৫ বছর পরে সেই বৃদ্ধাশ্রমের খোঁজ

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০২ পিএম, ২৬ জুন ২০২১ শনিবার

৫ বছর পরে সেই বৃদ্ধাশ্রমের খোঁজ

৫ বছর আগে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশিপুরে ‘আনন্দবাড়ি’ নামের একটি বৃদ্ধাশ্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ দলীয় প্রভাবশালী সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। তবে এই ৫ বছরে বৃদ্ধাশ্রমের কোন ধরনের উন্নয়ন কাজই সাধিত হয়নি। দীর্ঘদিন পরে হলেও সেই বৃদ্ধাশ্রমের খোঁজে সরেজমিনে গিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেইজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বৃদ্ধাশ্রম প্রকল্পটিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশিপুরে আনন্দবাড়ী নামের এক বৃদ্ধাশ্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান।

শামীম ওসমান তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞার বিগত দিনের নারায়ণগঞ্জের কাজের প্রশংসা করে বলেন, ‘আর আশ্রয় কেন্দ্রের যথার্থ নাম দিয়েছেন আমাদের জেলা প্রশাসক ‘আনন্দ বাড়ী’। তিনি আমাদের জেলা প্রশাসক না; তিনি এ নারায়ণগঞ্জের ছেলে। নারায়ণগঞ্জের সন্তান। আর মুসলিম ইনস্টিটিউটের একজন উপদেষ্টা যেন করা হয়। যাতে বাংলাদেশের যে জেলায় থাকুক আমরা যেন সব সময় ওনাকে পাই। এখনও পর্যন্ত আমাদের জেলা প্রশাসক নারায়ণগঞ্জের ২৬ থেকে ২৭টি খেলার মাঠ উদ্ধার করেছেন। সরকারী জায়গা দখল মুক্ত করছেন।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও রহমতউল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরিচালিত ‘আনন্দ বাড়ি’ (প্রবীন ও শিশু নিবাস) এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও রহমতউল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট যৌথ উদ্যোগে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা বলেন, ‘অসহায় বৃদ্ধা ও অসহায় শিশুদের জন্য এ আনন্দ বাড়ি। এছাড়াও যাদের ছেলে মেয়ে বিদেশে থাকেন। এখানে অসহায়ের মতো থাকেন। তাদেরকে এখানে রাখতে হলে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে রাখতে হবে। যাতে করে অসহায় যারা এখানে থাকবেন তাদের খরচ এখান থেকে চলে আসে। একই সঙ্গে শিশুদের পাশে রাখা হয়ে যাতে এখানের দাদা-নাতি বা দাদি-নাতি সম্পর্ক হয়। শিশুরাও কখনো মনে করবে না তাদের কেউ নেই এমনকি বৃদ্ধারাও মনে করবে না যে তাদের কেউ নেই। তাছাড়া এখানের শিশুরা নিজের বাড়ির মতোই থাকবে।’

তৎকালীন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউছুল আজম জানান,‘ অবৈধ দখলে থাকা জায়গা খালি করে রহমতউল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউটের ফান্ড থেকে ২১ লাখ টাকার বালু ফেলে জায়গা ভরাট করা হয়েছে। এর জন্য সরকারি কোন অনুদান নেই। সেহেতু কবে এ প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ হবে সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে। তবে আশা করবো স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ বিত্তবানরা এগিয়ে আসবেন। আর তাদের সহযোগিতায় দ্রুতই কাজ শেষ হবে।

এদিকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরে দীর্ঘ ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ওই বৃদ্ধাশ্রম প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়নি। আনিসুর রহমানের বদলীর পরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক হিসেবে রাব্বী মিয়া এবং এরপরে জেলা প্রশাসক হিসেবে জসিম উদ্দিন যোগদান করলেও এই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি।

অবশেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ শনিবার ২৬ জুন সরেজমিনে প্রস্তাবিত বৃদ্ধাশ্রম আনন্দবাড়ি এর জন্য নির্ধারিত জমিটি পরিদর্শন করেন। এসময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সেলিম রেজা, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলীসহ জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ২৬ জুন নিজের ফেসবুক পেজে কয়েকটি ছবিসহ এক স্ট্যাটাসে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ লিখেছেন, ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুরে এক একর সরকারি খাসজমিতে আনন্দ বাড়ি নামক একটি বৃদ্ধাশ্রম করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো: আনিছুর রহমান মিঞা । সে কাজটি আমরা সবাই মিলে এগিয়ে নিতে পারি।

জানা গেছে, কাশিপুর ইউনিয়নের চৌধুরীগাও এলাকায় এক একর খাস জমির উপরে আনন্দবাড়ি নামের বৃদ্ধাশ্রম স্থাপনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছিল।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও