মুক্তিযুদ্ধে বড় গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৭ পিএম, ১৪ জুন ২০২১ সোমবার

মুক্তিযুদ্ধে বড় গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ

১৫ জুন মঙ্গলবার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মহিউদ্দিন আহম্মেদ দুলালের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১১ সালের এই দিনে তিনি সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। প্রয়াত কমান্ডার মহিউদ্দিন আহম্মেদ দুলাল ১৯৫৩ সালের ১৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ গ্রামে এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম শফিউদ্দিন আহম্মেদ। তিনি নারায়ণগঞ্জ বন্দর বিএম ইউনিয়ন হাইস্কুলে অধ্যয়ন শেষে ১৯৬৮ সালে এসএসসি পাশ করেন। অত:পর তোলারাম কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৭০ সালে আইএ পাস করে বিএ ক্লাশে পড়াশোনাকালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

কমান্ডার মহিউদ্দিন আহম্মেদ দুলাল মুক্তিযুদ্ধে সোনারগাঁও বন্দর থানা এলাকায় তার গ্রুপ নিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২নং সেক্টরে একজন গ্রুপ কমান্ডার নিযুক্ত হন। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গঠিত হলে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও পরে ভারপ্রাপ্ত কামান্ডার এবং ১৯৭৮ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে জেলা কমান্ডার নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি বিরতিহীন ২৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম। বাংলাদেশের কোনো জেলায় কোনো জেলা কমান্ডার একটানা এতবছর দায়িত্ব পালন করে নাই। তিনি মুক্তিযুদ্ধে বেশ কয়েকটি অপারেশন সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে নারায়ণগঞ্জের একজন বীরযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত হন।

নারায়ণগঞ্জে যুদ্ধকালিন সময় প্রয়াত কমান্ডার মহিউদ্দিন আহম্মেদ দুলালের গ্রুপ ছিল বড় গ্রুপ। তার গ্রুপের মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকা প্রকাশে অবদান রাখে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শহীদ পরিবারবর্গের সংবর্ধনা প্রদান করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা যাছাই বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতি ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন। তাছাড়া তিনি অনেক সংগঠনের উপদেষ্টা ছিলেন।

২০১১ সালের এই দিনে প্রয়াত কমান্ডার মহিউদ্দিন আহম্মেদ দুলাল ঢাকা শমরিতা হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মরদেহ দেওভোগে এলাকায় তার বাসভবনে আনা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারন হয়। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। লাশ দেখতে ভীড় জমায় হাজারো মানুষ, সহযোদ্ধা সহকর্মী ও শুভাকঙ্খীরা। সর্বস্তরের উপস্থিতিতে জানাযায় গণ মানুষের ঢল নেমে আসে। তারপর তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেয়া হয়।

২০১১ সালের ১৫ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করলে সভায় নারায়ণগঞ্জ সকল আসনের সংসদ সদস্য মরহুমে জীবনের বিভিন্ন দিক অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনা সভায় জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটি প্রয়াত কমান্ডার মহিউদ্দিন আহাম্মেদ দুলালের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানসহ আত্মীয় স্বজন ও অসংখ্য শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন। তার বড় ছেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি সৈয়দ ওমর খালেদ এপন ও ছোট ছেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক মানব ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ সাদিম আহাম্মেদ।

কমান্ডার মহিউদ্দিন আহম্মেদ দুলালের ১০ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে মসজিদে মসজিদে দোয়া, বাসায় কোরআন খতম এবং এতিম ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও