অনিরাপদ শীতলক্ষ্যার পাড়ের ওয়াকওয়ে

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:২১ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০২১ সোমবার

অনিরাপদ শীতলক্ষ্যার পাড়ের ওয়াকওয়ে

‘এখানে থাকবেন না। এখানে ভালো মানুষ চলাফেরা করে না। তাছাড়া মেয়েদের জন্য তো এই জায়গা একেবারেই নিরাপদ না। দ্রুত চলে যান।’ সকাল সকাল টানবাজার স্কুল ঘাটের ওয়াকওয়েতে দাঁড়িয়ে প্রতিবেদককে একথা বলেই সতর্ক করছিলেন স্থানীয় এক কারখানা মালিক।

শীতলক্ষ্যা পাড়ে হাঁটার জন্য সুন্দর এই জায়গাটাকে তিনি কেন মেয়েদের জন্য অনিরাপদ উল্লেখ করলেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। বরং পুনরায় জায়গাটি ত্যাগ করার কথা বলে তিনি প্রস্থান করেন।

অথচ নারায়ণগঞ্জ শহরের মধ্যে সকালে হাটা, শরীরচর্চা, অবকাশ যাপনের জন্য একটি উপযুক্ত জায়গা হওয়ার কথা শীতলক্ষ্যা পাড়ের এই ওয়াকওয়ে। বন্দরঘাট থেকে শুরু হয়ে নিতাইগঞ্জ খালঘাট পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ এর অধীন সুন্দর ও মনোরম এ ওয়াকওয়ে।

খানিকটা দূর এগিয়ে যেতেই প্রতিবেদক উপলব্ধি করেন যে, কেন যায়গাটিকে অনিরাপদ বলে উল্লেখ করেছিলেন ব্যক্তিটি। ওয়াকওয়ের রেলিংএর বাইরের দিকে একটি ঝোপের মধ্যে মাদকসেবন করছিলেন দুইজন মাঝবয়সী ব্যাক্তি। তাদের আত্মবিশ্বাস দেখে মনে হচ্ছিল তারা জায়গাটিকে মাদকসেবনের জন্য অভয়ারণ্য বলেই মনে করছেন। আসেপাশের লোকজন নাক সিটকে পাশ কাটিয়ে গেলেও কাউকে কোনো অভিযোগ করতে দেখা যায়নি।

সে সময় প্রতিবেদকের পাশ ঘেসে আরেক তরুনীকে হাটতে দেখা যায়। এমন পাশ ঘেঁষে কেন হাটছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ রাস্তায় একা হাটতে অস্বস্তি লাগে। প্রায়ই যত্রতত্র মাদকসেবন করতে দেখা যায়। আর নাহয় কোনো নারীকে একা হাটতে দেখলে ওয়াকওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেরা উত্যক্ত করে। তাই এ রাস্তায় হাটার সময় অন্য নারীদের সাথে হাটাই নিরাপদ মনে করি।’

হেঁটে যাওয়ার সময় পাশে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘খালি মাইয়াগো কি অস্বস্তি লাগবো, বেডা মাইনসেও তো এই রাস্তায় হাঁটতে চায় না।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস এ বিষয়ে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা হচ্ছে সেন্ট্রালঘাট। তার পাশেই এই ধরনের ঘটনা বা অনিরাপদ পরিবেশ দুঃখজনক। এর প্রধান কারণ হচ্ছে এই এলাকায় কোনো রক্ষণাবেক্ষণ নেই। এই ওয়াকওয়ে বিআইডব্লিউটিএ`র অধীনে, পাশেই রয়েছে নৌ-থানা। তারা যদি নিয়মিত টহল দিতেন, তাহলে জায়গাটি তুলনামূলক অনেক নিরাপদ হয়ে উঠত। অথচ তারা মাঝেমধ্যে দুয়েকবার টহল দিয়ে চলে যান। তারা হয়তো ভাবেন, এই এলাকা নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। তাদের এই দায়িত্ব অবহেলার জন্যই যায়গাটি দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে।’

তিনি আরও বলন, আমরা করোনা পরিস্থিতির আগে নিজ উদ্যোগেই এলাকাবাসীকে নিয়ে বেশ কয়েবার সচেতনতা মূলক সভার আয়োজন করেছিলাম। যেহেতু ওয়াকওয়ে বিআইডব্লিউটিএ`র অধীনে, পাশেই নৌ-থানা রয়েছে এবং কিছুটা দুরেই সদর থানা, সেহেতু এখানে সরাসরি আমার কাজ করার এখতিয়ার নেই। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিষয়টি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল বলেন, ‘আমরা শুধু ওয়াকওয়ে নির্মাণ করে দিয়েছি, নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের নয়।’

নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, এই ওয়াকওয়েতে কোনো প্রকার মাদকসেবন হয় না। আর হলেও স্থলে কি হচ্ছে তা আমাদের দেখার দায়িত্ব নয়। আমাদের দায়িত্ব শুধু পানিতে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ জামান বলেন, এখনো এ ধরনের অভিযোগ আমরা পাইনি। কোনো যায়গা যদি অনিরাপদ বলে মনে হয়, আমাদের জানাতে হবে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চল হিসেবে বিশ্বখ্যাত। আর এই শিল্পাঞ্চল তৈরিতে যাদের ভূমিকা রয়েছে, তাদের মধ্যে ৫০ ভাগই নারী। অথচ তারাই নারায়ণগঞ্জের এই সুন্দর জায়গাগুলোতে সন্ধার পরে তো দুরের কথা, দিনের বেলায়ও চলাফেরা করতে নিরাপদবোধ করে না।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও