নিরাপদে গরু কিনে আনন্দিত ক্রেতারা,যুবকদের কর্মসংস্থান

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৬ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার

নিরাপদে গরু কিনে আনন্দিত ক্রেতারা,যুবকদের কর্মসংস্থান

করোনা সংক্রামণ এড়িয়ে নিরাপদে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ‘মারহাবা’ ফার্ম থেকে উন্নত জাতের সুস্থ-সবল ও সুলভ মূল্যে কোরবানির গরু কিনতে পেরে আনন্দিত ক্রেতারা। ফার্ম কর্তৃপক্ষের কথায় ও কাজে মিল থাকায় ভবিষ্যতেও একই ফার্ম থেকে গরু কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তারা। আর ভবিষ্যতে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ফার্ম কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ‘মাত্র তিন মাস আগেই উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া মার্কেট সংলগ্ন ‘মারহাবা’ ফার্মের যাত্রা শুরু হয়। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে কোরবানির জন্য কৃষকের কাছ থেকে উন্নত জাতের সুস্থ সবল গরু আনা হয়। আর এসব গরুর সর্বক্ষনিক দেখাশোনা ও খাওয়ানোর জন্য স্থানীয় ১৫ জন লোক কাজ করেন। ফলে কোরবানির ৩ দিন আগেই সব গরু বিক্রি হয়ে যায়।

উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকার সোহেল রানা বাবু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মারহাবা ফার্মের গরুর ছবি দেখতে পান। দেখতে সুন্দর হওয়ায় সরেজমিনে এসে ফার্ম থেকে একটি গরু কিনেন।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে করোনা সংক্রমণ বেশি। হাটে গিয়ে গরু কিনতে ভয় হচ্ছিল। ফেসবুক মারহাবা ফার্মের গরুগুলো দেখে পছন্দ হয়। সরেজমিনে ফার্মে এসে সামনে থেকে গরুগুলো দেখে একই ছিল। তাছাড়া দামও সাশ্রয়ী হওয়ায় একটি গরু কিনেছি। এখানে হাসলি কিংবা অতিরিক্ত খরচও লাগেনি। ফার্মের লোকজনই গরু বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘হাটের ঝামেলা ছাড়া নিরাপদে যেহেতু মারহাবা ফার্ম থেকে গরু পেয়েছি সেহেতু ভবিষ্যতেও এখান থেকেই কোরবানির গরু কিনবো। অন্য কোথাও যাবো না। যদি ফার্ম কর্তৃপক্ষ তাদের কথায় ও কাজে ঠিক থাকে।’

আড়াইহাজার উপজেলার একটি স্পিনিং মিলের মালিক পক্ষের লোকজন ১৭টা গরু কিনেন। তারা বলেন, ‘১৭টি গরু হাট থেকে কিনতে গেলে অনেকগুলো হাট ঘুরতে হতো। অনেক সময় ব্যয় হতো। তাছাড়া ভালো গরু কেনা নিয়েও শঙ্কা থাকতো। তাছাড়া করোনার ভয়তো আছেই। এখান থেকে নিরাপদে গরু কিনতে পেরে ভালো লাগছে।’

ঢাকা থেকে গরু কিনতে মারহাবা ফার্মে আসেন মো. বাবুল। তিনি বলেন, ‘দেশে গরু দেখে আমার সব চেয়ে আগ্রহ জমে। তাই ঢাকা থেকে এখানে এসেছি গরু কিনতে। ঢাকা থেকে আসছি বলেও তারা তাদের কথা অনুযায়ী গরু আমার বাসায় পৌঁছে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘হাটে গেলে করোনার ভয় আছে। তাছাড়া হটের ইজারাদাররা ক্রেতাদের সঙ্গে জুলুম করে। অতিরিক্ত টাকা না দিলে গরু ছাড়ে না। এখানে এসব কোন ঝামেলা নেই। নিরাপদে গরু কিনেছি আবার তারাই বাড়ি পৌছে দিয়েছে। এর চেয়ে আরামে গরু কেনার কি আছে।’

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে সোহেল ভূইয়া অনলাইনে গরু কিনেছেন।

তিনি বলেন, ‘যানজট ঠেলে ভুলতা গিয়ে গরু কেনা সম্ভব না বলে অনলাইনে গরুর অর্ডার দেই। অনলাইনে যেটা অডার দিয়েছি সেটাই আমার বাসায় পৌছে দিয়েছে। কথা কাজে ১০০ ভাগ মিল আছে। এটা ঠিক থাকলে ভবিষ্যতেও এখান থেকেই গরু কিনবো।

মারহাবা ফার্মের তত্ত্বাবধায়ক শহিদুল ইসলাম শিপলু ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ফার্মে গরু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন হাট থেকে আনা হয়। এগুলো সব ছিল কৃষকের লালন পালন করা গরু। ফলে এ গরু গুলো সুস্থ ও সবল ছিল। তাছাড়া আমরা এখানে তিন মাস লালন পালন করেছি। ফলে ক্রেতারা উন্নত জাতের গরু পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি গরু ওজন দিয়ে মেপে দেওয়া হয়েছে। ক্রেতা ঠকাবে এমন কোন সুযোগ নেই। আমরা সর্বদা ক্রেতা চাহিদার উপর গুরুত্ব দিয়েছি। তাদের সুবিধা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সেবা দিতে চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও আমরা আমাদের সেবার মান বজায় রাখবো।’

মারহাবা ফার্মের পরিচালক ও উদ্যোক্তা মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া বলেন, ‘করোনা সংক্রামণ রোধে মানুষকে নিরাপদে কোরবানির গরু কেনার সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই আমরা এ উদ্যোগ গ্রহণ করি। এতে স্থানীয় ১৫ জন বেকার মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে। মানুষ নিরাপদে সাশ্রয়ী মূল্যে তার পছন্দের গরু কিনতে পেরেছে এটাই আমার ভালো লেগেছে। আর আমরাও আমাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে পেরেছি এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।

তিনি আরো বলেন, ‘এবার আমাদের ছোট পরিসরে ছিল। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে করবো। এখানে আরো বেশি গরু থাকবে। মানুষ নিরাপদে গরু কিনতে পারবে। সেজন্য সর্বোচ্চ সেবার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে। এ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবো।’


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও