সেজান জুসে অগ্নিকান্ডে ২১ দিনেও প্রতিবেদন দেয়নি তিন তদন্ত কমিটি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:২১ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার

সেজান জুসে অগ্নিকান্ডে ২১ দিনেও প্রতিবেদন দেয়নি তিন তদন্ত কমিটি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সাত কার্যদিবসে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও ২১ দিনেও তিনটি তদন্ত কমিটির কেউ প্রতিবেদন দাখিল করেনি। তবে অতিরিক্ত তাপে কারখানার নিচ তলার এগজস্ট ফ্যানের তার গলে কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) দেবাশীষ বর্ধন।

২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে মোবাইল ফোনে এ তথ্য জানান তিনি। দেবাশীষ বর্ধন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি এখনও তদন্ত করছেন। আশা করছি আগামী রোববার তারা প্রতিবেদন জমা দিবেন।’

আগুনের সূত্রপাত কিভাবে? জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে জানা যাবে। তবে জানতে পেরেছি অতিরিক্ত তাপে কারখানার নিচ তলার এগজস্ট ফ্যানের তার গলে কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আর কারখানায় প্রচুর দাহ্য পদার্থ ছিল। ফলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পরে। আরো বিস্তারিত তদন্ত কমিটির প্রধান পরিচালক লে. কর্ণেল জিল্লুর রহমান বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির প্রধান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) জিল্লুর রহমান এর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

উল্লেখ গত ৮ জুলাই বিকেলে উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার ১৪ নম্বর গুদামের ৬ তলা ভবনে অগ্নিকানাডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক ভবন থেকে লাফিয়ে পরে ৩জন মারা যায় এবং ১০জন আহত হয়। প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরদিন শুক্রবার বিকেলে আগুন নিভিয়ে ফেলার পর ৪৮ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানাধীন ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে কারখানার মালিক আবুল হাসেম সহ ৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে নিরাপত্তা না থাকা সহ বিভিন্ন অবহেলার অভিযোগ এনে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখিত আসামি কারখানার মালিক মো. আবুল হাসেম সহ তাঁর চার ছেলে ও ডিজিএম, এজিএম ও ইঞ্জিনিয়ার সহ ৮জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করে। পরে আদালত থেকে কারখানার মালিক আবুল হাসেম, তাঁর ৪ ছেলে জামিনে বের হয়ে আসেন আর ডিজিএম, এজিএম ও ইঞ্জিনিয়ার ৩ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন। পরবর্তীতে এ মামলাটি তদন্তভার সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

তাৎক্ষনিক এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। জেলা প্রশাসনের ৫ সদস্যের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন ৭ কার্যদিবস, ফায়ার সার্ভিসের ৫ সদস্যের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন ৭ কার্যদিবস ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ৫ সদস্যের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন ৫ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘটনার পর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ কারখানা চালু হবে এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় শ্রমিকেরা।

কারখানার শ্রমিক আব্দুল হাকিম বলেন, ‘কারখানা বন্ধ হওয়ায় আমরা এখন বেকার বাসায় বসে আছি। কোথাও কাজও পাচ্ছি না। কবে কারখানা খুলবে সেটাও জানি না।’

কারখানার ম্যানেজার (হিসাব) নাহিদ মুরাদ বলেন, ‘১৩ জুলাই বেতন ও ১৯ জুলাই ওভারটাইম ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রয়েছে।’

কবে কারখানা চালু হবে? তিনি বলেন, ‘এখনও বলা যাচ্ছে না। কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, বিদ্যুৎ লাইন কাটা, ফায়ার সার্ভিস অনুমোদন দিবে এবং তদন্ত শেষ করে যখন তারা অনুমতি দিবে তখনই চালু হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই কারখানা দ্রুত চালু হোক। অন্যথায় আমরা স্টাফ সহ ২ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। আমাদের সংসার চলাতেই কষ্ট হয়ে যাবে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আতাউর রহমান বলেন, ‘মামলার দায়িত্বগ্রহণের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। তবে এখনও শুনানি হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। কাজ শেষ হলে উর্ধ্বতনরা আপনাদের জানাবেন।’

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক ফরিদ আহমেদ বলেন,‘তদন্তের সময় আরো ৫ কার্যদিবস বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। আশা করছি খুব শিঘ্রই প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো। ইতোমধ্যে আমাদের তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত বের করতেই আমরা কাজ করছি। যার জন্য আজকেও আমরা ঘটনাস্থলে তদন্ত করছি।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শামীম বেপারীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আরো ৭ কর্ম দিবসের সময় নিয়েছেন। আশা করছি দ্রুত কাজ শেষ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই বিস্তারিত বলা যাবে। এর আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও