নিতাইগঞ্জের বিকে রোডের চিত্র : থকথকে কাদা, ঠেলাগাড়ির রাজত্ব

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৪১ পিএম, ৭ আগস্ট ২০২১ শনিবার

নিতাইগঞ্জের বিকে রোডের চিত্র : থকথকে কাদা, ঠেলাগাড়ির রাজত্ব

রোডের নাম নিতাইগঞ্জ বিকে রোড। এ যেন গ্রামের কোন মেঠো পথ। বর্ষায় বৃষ্টির পানি ও কাদা মিশে একাকার। থকথকে কর্দমাক্ত এ পথে পা টিপে টিপে চলতে হয়। নইলে পা পিছলে আছাড় খেতে হবে। এ পথে দু’এক মিনিট পরপর চার/পাঁচটি করে ঠেলা গাড়ি চলছে। গম বোঝাই ঠেলাগাড়ি। আগেপিছে ৩ জন বা ৪ জন শ্রমিক। দিব্যি ওরা চলে যাচ্ছে। কোন অসুবিধাই ওদের কাছে অসুবিধা নয়। কাঁদা মাড়িয়ে খালি পায়েই ওরা চলতে জানে। ঠেলাগাড়ি নিয়ে হেলতে দুলতে চলেন লোড-আনলোড শ্রমিকরা। ওরা কখনো পিছলে পড়ে না। এই কর্দমাক্ত পথ ওদের আপন করে নিয়েছে। নিতাইগঞ্জ বিকে রোডটি দিয়ে স্থানীয় লোকজন চলাচলে খুব একটা আগ্রহী নয়। সকলেই মহল্লার ভেতর দিয়ে বাপ্পী সড়ক দিয়ে চলাচল করে।

কয়েকজন শ্রমিকের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। ডাল, গম ও ভূষির ডাস্ট বৃষ্টির পানির সাথে মিশে থকথকে কাদায় পরিণত হয়। এই কাদায় পায়ের পাতা ডুবে যায়। রাস্তায় পা রাখলেই পায়ের জুতা কাদায় তলিয়ে যায়। ফলে তোলারাম মোড় থেকে নিতাইগঞ্জ মোড় পর্যন্ত মানুষ চলাচলে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। নিতাইগঞ্জের এই রাস্তাটি দিয়ে এখন বৃষ্টির সময় সাধারন মানুষ চলাচলে আগ্রহী নয়। প্রতিনিয়ত দেড় হাজার শ্রমিকের চলাচলে রাস্তায় হেঁটে চলা দায় হয়ে পড়ে। রিক্সা নিয়ে ঢোকা যায় না। এখানে সেখানে ঠেলা গাড়ি কিম্বা ট্রাক থামানো থাকে। চলছে লোড-আনলোড। শ্রমিকদের কোন খেদ নেই। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দরকার ছাড়া এ দিকে আসতে চান না।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, নিতাইগঞ্জের রাস্তায় প্রতিদিন ২০০ ঠেলা গাড়ি চলাচল করে। ফলে এই রাস্তা থাকে ঠেলা গাড়ির দখলে। প্রতি মিনিটে ৪/৫ টি ঠেলাগাড়ি চোখে পড়ে। নিতাইগঞ্জ মোড় থেকে তোলারামের মোড় পর্যন্ত কয়েক গজ দূর দূর চোখে পড়ে ঠেলাগাড়ি। ঠেলার উপর গমের বা ডালের বস্তা। আনলোড করা হচ্ছে। এ সময় ঝুরঝুর করে গম পড়ছে। এই গম, ডাল বা ভূষি রাস্তায় কাদার সাথে মিশে যাচ্ছে। রাস্তায় চলার সময় একটা বোটকা গন্ধ নাকে আসে। কয়েকজন মিল মালিক বলেন, নিতাইগঞ্জের রাস্তা বেশিদিন টিকে না। হয়তো ঠিকমত কাজ করা হয় না। আবার আরেকটা কারণ হতে পারে এই সড়কটা মহাসড়কের মত ব্যবহার হয়। কোথাও একটা ছোট গর্ত হলেই রাস্তায় গর্ত বাড়তে থাকে। কিছু পয়েন্টে ওয়াসার পানি উপচে বের হয়। ওয়াসার লাইনে লিকেজের কারণেও রাস্তার ক্ষতি হয়।

কয়েকজন দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকে রোড দিয়ে বৃষ্টির সময় ও কয়েকদিন চলাফেরা করা যায় না। রাস্তায় যে কাঁদা জমে রোদ না উঠা পর্যন্ত শুকাতে চায় না। তবে প্রখর রোদ্র উঠলে কাদা শুকিয়ে যায়। তখন লোকজন কাদা তুলে ফেলে দেয়। কেননা কাদামাটি তখন শক্ত হয়ে যায়। কিন্তু লাগাতার বৃষ্টি থাকলে এই রাস্তা দিয়ে চলতে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। হেঁটে যাওয়া মুশকিল। রিক্সা পাওয়া যায় না। রিক্সা পেলেও ভেতরের রাস্তায় যানজট থাকবেই। বিকে রোডে শ্রমিক ও ঠেলাগাড়ির রাজত্ব। বিকে রোডের ঐতিহ্য এই ঠেলা গাড়ি। ঠেলাগাড়ি না থাকলে বরং রাস্তাটা বেখাপ্পা দেখায়। দেড় হাজারেরও বেশি শ্রমিকের বাজার এই এলাকা। আবারো বিকে রোডের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই তা টের পাওয়া যায়। বৃষ্টি হলে সরু রাস্তাটি আরো সরু হয়ে পড়ে। কেননা কেহই সাইড দিয়ে চলতে চায় না থকথকে কাদার জন্য।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও