সেলাই শিখে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে ৩০ নারী

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১২ পিএম, ৬ জুলাই ২০২১ মঙ্গলবার

সেলাই শিখে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে ৩০ নারী

নারায়ণগঞ্জের দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অসহায় নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আন্দোলন সহযোগী সংগঠন দলিত নারী ফোরাম।

৬ জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে শহরের ইসদাইর এলাকায় ১৫জন ও মদনগঞ্জ এলাকায় আরো ১৫জন নারীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন শিক্ষিকা ফেরদোসী মোর্শেদা ও শামিমা নাসরিন সুলতানা। এছাড়াও সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে দলিত নারী ফোরামের পোগ্রাম অফিসার সনু রানী দাস।

সনু রানী দাস বলেন, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জের ১০টি এলাকায় কাজ করি। সেখানে ২০জনের একটি গ্রুপে নারীদের সচেতন করা হয়, যেমন কিভাবে সরকারি পরিসেবা, ভাতা, লিঙ্গ বৈষম্যতা যেন এক কমিউনিটিতে না হয়, জাতীয় পরিচয় পত্র করা ইত্যাদি)।

তিনি বলেন, ‘দলিত নারী ফোরামের উদ্যোগে এখানে একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। যাতে করে নারীরা আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। ঘরের কাজের পাশাপাশি তারা যেন অন্যান্য কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারে সেজন্য সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ সম্প্রদায়ের মেয়েদের অল্প সময়ে বিয়ে হয়ে যায়। ফলে তারা সংসারে ব্যস্ত হয়ে পরে। যেহেতু তাদের পড়ালেখা করে না সেহেতু তারা আয়ের জন্য তেমন কোন কাজে যোগদান করতে পারে না। সেজন্যই আমরা দলিত ফোরামের উদ্যোগে এ আয়ের জন্য সেলাই প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে। তারা আয় না করতে পারলেও নিজের পোশাকটা নিজেরা সেলাই করতে পারবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এমপি, মেয়র ও নারী উদ্যোক্তারা যদি এসব নারীদের জন্য এগিয়ে আসে তাহলে তারা আরো ভালো কিছু করবে। এরা যেন ঝরে না পরে সেজন্য এগিয়ে আসতে হবে। তাদের যদি একটা সেলাই মেশিন দিয়েও সহযোগিতা করা হয় তাহলে তারা খুবই উপকৃত হবে।’

শিক্ষিকা ফেরদোসী মোর্শেদা বলেন, ‘এখানকার নারীদের অনেক আগ্রহ। কিন্তু তারা পিছিয়ে আছে কারণ তাদের কেউ প্রশিক্ষণ দিতে আসে না। ওরা যেন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাভলম্বী হতে পারে সেজন্য আমি তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আমি যদি তাদের ভালোভাবে শিখাতে পারি তাবেই আমার সার্থকতা।

তিনি বলেন,‘আমরা ১০দিন ধরে ২০জন নারীকে হাতে কলমে ও মেশিনের সাহায্যে কাজ শিখানো হচ্ছে। আর নারীরাও আগ্রহ নিয়ে কাজ শিখছে। এটাই আমার কাছে খুব ভালো লাগে।

সেলাই প্রশিক্ষণ নিচ্ছে শিখা, বিথী, সোনালী, সিবানী, প্রীতি, রূপা, জ্যোতি, দিয়া, নিপা, সানদিয়া, মনিশা, অনিতা, বন্যা, সোনিয়া, অনিমা।

সিবানী দাস বলেন, ‘আমরা এখানে ভালো ভাবে কাজ শিখতে পারছি। এ ৭/৮ দিনে আমি বাচ্চাদের পোশাক কাটিং করা ও সেলাই করতে শিখেছি। আশা করছি দ্রুত অন্যান্য কাজ শিখতে পারবো।’

প্রীতি দাস বলেন, ‘আমাদের প্রশিক্ষক ম্যাডাম খুব ভালো ভাবে কাজ শেখায়। আমরা না বুঝলে ভালো ভাবে বুঝিয়ে দেয়। যার জন্য আমরা দ্রুত কাজ শিখছি।’

সোনিয়া বলেন ,‘আমরা অনেক গরীব। কাজতো শিখছি সরকারি ভাবে যদি আমাদের একটি মেশিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় তাহলে খুব উপকৃত হবো। আমরা কাজ করে নিজেরা স্বাভলম্বী হতে পারবো।’


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও