৬৯ বছরেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১০ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ শনিবার

৬৯ বছরেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি

নারায়ণগঞ্জের ভাষা আন্দোলনে যারা অবদান রেখেছিলেন তাদের তালিকা রাষ্ট্রীয়ভাবে ৬৯ বছরেও প্রণয়ন করা হয়নি। এমনকি ভাষা আন্দোলনের তৎকালীন প্রেক্ষাপট নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের রচিত বইও তেমন একটা নেই। নারায়ণগঞ্জের ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরাসহ বিশিষ্টজনরা ভাষা আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের প্রেক্ষাপট নিয়ে একাধিক বই লিখেছেন। ওই বইগুলোতে অনেক ভাষা সৈনিকের নামও এসেছে। তবে ৬৯ বছরেও নারায়ণগঞ্জের ভাষা সৈনিকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন স্বীকৃতি মিলেনি। এমনকি রাষ্ট্রীয়ভাবে ভাষা সৈনিকদের তালিকাও তৈরী হয়নি। যে কারণে নারায়ণগঞ্জের ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ভাষা সৈনিকদের সঠিক তালিকাও নেই। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন জীবিত ভাষা সৈনিকদের সম্মাননা প্রদান করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে জেলায় জীবিত ভাষাসৈনিকের সংখ্যা অতি নগণ্য।

জানা গেছে, বেশ কয়েকবছর আগে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সুধীজন পাঠাগার ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে যারা অবদান রেখেছিলেন তাদের মধ্যে শতাধিক ব্যাক্তির নাম সংগ্রহ করে একটি তালিকা তৈরী করেছিল। সুধীজন পাঠাগারের তালিকায় যারা রয়েছেন তারা হলেন, খান সাহেব ওসমান আলী, মফিজউদ্দিন আহাম্মদ, আসগর হোসেন ভূইয়া, শফি হোসেন খান, একে এম শামসুজ্জোহা, এম এন এ আব্দুল আউয়াল, আফজাল হোসেন, মমতাজ বেগম, সৈয়দ আকমল আফেন্দি (দুলু আফেন্দি), গফুর চৌধুরী, ওয়াহিদ মিয়া, খাজা জহিরুল হক, বশির উদ্দিন আহমেদ, মোয়াজ্জেম হাসান জামিল, মুস্তাফা সারওয়ার, গোলাম মোর্শেদ ফারুকী, শাহাবউদ্দিন, মোসলেহউদ্দিন, নূরউদ্দিন আহমেদ, নাসিরুল্লাহ, মোতালিব, কবি হাফিজউদ্দিন, আব্বাছ আলী, জানে আলম, দাইমউদ্দিন আহাম্মেদ, সুলতান মাহমুদ মল্লিক, লুৎফর রহমান, মশিউর রহমান, বজলুর রহমান, আলমাছ আলী, আব্দুল লতিফ, রইসউদ্দিন, মজিবর রহমান, নাজির মোক্তার, হাবিবুর রশিদ, নুরুল ইসলাম মল্লিক, ফয়েজ আহাম্মদ, সম্বল মিয়া, বাদশা মিয়া, আক্কাস আলি, পিয়ার মাহমুদ, আব্দুল মান্নান, ক্বারী আমিরুল্লাহ, সরাফত আলী, বেগম মনি মালা, বেগম আয়েশা আক্তার জালাল, খোন্দকার নোয়াব আলী, রুহুল আমিন, জয়নাল আবেদীন খান, জাষ্টিস (অব:) বদরুজ্জামান, এমদাদ হোসেন শিল্পি, আবু নাসের ওয়াহিদ, গোলাম আলী, আবুল খায়ের, আনোয়ার, মোখলেসুর রহমান, ওয়ালিউদ্দিন, ইমাম হোসেন ঘাইনা, ডা. আব্দুর রহমান, টি হোসেন, সফিউদ্দিন মৃধা, সাংবাদিক হানিফ খান, জয়নাল আবেদীন খান, কালু (এমপি আউয়ালের ভাই), সিরাজ ভুঞা, হাজী মুজাফফর আলী, সাদে আক্কাছ, শ্রী চন্নু গুহ, আমিনুল নোয়াব, আমানুল্লাহ খান, লোকমান হেকীম, মতিউর রহমান, শেখ মিজানুর রহমান, আব্দুস সালাম, আওলাদ হোসেন, নুরউদ্দিন, ফিরোজা বেগম, আয়েশা বেগম (রেনু), ইলা বকশী, বেগম মেহেরুন্নেছা (মেহের), রিজিয়া বেগম (রাওয়ালপিন্ডি), নাছির উদ্দিন আহমেদ, আমীর আলী মিয়া, শামসুর রহমান কুর্মি, হাবিবুর রহমান (টুক্কু), সফর আলী, কাজী আবুল কাশেম, সফিউদ্দিন আহাম্মেদ, আব্দুল হালিম, কালু ভুঞা, আলা বক্স, হাদিস মোল্লা, নূর মোহাম্মদ, বিলাস (পাগলা), মোনায়েম হোসেন, জানে আলম (ছোট), রমিজউদ্দিন, হাজী আফতাবউদ্দিন, ডা. মজিবুর রহমান, শ্রী নিখিল সাহা, আবু বকর চৌধুরী, আব্দুল মান্নান, তাজামুল্লাহ খান, আইজউদ্দিন আহাম্মদ। এছাড়া ভাষাসৈনিক হিসেবে নাগিনা জোহা, খাজা মহিউদ্দিন, হাফিজুন্নেসার নাম শোনা গেছে।

এদিকে কয়েক বছর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলনের তালিকা তৈরীর কথা বললেও সেটার বাস্তবায়ন হয়নি আজো। তালিকায় না থাকায় অনেক ভাষা সৈনিকের নাম হারিয়ে গেছে স্মৃতির পাতায়। বরং প্রতি বছরই অনেক ভাষা সৈনিক হলে যাচ্ছেন না ফেরার দেশে।

চলতি বছরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জীবিত ভাষা সৈনিকদের সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে একটি বিজ্ঞপ্তিও গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন। যাতে বলা হয়েছে কারো পরিচিত কোন ভাষা সৈনিক থাকলে যোগাযোগ করার জন্য। তবে নারায়ণগঞ্জে বর্তমানে জীবিত ভাষা সৈনিকের সংখ্যা অতি নগন্য বলে জানা গেছে। তবে মতভেদ যাই থাকুক না কেন রাষ্ট্রীয়ভাবেই ভাষা সৈনিকদের তালিকা প্রণয়ন করা জরুরী বলে অভিমত বিশিষ্টজনদের।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও