জন্মদিনে কোথায় আছে সাদমান সাকি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:০৬ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২১ মঙ্গলবার

জন্মদিনে কোথায় আছে সাদমান সাকি

‘প্রায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছে অবুঝ শিশু সাদমান সাকি। সবে মাত্র কথা বলতে শিখছিলো। তাও বাবা-মা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারতো না। এই পৃথিবীর আলো বাতাস কোন কিছুই তার জ্ঞাত ছিল না। এরই মধ্যে তাকে নিখোঁজ হতে হলো। জানা নেই তার কি অপরাধ। কি অপরাধে তাকে বাবা মায়ের আদর সোহাগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। আজও বাবা মা স্বপ্ন দেখেন একদিন তাদের আদরের সন্তান তাদের খোলে ফিরে আসবেন। সেদিন তাকে মনপ্রাণ দিয়ে আদর সোহাগ করবেন।’

১৬ মার্চ মঙ্গলবার সাদমান সাকির ৪ বছর পূর্ণ হয়ে ৫ম বর্ষে পদার্পন হতে চলল। গত চার বছর আগের এইদিনে সে তার বাবা-মায়ের সাথে জন্মদিন পালন করেছিল। কিন্তু আজ সে তার বাবা-মার কাছে নেই। আর এই অবুঝ শিশু সাদমান সাকির খোঁজে তার বাবা-মা পাগল প্রায়। প্রায় প্রতিনিয়তই নগরীর অলিগলিতে তার খোঁজ করা হচ্ছে। কিন্তু কোথাও দেখা মিলছে না তার। সন্তানের শোকে তাদের পুরো পরিবার ধ্বংসের প্রান্তে পৌছে গেছে। কোনভাবেই তারা নিজেদেরকে শান্ত রাখতে পারছেন না। সাকির খোঁজে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরে বেড়ালেও তার কোন খোঁজ মিলছে না।

প্রথমে পুলিশের ব্যর্থতায় মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তাধীন যায়। কিন্তু সেখানে সন্তোষজনক উত্তর মিলেনি। এরপর মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন যায়। এখানেও সাদমান সাকির বাবা সৈয়দ ওমর খালেদ এপন সন্তুষ্ট হতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর ফাইনাল রিপোর্টের শুনানীতে সিআইডির তদন্তের প্রতিবেদন রিপোর্টে নারাজি প্রকাশ করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী ও আদালতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জাসমীন আহম্মেদ।

সেই সাথে নারায়ণগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন মামলার তদন্তভার সিআইডি থেকে বদলি করে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দেন। বর্তমানে সেই মামলাটি র‌্যাবের তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে সাকির বাবা সৈয়দ ওমর খালেদ এপনের বরাত দিয়ে পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তার ভাষ্য ছিল, এ ঘটনাটি কাছের লোকজনই ঘটিয়েছে। সেই সূত্র ধরে কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে জেলা পুলিশ সুপার সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানিয়েছিলেন এপন। কিন্তু সেখানেও সাড়া মিলেনি। মানবন্ধন অনশন সহ সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

সাদমান সাকির বাবা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ ওমর খালেদ এপন জানান, আমাদের অনেক আদরের একমাত্র সন্তান সাদমান সাকি। আমি মানুষের সেবার জন্য দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। আমার জানামতে আমি কারো ক্ষতি করেনি। তারপরেও যদি ক্ষতি করে থাকি, তাহলে সে শাস্তি আমাকে দেয়া হোক। কিন্তু আমার এই অবুঝ শিশুর কি অপরাধ। শিশুটির জন্য তার মা সারাক্ষণ কান্নাকাটি করে থাকে। ঠিকমতো খাওয়া ধাওয়া করে না। সংসারের কোন কাজে তার মনযোগ নেই। আমি কোন কিছু করতে পারছি না। সবসময় আমার সন্তানের কন্ঠ কানে বাজে। জানি না আমার ছেলেটি কি অবস্থায় কোথায় আছে। তবে আমি বিশ্বাস করি একদিন আমার ছেলের খোঁজ অবশ্যই পাবো।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ ইচ্ছা করলে পারে না এমন কোনো কাজ নেই। আমার ছেলেকে কাছের মানুষই অপহরণ করেছে এবং এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। আমি কাউন্সিলর নির্বাচন করেছিলাম। আর এ কারণেই আমাকে থামিয়ে রাখার জন্য কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল ও তার অনুসারীদের দিয়ে আমার ছেলেকে অপহরণ করিয়েছে। আমি আমার ছেলের সন্ধান চাই।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুর দেড়টায় ঘরের বাইরে খেলার সময় দেওভোগ কাঠের দোতলা বড় জামে মসজিদ এলাকা থেকে শিশু সাদমান সাকি নিখোঁজ হয়। সাদমান সাকির খোঁজে নগরীতে সর্বস্তরের জনগণের ব্যাপারে মানববন্ধন এবং নিখোঁজের ১৩ দিন পর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় সাদমান সাকির বাবা সৈয়দ ওমর খালেদ এপন একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছিলেন।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও