তাঁহাদের প্রেম ভালোবাসা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১২:০২ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ রবিবার

তাঁহাদের প্রেম ভালোবাসা

১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। নারায়ণগঞ্জের অনেক রাজনীতিক, এমপিদের বিয়ে হয়েছে প্রেম করে। অনেক পেশাজীবীও একই কাতারে। ভালোবাসা দিবস তথা ভ্যালেন্টাইন দিবসে তাদের নিয়ে আয়োজন।

প্রেম করতে গিয়ে ভয় পেতেন শামীম ওসমান
ওসমানের সহধর্মীণি লিপি ওসমান। যাঁকে তিনি ভালোবাসতেন সেই কলেজ জীবন থেকেই। প্রেমটা তার সহজ ছিল না। প্রিয় প্রেমিকাকে পেতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। সহজেই ধরা না দেওয়ায় শামীম ওসমানকে ‘তাবিজ কবজ’ করা সহ অনেক পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়।

একাধিক অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান বলেন, একটা পর্যায়ে ঘুরতে ঘুরতে ভাবলাম যে চান্স যখন দিলো না এটারেই বিয়ে করবো। বাসায় বাবা ছিল খুব কঠিন মানুষ। ভাইয়েরা আমাকে খুব শাসন করতো। আমি যখন তোলারাম কলেজের ভিপি। আমার দুই বন্ধু একটা মারোয়ারী আরেকটা বন্ধু আছে এখন কানাডায় আমার কষ্টে কষ্টিত। ৮৫ বা ৮৬ সালের ঘটনা দেখলাম এতগুলি গোল মরিচ নিয়ে এসেছে। আমি বললাম, কি বলে এগুলো গোল মরিচ। বলে সকাল বেলা সাতটা গোল মরিচ ফজরের নামাজের আগে উঠাইয়া চুলার মধ্যে ছেড়ে দিবি। গোল মরিচ যখন জ্বলবে তখন ওর (সালমা লিপি) মন তখন আমার জন্য জ্বলে উঠবে। সাত দিন লাগবে বেটা তারপর দেখবি তোর জন্য দৌড়াইয়ে চলে আসবে। প্রতিদিন সকাল বেলা উঠাই রান্না ঘরে চুলার মধ্যে গোল মরিচ পোড়াই। একদিন হঠাৎ করে পোড়ানোর সময় পিছনের চেয়ে দেখি বাবা পিছনের দাঁড়াইয়া আছে। বাবা জিজ্ঞাসা করে রান্না ঘরে কি করো। মিথ্যা করে বলি আব্বা আমারে এক ফকির বলছে ফজরের নামাজের আগে যদি এ গোল মরিচ পোড়ালে নাকি বাসার ভিতরে নাকি কোন খারাপ জিনিস আসতে পারবে না। তারপর বলে তাহলে পোড়াও সমস্যা নাই। এরপর আন্দোলন লাগছে। একদিন মহিলা কলেজে ঢুকছি। ঢোকার পর ওই যে আমার বন্ধু বলছে দৌড় দিয়া আমার বাসায় চলে আসবে।

রমার প্রেমে চন্দন শীল
‘তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি, আমি একা বাসলেই তো চলবে না, তোমার উত্তরটা প্রয়োজন অপেক্ষায় রইলাম’ চিঠিতে লিখে সুতপা শীল রমাকে যৌবনে এভাবে প্রেম নিবেদনের চিঠি দিয়ে ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি চন্দন শীল। তিনি এখন মহানগর আওয়ামী লীগেরও সহ সভাপতি।

সেই চিঠির উত্তর পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ দুই বছর। ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি চন্দন শীলকে জন্মদিনের উপহার দিয়ে প্রেম প্রস্তাবের ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন। চন্দন শীলের বাবা রাজেন্দ্র নারায়ণ শীল ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পুলিশ সুপার। আর সুতপা শীল রমার বাবা পরেশ গুপ্ত ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার। তার থেকেও বড় পরিচিতি পরেশ গুপ্ত ছিলেন শেরপুর আড়াইআনি স্ট্যাটের জমিদার। এই দুইজন ছিলেন একে অপরের বন্ধু। শহরের নতুন পালপাড়া এলাকায় পাশাপাশি থাকতেন উভয় পরিবার। এই সূত্র ধরেই চন্দন রমার পরিচয় পরে প্রেমের পথ ধরে পালিয়ে বিয়ে।

ছাদ থেকে লাফ দেন এমপি খোকা
ভালোবাসার মানুষটিকে কাছে পেতে ছাঁদ থেকে লাফ দেয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। তাদের দীর্ঘ ভালোবাসার জীবনের তেমনি কিছু অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ডালিয়া লিয়াকত জানান, ১৯৮৪ সালে এসএসসি পরিক্ষার্থী ডালিয়ার চলাচলে চোখ রাখতেন এমপি খোকা। সেই ভাল লাগা থেকে ভালবাসার প্রকাশ। তাতে রয়েছে ফিল্মী স্টাইলের কাহিনী। তখন আমি সরকারি মহিলা কলেজে পড়ালেখা করি। ১৯৮৫ কি ৮৬’র কথা। একদিন ফ্রেন্ডের বাসায় পড়ার নোট নিতে চাষাঢ়া মোড় হয়ে সোনারগাঁও কনফেকশনারী (ক্যাফে) পাশে বন্ধু চঞ্চলকে সঙ্গে (বর্তমান আইনজীবী) নিয়ে চাষাঢ়ার ভিতরে যাচ্ছিলাম। তখন হঠাৎ ওই মোড়ে টি শার্ট পড়ে সুন্দর নায়কের মতো দেখতে খোকা রিকশা থামিয়ে দেয়। কিছুতেই যেতে দিচ্ছিল না। কোন ভাবেই বোঝাতে পারিনি যে এটা আমার পরিবারের সবাই জানলে সমস্যা হতে পারে। তারপর খোকার অনেক অনুরোধের পর ও আমার সঙ্গে থাকা বন্ধু চঞ্চলের কথায় সেখানের ক্যাফেতে গিয়ে প্রথম কথা হয়। তখনই বুঝতে পারি সে আমাকে ভালোবাসে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তখন হঠাৎ একদিন নাদিয়া আপু আমাকে আলম কেবিনের সামনে নিয়ে আসে। সেখানে এসে বলে লিয়াকত হোসেন খোকা ছাঁদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মাহত্যা করার চেষ্টা করেছে। এখন মূমূর্ষ অবস্থায় আছে। আমাকে শেষবারের মতো দেখতে চায়। ওই সময় আর মনটা কেমন জানি হয়ে ওঠে। অনেক কিছু পার হয়ে দেখতে যাই। তখন দরজার বাইরে শামীম ওসমান আমাকে প্রশ্ন করেছিল তুমি নিজেকে কি ভাবো? সাধারণ ভাবেই বলেছিলাম ‘মানুষ’। তখন শামীম ওসমান আমাকে বলে ওর কিছু হলে আমাকে ছাড়বে না। তারপর রুমের ভিতরে প্রবেশ করে দেখি বিছানায় লাল কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছে। পাশে ডান হাতে স্যালাইন লাগানো। মাথার চুলগুলোও ভেজা। তবে এসব কিছু যে আমাকে পাওয়ার জন্য নাটক ছিল তা জানতে পেরেছি। বিয়ের ঠিক ৯ থেকে ১০ বছর পর। যে স্যালাইন লাগানো ছিল সেটার ভিতরে পানি তাও পাশে একটা প্লাস্টিকের ভল ছিল। আর চুলে তেল ও পানি দিয়ে ওইরকম করেছিল। এসব কিছু যখন জানতে চেয়েছি। তখন শুধু একটা কথাই বলেছে ‘মরে গেলে তোমাকে পাওয়া হতো না’। এভাবেই প্রেম ছিল দীর্ঘদিন।

আইনজীবী অভিনেতা ফেরদৌস জুয়েল
অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও অ্যাডভোকেট সৈয়দা ওয়াহিদা আহম্মেদ রিতা নারায়ণগঞ্জ আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত। জুয়েল জানান, ১৯৮৮ সালের দিকে প্রথম পরিচয় হয় সরকারি তোলারাম কলেজে লেখাপড়া করার সুবাদে ওয়াহিদা রিতার সঙ্গে। সেই থেকেই দুজনের মধ্যে ভালো পরিচয়। ভালো পরিচয় থেকে এক পর্যায়ে ভালো লাগা। ভাল লাগা থেকেই দুজন দুজনকে ভালবাসা। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে দুজনে ভর্তি হন। ওখান থেকে পাশ করে হাসান ফেরদৌস জুয়েল চলে যান চাকরিতে। সেখান থেকে এসে যোগদান করেন নারায়ণগঞ্জ আদালতে আইন পেশায়। এর মধ্যে দুজনের প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায় দুজনের পরিবারের কাছে।

এক সালামেই বড় ভাই থেকে রাজীবের প্রেম
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, ২০০৩ সালে কলেজের ভিপি থাকাবস্থায় আমার বাবা, মা আমাকে কয়েকটি মেয়ের ছবি দেখায় আমার বিয়ের জন্য। আমার কাউকে পছন্দ হয়নি। বাসা থেকে বিয়ের জন্য আমার উপর চাপ দিচ্ছিল আমার পরিবার। কলেজ সংসদে বসে ছিলাম এমন সময় সকালের দিকে আমার শ্বশুর ইসহাক আহমেদ আমার কাছে একটি বিচার নিয়ে আসে। সে জানায় তাঁর মেয়েকে (তামান্না) কয়েকটি ছেলে ডিস্টার্ব করে। তারা বাইক নিয়ে তার মেয়ের পিছনে পিছনে বাড়ি পর্যন্ত যাই। আমি তাকে পরদিন তার মেয়েকে নিয়ে আসতে বলি। কথামত পরদিন সকালে তার মেয়েকে নিয়ে সে কলেজ সংসদে আসে। এসময় মেয়েটি সংসদে ঢুকেই আমাকে খুব সুন্দর করে সালাম দেয়। সেই সালামেই আমি তার প্রেমে পড়ে যাই। ২০০৪ সালে যখন কলেজে নবীনবরন অনুষ্ঠান হয় তখন আমি খেয়াল করি সেখানে তামান্না আসে। আমি তখন একটি গান গেয়েছিলাম অঞ্জন দত্তের ‘হ্যালো বেলা বোস তুমি শুনতে কি পাচ্ছো’ গানটি গাওয়ার সময় আমি মাঝখানে একটি লাইন বলে ফেলি নিজের অজান্তেই সেটি হচ্ছে ‘হ্যালো তামান্না তুমি শুনতে কি পাচ্ছো’। এই ছিল আমার প্রথম চেষ্টা তাকে বুঝানোর যে আমি তাকেই ভালবাসি এবং বিয়ে করতে চাই। যদিও আমি আজও জানিনা সে বুঝেছিল কিনা।

কাউন্সিলর খোরশেদের প্রেম
মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ জানান, লুনারা থাকত ঢাকার মিরপুরে, আমরা নারায়ণগঞ্জে। প্রেমের প্রথম দিকে পারিবারিক অনুষ্ঠানাদিই ছিল আমাদের দেখা সাক্ষাতের একমাত্র সুযোগ। তাই আমরা দুই জনই কোন আত্মীয় স্বজনের অনুষ্ঠান মিস করতাম না। মাঝে মাঝে ল্যান্ড ফোনে কথা হতো, তাও খুব কম সময়ের জন্য। আবার কখনো দশ বার ফোন করলে একবার লুনা ধরার সুযোগ পেত, অন্য কেউ ধরলে রেখে দিতাম। আর আমার বাবার ভয়ে লুনা আমাদের বাসার ফোনে কখনো ফোন দিত না। লুনাদের প্রাইভেট কারের দীর্ঘদিনের ড্রাইভার আব্বাস ভাইও ছিল আমাদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। লুনার চিঠি আব্বাস ভাই আমাকে পোস্ট করে দিত, আর আমি আব্বাস ভাইয়ের ঠিকানায় চিঠি পাঠাতাম। সেই চিঠি তিনি লুনাকে পৌছে দিতেন। দীর্ঘদিন এভাবে ম্যানুয়েল পদ্ধতিতেই আমাদের প্রেম চলেছে। ১৯৯৩ সালে এসএসসি পাশ করে লুনা ঢাকা সিটি কলেজে ভর্তি হয়। আর আমি ১৯৯৪ সালে ডিগ্রী পাশ করে শাব্বির ভাইয়ের সাথে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করি। ইচ্ছা করেই আমি গার্মেন্টের কমার্শিয়াল বিভাগের দায়িত্ব নেই। ফলে ব্যাংক, ইপিবি, বিজেএমইএ, শিপিং লাইন, বায়িং হাউজ ইত্যাদির কাজে সপ্তাহের ৬ দিনই আমার ঢাকা যাওয়ার সুযোগ হয়। প্রায় প্রতিদিনই আমাদের দেখা সাক্ষাৎ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। দুপুরের মধ্যে অফিসিয়াল কাজ শেষ করে প্রতিদিনই আমার গন্তব্য ছিল সিটি কলেজের কাছের এলিফ্যান্ট রোডের “ডাক চাইনিজ রেস্টুরেন্টে”। কেউ দেখে ফেলার ভয়ে আমরা কখনো পার্কে বা রিক্সায় ঘুরতাম না। এতদিন নীরবে দু’জনের মন দেয়া নেয়া, চিঠি চালাচালি, দেখা সাক্ষাৎ চললেও ১৯৯৫ সালের দিকে উভয় পরিবারের মধ্যে আমাদের সর্ম্পকের কথা জেনে যায়।

১ মাসেই প্রেমের চিঠির উত্তর পান বাপ্পী
বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতার পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে বাপ্পীর মনে জায়গা করে নেয় সুন্দরী মৌ। প্রথম দেখায় ভালোবাসার প্রস্তাব না জানালেও দ্বিতীয় বার এ ভুল করেনি বাপ্পী। তারপর থেকেই অপেক্ষা। বাপ্পী নারায়ণগঞ্জের অন্যতম ব্যবসায়ী প্রয়াত রণবীর রায় চৌধুরী ও কনক রায় চৌধুরীর একমাত্র ছেলে। দূরত্ব যতই হোক ভালোবাসা মানুষকে কাছে আনে সেটাই প্রমান করে দেখালেন বাপ্পী। মৌ কলকাতায় বসবাস করতেন আর বাপ্পী নারায়ণগঞ্জে। দুই দেশের কাটাঁতারের বেড়াটাই বাধা হয়ে গিয়েছিল মৌ আর বাপ্পীর। ভালোবাসার খোঁজ খবর নিতে শুধু চিঠিই প্রধান মাধ্যম ছিল বাপ্পীর। যদিও কয়েক মাস পর পর ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকার স্টুডিওর টিএনটি ফোন থেকে অনেক টাকা খরচ করে কয়েক মিনিট কথাও বলতো বাপ্পী। দুইজনের এ মধুর ভালোবাসার সম্পর্ক দুই দেশের কাটাতারের বেড়াকেও ভেঙ্গে ফেলে। ৪ থেকে ৫ বছরের ভালোবাসার পর পারিবারিকভাবে ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন মৌ রায় চৌধুরীকে।

সাংবাদিকের প্রেম
মানজমিনের স্টাফ রিপোর্টার বিল্লাল হোসেন রবিন জানান, ‘‘আমি তখন ইন্টার প্রথম বর্ষের ছাত্র। এলাকার একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনে পরিচয় হয় নিলুফা ইয়াসমিনের সাথে। সে ভালো গান করে। হায় হ্যালো হতো তার সাথে। ১৬ ডিসেম্বর ঘিরে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার আমন্ত্রন পায় আমাদের সংগঠন। রিহার্সেলের সময় নিলুফা আর আমার মাঝে দূরত্বটা একটু কমে আসে। তাকে আপা বলে সম্মোধন করলেও সে আমাকে তুমি বলে ডাকতো। আমি আগেই জানতাম সে ঢাকার একটি কলেজে পড়ে। তাছাড়া আমার শারীরিক গড়নই বলে দিচ্ছিল আমি হয়তো স্কুলের গন্ডি পার হইনি। তাই নিলুফা আমাকে প্রথমেই তুমি বলে সম্মোধন করেছে। পরে নিলুফা অফার করলো, চল আজ থেকে আমরা বন্ধু। আমিও ইন্টার প্রথম বর্ষে পড়ি। আমি মুহূর্তেই রাজি হয়ে গেলাম। দু’জন হ্যান্ডসেক করে একে অপরের বন্ধু হলাম। একদিন সকাল বেলা আমি প্রথম জানতে পারি। আর নিলুফা জানতে পারে কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পর। সেটা হল আমাদের দুই পরিবার আমার আর নিলুফার বিয়ের কথা পাকাপোক্ত করে ফেলেছে। নিলুফা তো মহা খুশি।

সাখাওয়াত হোসেন খান
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তারও একজন আইনজীবী। নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে অধ্যয়নকালেই দুজনের প্রেম প্রণয় ঘটে। ১৯৯০সালে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে ভর্তি হওয়ার পর লেখাপড়ার সুবাদে পরিচয় হয় শামীমা আক্তারের সঙ্গে। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে ঘনিষ্টতা সৃষ্টি হয়। দুজনের মধ্যে ভাল পরিচয় থেকে এক পর্যায়ে দুজনের অজান্তেই মন দেয়া নেয়া হয়ে যায়। যদিও প্রথম প্রপোজটা করেছিলেন সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেই। কারণ তিনি আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন শামীমা আক্তারও তার প্রেমে পড়ে গেছেন। যে কারণে সাখাওয়াত হোসেন খান “ভালোবাসি” শব্দটা বলার পর খুব সহজেই মেয়ে নিয়েছিলেন শামীমা আক্তার। চলতে থাকে দীর্ঘ আড়াই বছর প্রেম। তাদের প্রেমের বিষয়টি প্রথমে জানতে পারে শামীমা আক্তারের পরিবার

পারভেজ তাহিয়ার
সেই ২০০৮ থেকে শুরু। অচেনা অপরিচিত থেকে ধীরে ধীরে পরিচয় ও কথা বলা। এরই এক পর্যায়ে ২০০৯ সাল থেকে ভালো লাগার শুরু আর প্রেমের সূচনা। এই ভালোবাসায় নানা ঝড় চড়াই উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ১২ বছরের চেনা জানা পরিচয়ের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করা হয়। অবশেষে বিয়ে সম্পন্ন হয় আর প্রেমের সম্পর্ক আরো গভীর হয় বিয়ের মাধ্যমে।

এটি বাংলানিউজের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান পারভেজের ভালোবাসার গল্পের একটি অংশ। প্রেম ভালোবাসার সম্পর্ক হলেও বিয়ের জন্য তারা প্রস্তুত ছিল আগে থেকেই। তবে বাধা ছিল পরিবার। দুই পরিবার প্রেমের বিয়ের পক্ষে ছিলনা। বর কনেও নাছোড়বান্দা কোনভাবেই পরিবার ও বাবা মায়ের দোয়া ও সিদ্ধান্ত ছাড়া তারা বিয়ে করবেনা, আর সিদ্ধান্তটিও পছন্দের মানুষের পক্ষে নিতে দিনের পর দিন চলে অপেক্ষা ও পরিবারকে বুঝানোর পালা। সেই অংশের সমাপ্তি আসলো শেষ পর্যায়ে আর দুই পরিবার সম্মতি দিল বিয়ের। দুই পরিবারের সম্মতিতে সকলের হাঁসি খুশিতে পরিবারের সবাইকে একত্রিত করেই বিয়ের কাবিন সম্পন্ন হয় দুজনের।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও