রেড ক্রিসেন্ট রোভার স্কাউটদের নিরন্তর চেষ্টা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০৬ পিএম, ১ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার

রেড ক্রিসেন্ট রোভার স্কাউটদের নিরন্তর চেষ্টা

করোনা সংক্রামণ রোধে মানুষকে সচেতন করা সহ বিধি নিষেধ মেনে চলার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন রোভার স্কাউট ও রেডক্রিসেন্ট।

১ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে শতাধিক সদস্যরা কাজ শুরু করে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে তাদের কার্যক্রম। আগামী এক সপ্তাহ একই ভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছে রোভার স্কাউট ও রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা।

চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ‘শহরের প্রবেশ মুখে একটি গ্রুপ অবস্থান নেয় রোভার স্কাউট ও রেডক্রিসেন্ট এর সদস্যরা। যারাই শহরে প্রবেশ করছেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। কেন আসছে, কোথায় যাবেন, মাস্ক কোথায় ইত্যাদি। যাদের মাস্ক নেই তাদের মধ্যে মাস্কও বিতরণ করেন রোভার স্কাউটের সদস্যরা। এছাড়াও যারা অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়ে আসছেন তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে বাসার দিকে। বিধি নিষেধ মানতে মানুষকে সচেতন করে গিয়েছেন কখনো খালি গলায় কিংবা মাইকিং করে। এক সময় সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটরা চলে গেলেও দায়িত্ব পালন করেন রোভার ও রেডক্রিসেন্টার সদস্যরা।

সরকারি তোলারাম কলেজের রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্য আতিকুর রহমান বলেন, ‘করোনা সংক্রামণ রোধে মানুষকে সচেতন করতে ও লকডাউনের বিধি নিষেধ কার্যকর করতে আমরা সকাল ৬টা থেকে ২০ সদস্য চাষাঢ়া ও আশে পাশে দায়িত্ব পালন করছে। আমরা মূলত প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত পালন করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মূলত মানুষকে মাস্ক ব্যবহার করা, করোনা সংক্রামণ রোধে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা এবং যেসব বিধি নিষেধ আছে যেমন এক রিকশায় একজন, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বের হয়েছে কিনা ইত্যাদি দেখছি। যদি কেউ অপ্রয়োজেন বের হয় তাদের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

আতিকুর রহমান বলেন, ‘লকডাউন কার্যকর হয়েছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ মানুষই জরুরী প্রয়োজনে বের হয়েছে বলছে। কিন্তু তাদের কথা বার্তা ও আচার ব্যবহারে মনে হচ্ছে না সত্য বলছে। তারপরও প্রেসক্রিপশন ও আইডি কার্ড দেখে যেতে দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘লকডাউন তবেই সফল হবে যখন মানুষ নিজ থেকে ঘরে থাকবে। অন্যথায় যতই চাপ সৃষ্টি করে মানুষ বের হয়।’

নারায়ণগঞ্জ রেডক্রিসেন্টের সদস্য মোস্তাকিন ইসলাম বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে ২৬ জন সদস্য কাজ করছে। যার মধ্যে কিছু কাজ করছে চাষাঢ়া গোল চত্ত্বরের আশে পাশে আর কিছু করছে দিগুবাবু বাজারে। আমরা মূলত মানুষকে করোনা সংক্রামণ রোধে সচেতন করতে ও বিধি নিষেধ কার্যকর করতে কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘এভাবে কঠোরভাবে কাজ করলে অবশ্যই আগামী দিনগুলোতে লকডাউন কার্যকর হবে। আমরা করোনা সুরক্ষায় সুফল পাবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে দেখেছি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা গাদাগাদি করে অফিসে যাতায়াত করেছে। কিন্তু যদিও এগুলো গার্মেন্টেসের আমরা তাদের সচেতন করতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাদের বলে সফল হওয়া সম্ভব হয়নি। এক্ষত্রে পোশাক শ্রমিকদের জন্য আরো বাসের ব্যবস্থা করা গেলে এবং শহরের অন্যান্য পরিবহন কমিয়ে দিলে ভালো হবে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে করোনা বিধি নিষেধ কার্যকর করতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রোভার স্কাউট ও রেডক্রিসেন্টের ১০০ সদস্য কাজ করছে।’


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও