‘খোরশেদ ভাই কই’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫০ পিএম, ৬ জুলাই ২০২১ মঙ্গলবার

‘খোরশেদ ভাই কই’

কোভিড-১৯ বা করোনার তৃতীয় ডেউ ডেল্টা ভেরিয়েন্টের প্রভাব আবারও নগরবাসীর মধ্যে পরতে শুরু করেছে। এখন প্রতিদিনই একজন দুইজন করে মারা যাচ্ছেন। হাসপাতালের বেডগুলোও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য খালি নেই। এসময় নগরবাসী সেবা কিংবা করোনায় পরম বন্ধু হিসেবে পাচ্ছেন না কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে। কোথায় আছেন খোরশেদ? এ বিপদের দিনে পরম বন্ধুকে না পেয়ে দুশ্চিন্তায় নগরবাসী।

৫ জুলাই সোমবার সকালে সদর উপজেলার ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় দুইজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। যার মধ্যে ইসমাইল খান (৬৬) ঢাকা পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। আর সালমা বেগম (৬৫) মারা যান নারায়ণগঞ্জ কোভিড ডেডিকেটেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। তবে এ দুইজনের মরদেহ দাফনের জন্য কাউন্সিলর খোরশেদকে ফোন দিয়ে পায়নি স্বজনরা। পরে কেউ যখন আসছিল না তখন খোঁজ নিয়ে টিম খোরশেদের দাফন কমিটির প্রধানকে ফোন দেন। বিস্তারিত শুনে উভয় দাফন সম্পন্ন করেন টিম খোরশেদের সদস্যরা। তবে এসময় পাশে পাওয়া যায়নি টিম খোরশেদকে।

নিহতের স্বজনা বলেন, ‘কাউন্সিলর খোরশেদ ভাইকে এ দুঃসময়ে ফোন দিয়ে পাওয়া যাবে না এটা বিশ্বাস হচ্ছে না। তিনি এ মহামারীতে আমাদের মতো অসহায় মানুষের পরম বন্ধু। খোরশেদ ভাই অনুপস্থিত থাকলেও তার টিম আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তারপরও খোরশেদ ভাইকে আমরা কাছে পেতে চাই। খোরশেদ ভাইয়ের বিকল্প খোরশেদ ভাইই অন্য কেউ হতে পারবে না।’

১৩নং ওয়ার্ডের ধোপা পট্টি এলাকায় জলাবদ্ধতায় নগরবাসী যখন দুর্ভোগে তখনই কাউন্সিলর খোরশেদকে ফোন দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু ফোন বন্ধ হয়ে অসহায় হয়ে পরেন স্থানীয়রা। কোথায় যাবেন, কার কাছে যাছেন, কে এভাবে নগরবাসীর সমস্যার কথা শুনবে? এসব দুশ্চিন্তায় পানির মধ্যেই চলাচল করেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, ‘খোরশেদ ভাইকে ফোন দিলে সঙ্গে সঙ্গে এসে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণ করতো। কিন্তু খোরশেদ ভাইকে ফোনে পাইনি। ফোন দিলেও নাম্বার বন্ধ। এর জন্য ৩/৪ দিন জলাবদ্ধতার মধ্যে চলাচল করতে হয়েছে। খোরশেদ ভাই থাকলে এ অবস্থায় থাকতে হতো না।’

তিনি বলেন, ‘এমন একজন জনবান্ধব মানুষকে আজ সব কিছু বন্ধ করে লুকিয়ে জীবন যাপন করতে হবে? এটা আমাদের নগরবাসীর জন্য কলঙ্ক। আমরা নগরবাসী তার জন্য কিছু করার প্রয়োজন।’

উল্লেখ ২০২০ সালে মার্চ থেকেই করোনা সংক্রামণ রোধে মানুষকে সচেতন করার মধ্যে দিয়ে কাজ শুরু করেন কাউন্সিলর খোরশেদ। ধারাবাহিক ভাবে করোনা সুরক্ষায় হ্যান্ড স্যানেটাইজার, মাস্ক, লিফলেট ইত্যাদি বিতরণ করেন। পরবর্তীতে করোনায় আক্রান্ত মরদেহ দাফন ও সৎকার কাজও শুরু করেন তিনি। একেক করে ফ্রি অক্সিজেন, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা, ফ্রি টেলি মেডিসিন, ফ্রি প্লাজমা, বিনামূল্যে খাদ্য ও শিশু খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যান। যা এখনও চলমান রয়েছে। এসব কাজে আগে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নেতৃত্ব দিলেও এখন তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

সম্প্রতি এক নারী কাউন্সিলর খোরশেদকে বিয়ে করার জন্য ব্যাপক ভাবে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন। প্রশাসনিক আশ্রয় খুঁজেও যখন না পেয়ে ব্যর্থ হন কাউন্সিলর খোরশেদ তখনই ফেসবুক লাইভে এসে বিস্তারিত নগরবাসীকে জানান। ওইসময় তিনি বলেন, ‘এক নারীর বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যার হুমকি দেয় ওই নারী।’ আর এ লাইভকে কেন্দ্র করে ফতুল্লা মডেল থানায় ওই নারী কাউন্সিলর খোরশেদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে জামিন অযোগ্য মামলা দায়ের করেন। যার জন্য আত্মগোপনে রয়েছেন কাউন্সিলর খোরশেদ।

কাউন্সিলর খোরশেদ আত্মগোপনে থাকার পর থেকেই তার গঠিত টিম খোরশেদ সব ধরনের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। দাফন সৎকার থেকে শুরু করে ফ্রি অক্সিজেন সাপ্লাই পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কাউন্সিলর খোরশেদ সামনে থেকে যত সহজে সেবা দিতে পারতেন সেটা সদস্যরা পারছেন না।

টিম খোরশেদের দাফন কমিটির প্রধান হাফেজ শিব্বির বলেন, ‘খোরশেদ ভাই থাকলে যেকোন সিদ্ধান্ত তিনি নিজে নিতেন। কোন সমস্যার কথা চিন্তা করতেন না। আর সমস্যা হলেও তিনি সমাধান করতেন। যা আমাদের উপরে কখনো আসতো না। কিন্তু এখন খোরশেদ ভাই নেই সব সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে হয়। এর জন্য চিন্তা করতে হয় আমরা ভুল করছি না সঠিক করছি। এরজন্য সময় লাগে। তাছাড়া অনেক জায়গায় কাউন্সিলর হিসেবে খোরশেদ ভাই গিয়ে অনুমতি দ্রুত পেয়ে যেতো এখন সেটা আমাদের ফোন দিয়ে বিভিন্ন জনকে বলে করতে হয়। এছাড়াও টাকা থেকে শুরু করে যেকোন সেবাও নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে দিতে হয়। কিন্তু কাউন্সিলর খোরশেদ ভাই বলতে আগে সেবা পরে সব কিছু হবে। যা এখন আমরা দিতে পারছি না। এসব ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিবন্ধকতার মুখে পরতে হয়। কাউন্সিলর খোরশেদ ভাইয়ের বিকল্প নেই।’


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও