ছাদবাগানে ডেঙ্গু’র ঝুঁকি,জেলায় রয়েছে ১০৩৫ টি ছাদবাগান

ইমতিয়াজ আহমেদ , স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:৫৬ পিএম, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ শুক্রবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

কৃষিবিপ্লব ঘটাতে ছাদবাগান অপরিহার্য। তাই শহর, নগরের বেশিরভাগ ভবনে গড়ে উঠেছে ছাদবাগান। ঘরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে কেউ কেউ ঘরের বারান্দা কিংবা থাকার ঘরে প্রিয় গাছ দিয়ে সাজিয়েছেন। এতে কৃষিতে আগ্রহ বাড়ছে। নিজের বৃক্ষের ফলে মোহিত হয়ে ছাদকৃষিতে ধাবিত হচ্ছে মানুষ। কিন্তু সময়মত পরিচর্যার অভাব ও অসতর্কতায় এমন সৌন্দর্যবর্ধন কাজ বাড়াতে পারে বিপর্যয়। এডিস মশার বংশ বিস্তার হতে পারে এসব বাগানের টবের জমে থাকা পানি থেকে। তাই শুধু নয়, ঘরে ব্যবহারের এয়ার কুলার (এসি) থেকে নিঃসৃত পানি জমে বা ফ্রিজের ট্রে’র পানি থেকেও ঘটতে পারে এমন বিপর্যয়।

নারায়ণগঞ্জ কৃষি বিভাগ সূত্রের খবর জেলায় ছাদবাগান বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছাদবাগানের সংখ্যা ১ হাজার ৩৫টি। সবচেয়ে বেশি ছাদবাগান আছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায়। বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি এলাকায় অনেক আবাসিক ভবন গড়ে উঠেছে। সেসব ভবনের ছাদে ছাদবাগান গড়ে তুলেছেন অনেকে। এ উপজেলায় প্রায় ৭৫০ টি ছাদবাগান রয়েছে। বন্দর উপজেলায় রয়েছে ১০০ ছাদবাগান। সোনারগাঁয়ে ৫০টি, রূপগঞ্জে ৭৫টি এবং আড়াইহাজারে ৬০ টির মত ছাদবাগান রয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ব্লক সুপারভাইজাররা ছাদবাগান কারীদের ডেঙ্গু সম্পর্কে সতর্ক করে থাকেন। তারা নিয়মিত বিভিন্ন ছাদবাগান পরিদর্শন করে বলে থাকেন তিন দিনের বেশি যাতে পানি জমে না থাকে। তিন দিনের বেশি পানি জমলেই বিপদ।

নগরের বিভিন্ন এলাকায় ভবনের ছাদে গড়া বাগান ঘুরে দেখা গেছে, সবুজের সমারোহ এসব ছাদে। ভবন মালিকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে গড়ে তুলেছেন সখের বাগান। পরিপাটি এসব বাগানে দেশি বিদেশি হরেক রকমের ফলজ উদ্ভিদ রয়েছে। টবে লাগানো হয়েছে এসব উদ্ভিদ। কিছুতে ফুল এসেছে, আবার কিছু ফলে পরিপূর্ণ। পরিচর্যার কমতি নেই এসব বাগানে। ছাদবাগানের উপকরণ হিসেবে মাটি, টব, সারসহ বিভিন্ন উপকরণ মজুদ রয়েছে। কিন্তু এতে মজুদ কিছু টবে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা যায়। যা থেকে সৃষ্টি হতে পারে ভয়ানক এডিস মশা। তাছাড়া অনেকে ঘর সাজিয়েছেন বিভিন্ন ছোট প্রজাতির গাছ দিয়ে। এসব গাছে পানি দেওয়ার পরে তা জমে থাকতে দেখা যায়। এতেও রয়ে যাচ্ছে ঝুঁকি।
তবে, ছাদবাগান মালিকরা বলছেন, পরিচর্যার মাঝেও যদি কিছুটা গ্যাপ থেকে যায় তাহলে টবে পানি জমে। এ থেকে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। কিন্তু গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকে না।

এদিকে, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরে এসির ব্যবহারও বেড়েছে। প্রায় প্রতিটি ভবনে এসি দেখা যায়। এর বেশিরভাগ এসির পানি পড়ছে কার্নিশে। অথবা ভবনের ফাঁকা স্থানে। এতেও পানি জমে মশার বংশ বিস্তার হতে পারে। ঘরের ভেতরে থাকা ফ্রিজের ট্রের পানি তো রয়েছেই। এসব বিষয়ে সতর্কতার বিকল্প নেই বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এক চামচ পানি থেকেও এডিস মশার বংশ বিস্তার হতে পারে। সঠিক সময়ে পরিচর্যা না করলে ছাদবাগানের জমানো পানি থেকেও এডিস মশা বংশ বিস্তার করতে পারে। শুকনো পরিবেশে এডিস মশার ডিম ৯ মাস পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। তাছাড়া স্যাঁতস্যাঁতে স্থানেও এই ডিম থাকলে তা স্বচ্ছ পানির সংষ্পর্শে আসলেই এ ডিম থেকে লার্ভা, পিউপা থেকে পরিপূর্ণ মশায় রূপ নেয়। এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগে মাত্র সপ্তাহ থেকে দশ দিন। ব্যক্তি সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়।

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে সংগ্রহীত এডিস মশার এডিস এজিপ্টি এবং এডিস এলবোপিকটাস প্রজাতি দু’টি ডিএনএ বারকোডিং এবং বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে, এসব এডিস মশা ডেঙ্গু রোগের জীবাণু বহন করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্যমতে, এডিস এজিপ্টি মশা স্বল্প পানিতে ডিম দেয় এবং প্রতিবারে শতাধিক ডিম ছাড়ে। এসব ডিমের খোলস শক্ত হওয়ায় অন্তত আট মাস পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। এডিস মশার গড় আয়ু ৪০ দিন। এ সময়ের মধ্যে তারা গড়ে পাঁচ বারের মত ডিম ছাড়ে। এ ডিমগুলো পানিতে ডুবে গেলেই লার্ভা তৈরী হয়। এভাবে চলে তাদের জীবন প্রক্রিয়া। অন্যদিকে এডিস এলবোপিকটাস মশাও ডেঙ্গু রোগের কারণ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। পতঙ্গ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাগানের উপর নির্ভর করে মশা হবে কি, হবে না। যেসব বাগানে পানি জমিয়ে রাখা যায় না। যেমন পেঁপে চাষ করলে এতে পানি জমার কোন উপায় নেই। এসব বাগান থেকে এডিস প্রজননের কোন সুযোগ নেই। তবে যেসব বাগানে পানি জমে থাকে সেসব বাগান থেকে মশার প্রজনন হতে পারে। সঠিক পরিচর্যার অভাবেও মশা মশা হতে পারে। তিন দিন পানি জমে থাকলে মশা হবে। মশা মারার জন্য সামান্য সায়েন্টিফিক জ্ঞান দরকার। না জেনে কীটনাশক ছড়ালে কাজ হবে না।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও