নৌকার গ্রাম গাবতলী

রূপগঞ্জ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:২৫ পিএম, ২০ জুন ২০২১ রবিবার

নৌকার গ্রাম গাবতলী

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের গাবতলী গ্রাম। গ্রামটিতে পরিবারের সংখ্যা ৫৬। এদের অধিকাংশ পরিবারের কর্তাই নৌকার কারিগর। তারা বাবি দাদার কাছ থেকে কাজের কৌশল রপ্ত করেছে। গাবতলী এখন নৌকার গ্রাম হিসেবে পরিচিত।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া থেকে আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বদিকে ছোট্ট এ গ্রাম। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদী। এ গ্রাম রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার থানার ত্রিমোহনায় অবস্থিত।

বর্ষা শুরুর পর থেকেই প্রতিদিন ভোরে হাতুড়ি পেটানোর ঠক্ ঠক্ শব্দে ঘুম ভাঙ্গে এ গ্রামের শিশু ও নারীদের। সূর্য উঠার আগেই কারিগররা ব্যস্ত হয়ে উঠে। ছোট বড় সবাই নৌকা তৈরির কাজ করে। চৈত্র, বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য ও আষাঢ় এই ৪ মাস নৌকার কারিগরদের ফিরে তাকানো ফুসরত নেই। বাকি সময় জলচৌকি, কাহাইল, সাহাইড, চৌকি, পড়ার টেবিল, কাঠের চেয়ার সহ আসবাবপত্র তৈরি করে। প্রায় ১’শ বছর আগে এ গ্রামে পঁচু চন্দ্র ও হরচন্দ্র নামের দুই ব্যক্তি বসবাস করতেন। তারাই নৌকার আদিকারিগর।

গাবতলী গ্রামের নৌকার কারিগর হরিহর বিশ্বাস বলেন, আমরা আদি পুরুষের কাছ থেকে নৌকা তৈরির কাজ শিখেছি। আয় যাই হোক আমরা আনন্দের সঙ্গে এ কাজ করি। বাপদাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে গ্রামে এখন নতুন কারিগর তৈরি হচ্ছে। এখন বর্ষা মৌসুম। আমাদের বিশ্রাম নেই। নৌকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের দিনরাত পরিশ্রম করতে হয়।

রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন হাটে নৌকা বিক্রি করা হয়। তবে অনেক ক্রেতা এ গ্রামেই আসেন নৌকা ক্রয় করতে। এখানে ছোট বড় সব ধরনের নৌকা তৈরি হয়। ছোট নৌকা তৈরি করতে খরচ হয় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। বিক্রি হয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। বড় নৌকা ৪৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তাতেই চলে নৌকার কারিগরদের সংসার।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও