মানুষ শুধু ছবি তুলে সাহায্য করতে বইলেন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০৯ পিএম, ১১ জুলাই ২০২১ রবিবার

মানুষ শুধু ছবি তুলে সাহায্য করতে বইলেন

অসুস্থ স্বামী বাড়িতে পা ভেঙ্গে শয্যাশায়ী। করোনা আর লকডাউনে সংসারের খরচ বাড়ছিলো প্রচুর। অথচ আয় নেই বললেই চলে। আত্মীয় স্বজনদের সহায়তা নিয়ে স্বামীর চিকিৎসা আর কোনমতে সংসার চালাচ্ছিলেন মনোয়ারা (৩৫)। মাস দুয়েক পূর্বে সেজান জুস কারখানায় যুক্ত হন। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় মাত্র ৫ হাজার ৬০০ টাকা বেতনে ১২ ঘন্টা ডিউটির দায়িত্ব নেন। কিন্তু সেই বেতন আর ভাগ্যে জুটেনি। উল্টো হাত-পা ভেঙ্গে হাসপাতালের বিছানায় এখন শয্যাশায়ী।

হাশেম ফুড এন্ড বেভারেজ কারখানার হাজারো শ্রমিকদের একজন মনোয়ারা বেগম। শত শত কিশোরী মেয়ের মাঝে নিজেকে মানাতে বেশ লজ্জাবোধ করছিলেন তিনি। তবুও সংসারের ঘানি টানতে কিশোরীদের মাঝেই কাজে যুক্ত হয়ে যান। নিজ সেকশনে কাজ করা কিশোরীদের কাছে মনোয়ারা খালা হিসেবে সবাই চিনতো তাকে। চোখের সামনে নিজের ছেলে মেয়ের বয়সী কিশোরীদের পুড়ে মরতে দেখে দুঃসহ স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাকে। চোখ বুজলেই আগুন আর চিৎকার কানে বাজে তার।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এভাবেই নিজের কথা প্রতিবেদককে জানাচ্ছিলেন তিনি। হাত পা ভেঙ্গে শুয়ে থাকলেও বাড়িতে শয্যাশায়ী প্রিয়তম স্বামীর খোঁজও নিচ্ছেন মেয়েদের মাধ্যমে। বার বার বলছেন ‘তোর বাপরে একটু দেইখা রাখিস।’

মনোয়ারা বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে কারখানায় আগুন লাগোনের পরে আমি পোলাপানগুলারে (কিশোরী মেয়েদের) কই তাত্তারি জানালা ভাইঙ্গা ফালা। ওরা হাতের সামনে যা পাইসে তা দিয়া ভাঙ্গছে। সবাই যখন লাফায়া লাফায়া পরছে তখন মনে হইসে আমিও পারুম। আমি দেখি ক্রেনের মানুষ লাফায়া পরতাছে। আমিও মানুষের উপরেই লাফ দিয়া পরছি। হেরপর আমার উপরেও কয়েকজন পরলো। আমার বুকে, ঘারে, হাতে অনেক ব্যাথা পাইসি। পায়ে কোন বোধই পাইতাসিলাম না। পরে ডাক্তারে এক্সরে কইরা কইলো আমার হাত পা ভাইঙ্গা গেসে। আমার জামাই ১১ মাস ধইরা বিছানায়, আমিও বিছানায়। আমার সংসারটা কেমনে চলবো স্যার?

স্বামী অসুস্থ হবার কারণ জানতে চাইলে বলেন, উনি কারখানা থিকা ফিরার পথে অটোরিকশা চাপা দিয়া পায়ের হাড্ডি ৩ ভাগ কইরা লাইসে। হেয় সারাদিন শুইয়া থাকে। আত্মীয়গো কাছ থিকা টাকা আইনা চলছি। মানুষের টাকায় কতদিন? এই চিন্তা কইরা কামে লাগছি। আমার ২ টা ছোট ছোট পোলা আর একটা বড় মাইয়া আছে। এরা আমারে ছাড়া কেমনে সংসার চালাইবো।

ফেরার পথে মনোয়ারা বলেন, স্যার আজ সারাদিন কত মানুষ আইয়া আমার ছবি তুললো। আমারে একটু সহায়তা করতে কইয়েন। আমার সংসারটা কেমনে চালামু জানিনা। আমার বেতনও পাইনাই। আল্লাহ যদি রহম করে তাইলেই বাঁচুম।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও