লাঙ্গলবন্ধে বাঁশের তৈরী শিল্প বিলুপ্তির পথে

বন্দর করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:০৪ পিএম, ৮ জুন ২০২১ মঙ্গলবার

লাঙ্গলবন্ধে বাঁশের তৈরী শিল্প বিলুপ্তির পথে

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার বাঁশের তৈরী সামগ্রীর কদর কমতে বসেছে। বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়নের লাঙ্গলবন্ধ এলাকা হতে একসময় বিপুল পরিমাণ বাঁশের সামগ্রী এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকাররা এসে নিয়ে যেতো। ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বাঁশ শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে। জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাঁশ ঝাড় উজাড় হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। যতই দিন যাচ্ছে ততই কমে যাচ্ছে এই হস্তশিল্পের চাহিদা। মূল্যবৃদ্ধি, বাঁশের দুষ্প্রাপ্যতা আর অন্যদিকে প্লাস্টিক, সিলভার ও মেলামাইন জাতীয় হালকা টেকসই সামগ্রী নাগরিক জীবনে গ্রামীণ হস্তশিল্পের পণ্যকে বিদায় জানাতে বসেছে। এভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁশ শিল্প। তাছাড়া পেশাতে না পেড়ে এ শিল্পের সাথে জড়িত অনেকেই বাপ-দাদার আমলের পেশা ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছে অন্য পেশায়।

উপজেলার মুছাপুর ইউপির লাঙ্গলবন্ধের পাড়া গ্রামটি ঘুরে দেখা যায়, বাঁশের পণ্যসামগ্রী বানানো চলছে। পরিবারের বিভিন্ন বয়সী লোকজন এ কাজ করছেন। এখানে অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ পরিবার এই শিল্পের সাথে জড়িত থাকলেও এখন মাত্র ২০/২৫ টি মাহালী সম্প্রদায়ের পরিবার বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে এশিল্প কে বাঁচিয়ে রেখেছে। চালনা, কুলা, ডালি, ঝুঁড়ি সহ কোপরা, টোপা, খিল ঝাড়ু, খারি, মাছ ধরার পোলয়, ভাত ঝাপা, গরুর মুখারী প্রভৃতি সামগ্রী বানিয়ে হাট বাজারে বিক্রি করে কোন রকম জীবন যাপন করছে।

৪৫ বছর বয়সী সিলাস টুডুর স্ত্রী আগোস্তিনা হ্যামরোন দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এ পেশায় নিয়োজিত। বাপ-দাদার হাত ধরে এ পেশায় আসা। এখানকার পরিবার গুলোর দারিদ্রতা তাদের নিত্য সঙ্গী। দু’চালা ঘর ছাড়া তাদের কোন জায়গা-জমি নেই। সব সময় অভাব অনটন থাকায় জীবন নির্বাহ করা খুবই কষ্টের। বাঁশ শিল্প বদলাতে পারেনি তাদের ভাগ্য। তাদের অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। বাঁশ ঝাড়ের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে যাওয়ায় বাঁশের দামও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি বাঁশ দিয়ে ২ দিনে ৬/৭ টি খিল ঝাড়ু তৈরি করা যায়। এগুলো বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে তাদের সংসার। তাছাড়া দূরের গ্রাম থেকে ঘুরে ঘুরে বাঁশ সংগ্রহ করে আনতে হয়। বাঁশের সামগ্রী বানানোর জন্য মুলিবাঁশ, তল্লাবাঁশ ও বইরা বাঁশ প্রয়োজন হয়। বর্তমানে বাঁশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাঁশ সংগ্রহ করে কাজ করা তাদের পক্ষে বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

যাকোব টুডু নামের আরও একজন জানান, কোরপা ১২৫ টাকা, ডালি ৫০টাকা, কুলা ৫০/৬০ টাকা, টোপা ৮০ টাকা, খিল ঝাড়ু ৫০টাকা, হাত চালন ৫০ টাকা, মাছ খোলই ৭০টাকা, মাছের পোলয় বড় ২০০ টাকা, ছোট পোলয় ১০০/১২০টাকা, ভাত ঝাপা ৩০ টাকা, গরুর মোখারি ৫০ টাকা। প্রকার ভেদে এক একটি পণ্য থেকে সর্বোচ্চ দশ টাকা থেকে চল্লিশ টাকা পর্যন্ত আয় হয় আর এ দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কোন রকম জীবন নির্বাহ করে বলে জানান।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও