শীতলক্ষ্যার পানি টলটল করছে

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০৫ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২১ শনিবার

শীতলক্ষ্যার পানি টলটল করছে

রাজধানী ঢাকা থেকে অল্প দূরত্বের শহর নারায়ণগঞ্জ। এখানে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বন্দর থাকায় শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত শীতলক্ষ্যা নদী বহুদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। একসময় শীতলক্ষ্যা পানির স্বচ্ছতা এবং শীতলতার জন্য বিখ্যাত হলেও বর্তমানে তার রূপ হারিয়ে গেছে। নদীর পার ঘেঁষে গড়ে তোলা শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যে নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। সেখানে জলজ প্রাণের অস্তিত্ব মারাত্মক সংকটে। পরিবেশ অধিদপ্তর একে মৃত নদী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

তবে এখনও বর্ষা মৌসুমে শীতলক্ষ্যার নদীর পানির স্বচ্ছতা কিছুটা ফিরে আসে। উৎকট গন্ধ দূর হয়ে সেখানকার পানি স্বচ্ছ ও টলমল দেখায়। আঁকাবাঁকা বয়ে চলা নদীর টলটলে পানি দেখলেই যেন মন জুড়িয়ে আসে। যে কেউ শীতলক্ষ্যার টলটল করা পানি দেখলেই দূরন্ত শৈশবে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করবে। মন চাইবে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইচ্ছেমতো সাঁতার কাটতে হৈ হুল্লোড়ে মেতে উঠতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উৎকট গন্ধে কাছে যেতে না পারা শীতলক্ষ্যা নদীর পানিতে স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে। পানিতে নেই গন্ধ। বাতাসে ছোটো ছোটো ঢেউ এসে নদীর পাড়ের সাথে বাড়ি খাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন শীতলক্ষ্যা আগের রূপ ফিরে পেয়েছে। কোথাও কোথাও মাছ শিকারিরা বড়শি দিয়ে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর চারপাশ ঘিরে রেখেছেন উৎসুক জনতা।

শীতলক্ষ্যা নদী পার হচ্ছিলেন বন্দর এলাকার বাসিন্দা সুমন। তিনি অনেকটা আক্ষেপ করেই বলেন, ‘ইশ প্রতিদিন যদি পানিটা এরকম থাকতো। বর্ষা মৌসুম ছাড়া নদী পারাপার হওয়ার কোনো উপক্রম থাকে। পানির দুর্গন্ধে কাছে আসা যায় না। প্রতিদিন নাক ছেপে ধরে নদী পার হতে হয়। বর্ষা মৌসুম আসলে পানির দুর্গন্ধ দূর হয়। সেসময় মন চাই পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইচ্ছামতো সাঁতার কাটতে।

গ্রীন ফর পিসের নির্বাহী পরিচালক এস এম আরিফ মিহির বলেন, লকডাউন চলাকালিন সময়ে দায়িত্ব পালনের জন্য গতকাল শীতলক্ষ্যা নদী পাড়ি দিচ্ছিলাম। আর এই সময়টাতে মনে হয়েছে আমি অফুরন্ত একটি সময় অতিবাহিত করেছি। নদীয় পানি টলমল টলমল করছে। আমি তিন থেকে চারমাস আগে যখন নদী পাড়ি দিয়েছিলাম তখন নদীর পানিতে প্রচন্ড দুর্গন্ধ পেয়েছিলাম। পালি ছিলো একেবারে কালো। কিন্তু গতকাল পার হওয়ার পর ছোটবেলা শীতলক্ষ্যা নদীকে যেমন দেখেছিলাম কিছুটা সেরকম মনে হয়েছে। নদীর পানি এরকম দেখে আমি যারপরনাই আনন্দিত হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, একসময় এই শীতলক্ষ্যা নদীর পানি মানুষ বিভিন্ন সময় পিপাসা মেটানোর জন্য পান করতো। দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্যবহার করা হতো। শীতলক্ষ্যা আগের অবস্থায় ফিরে আসুক এটা আমার প্রাণে দাবী। নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা আমি চাই বর্তমান শীতলক্ষ্যার রূপ চির অম্লান থাকুক। আর যেন এই পানিতে কোনো দুর্গন্ধ না পাই। যারা প্রতিনিয়ত শীতলক্ষ্যাকে ধ্বংস করছেন তাদের প্রতি আমার বিনম্র  অনুরোধ আজীবন যেন শীতলক্ষ্যার এই রূপ থাকে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও