্রোক করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ওই স্ট্রোকের কারণেই আমার বাবাকে হারাতে হয়। আমার বাবা রাজনীতি করার জন্য আমাকে অনেক উৎসাহ যোগাতেন। আমার সাথে সাথে বাবাও মিছিল মিটিং দৌড়াতেন।

তিনি বলেন, ‘আজ আমার বাবা জীবিত নেই। আমি বাবার বেহেস্ত কামনা করছি। জেলে থাকাকালিন সময়ে আমার পরিবারের সদস্যদের অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। আমার রাজনীতির খরচ যুগিয়েছে আমার স্বামী। আমি আমার স্বামী সন্তানদের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই। আমার রাজনীতি করার কারণে তারা অনেক নীপিড়নের শিকার। নারায়ণগঞ্জের পাশাপাশি রাজধানীর ঢাকার রাজপথেও কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছি। নারায়গঞ্জের মেয়ে হলেও ঢাকার অনেক পথ-ঘাটই আমার জানা শুনা নেই। তারপরেও ঢাকা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা বাদ দেয়নি।’

অনেকটা কষ্টের সুরেই ডলি আহমেদ বলেন, আমি কখনও চাওয়া পাওয়ার জন্য রাজনীতি করি নাই। সবসময় মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করেছি। করোনাকালিন সময়ে চেষ্টা করেছি অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আমার অসুস্থার সময় বিএনপির অনেক নেতাই কোনো খোঁজ নেয়নি। তবে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। বিএনপির অনেকেই আছেন যারা এখন বড় নেতা কিন্তু বিপদের সময় তাদের কাছে পাওয়া যায় না। তবে কখনও চিন্তা করি না দল করে আমি কি পেয়েছি। সবসময় চিন্তা করি দলকে আমি কি দিতে পেরেছি।

রাজপথে ফেরার আশা নিয়ে তিনি বলেন, আশা করি কিছুদিনের মধ্যেই আল্লাহ আমাকে সুস্থ্য করে তুলবেন। আর সুস্থ হয়ে উঠলেই আবারও রাজপথে ফিরব। আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। দেশের মানুষ আজ শান্তিতে নেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছে। আমাদের এখন ঘরে বসে থাকার সময় না। দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করতে হবে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও